দেবব্রত সরকার, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা হাই কোর্ট ক্লাব নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের বিপুল জয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনার ঝড়। আইনি অঙ্গনের এই নির্বাচন সাধারণত রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বাইরে থাকলেও, এবার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই স্পষ্ট, আদালত-সংলগ্ন মহলেও পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) সোমবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্ট করে এই জয়ের মাহাত্ম্য তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “১০টির মধ্যে ৭টি আসন জেতা শুধুই একটি জয় নয়, এটি ন্যায়, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের প্রতি আইনজীবীদের আস্থার প্রতিফলন।”
কল্লোল মণ্ডল (Kollol Mondal) সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি সহ-সভাপতি হিসেবে জয়ী হয়েছেন অনিন্দ্য বসু (Anindya Basu)। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অরুণ কুমার উপাধ্যায় (Arun Kumar Upadhyay), তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার। সহ-সচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন মধু জানা (Madhu Jana)। অর্থনৈতিক পরিচালনার দায়িত্বে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত বিজিতেশ মুখার্জি (Bijitesh Mukherjee) -এর জয়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কমিটি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ঐশ্বর্য রাজার্শী (Aishwarya Rajarshi) এবং পূজা সোনকার (Puja Sonkar), যারা তরুণ আইনজীবী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আইনজীবীদের ভোটের ফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা ক্লাবের পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবর্তন চান। শমীক ভট্টাচার্য তাঁর পোস্টে লেখেন, “এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়, এটি দুর্নীতি, প্রভাব ও অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের স্পষ্ট বার্তা।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই ফলাফল বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি দাবি করেন, “আইনি অঙ্গনও এখন পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।” তাঁর পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহল থেকে আইনজীবী মহল, সব জায়গাতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় এই ভোটের ফলাফল।
অনেক অভিজ্ঞ আইনজীবীর মতে, বেশ কিছুদিন ধরেই ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় অসংগতি নিয়ে ক্ষোভ জমছিল। বিশেষ করে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে বহু আইনজীবী সোচ্চার হয়েছিলেন। নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত প্যানেলের জয় প্রমাণ করল, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ অবশেষে নির্বাচনের মাধ্যমে ঘটেছে। তরুণ আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, কাজের গতি বাড়ানো, তথ্যপ্রাপ্তির সহজীকরণ, ক্লাবের প্রশাসনিক সংস্কার এগুলো এখন নতুন কমিটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আইনি অঙ্গনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, ক্লাবের কার্যক্রমে অধিক পেশাদারিত্ব এনে দেওয়া, সদস্যদের সুবিধা বাড়ানো, এসবই এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে বড় লক্ষ্য। সভাপতি কল্লোল মণ্ডল নির্বাচনোত্তর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটি আমাদের কাছে দায়িত্বের নির্বাচন। ক্লাবের মর্যাদা বজায় রেখে উন্নয়নের নতুন দিশা দেখানোই আমাদের প্রথম কাজ।” সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার উপাধ্যায় বলেন, “আইনজীবীদের দিনযাপনের সঙ্গে জড়িত বহু জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রোডম্যাপ তৈরি করব।” বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, যেভাবে আইনজীবী সমাজ পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন, এতে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটও প্রভাবিত হবে। তাদের মতে, আদালত ও বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কিত এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি বাড়ছে। ফলে এই নির্বাচন দলের কাছে শুধুই একটি সাংগঠনিক জয় না, এটি মনস্তাত্ত্বিক সাফল্যও।
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যদিও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনি অঙ্গনে বিজেপির এই সাফল্য আগামী দিনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আদালত চত্বরে রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের পরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতেও বড় সিগন্যাল পাঠাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই হাই কোর্টের করিডোরে উৎসবের আবহ। নির্বাচনে জয়ী প্যানেলের তরফে জানানো হয়েছে, তারা দ্রুতই ক্লাবের কার্যক্রমের মধ্যে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করবে। সদস্যদের স্বার্থ ও সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাই কোর্ট ক্লাব নির্বাচনের ফলাফল শুধু একটি বারের ভোট নয়, এটি আদালত-সংলগ্ন সমাজের মনোভাবের পরিবর্তন, সুশাসনের দাবি এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশার প্রতিফলন। যে বার্তা রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই স্পষ্টভাবে পৌঁছে গেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Parliament remark | অধিবেশন শুরুর দ্বারেই মোদীর কড়া বার্তা: ‘সংসদ নাটকের মঞ্চ নয়’, পাল্টা তোপ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর




