সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নকে বড় কাঠামোর দিকে এগিয়ে নিতে ফের স্বদেশী পণ্যের পক্ষে জনসমর্থনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার, ১২৮তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি উৎসবের কেনাকাটায় স্থানীয় শিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান। তাঁর বক্তব্য, “ভোকাল ফর লোকাল শুধু একটি প্রচার নয়, এটি নতুন ভারতের শক্তির প্রতীক।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, সাম্প্রতিক জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময় বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের হাতে যেসব উপহার তিনি তুলে দিয়েছেন, তার প্রতিটিই ভারতের সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের পরিচায়ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টকে তিনি উপহার দিয়েছেন চোল সাম্রাজ্যের শিল্পকলার অনন্য নিদর্শন একটি ব্রোঞ্জের নটরাজ মূর্তি। এটি তামিলনাড়ুর গৌরবময় ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয় রুপোর শিল্পে নির্মিত রাজস্থানের উদয়পুরের সাংস্কৃতিক ঘোড়ার মূর্তি। জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি উপহার দিয়েছেন ভগবান বুদ্ধের রুপোর একটি মূর্তি, যা তেলাঙ্গানার করিমনগরের শিল্পীদের হাতের কারুকার্যের প্রমাণ। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে (Giorgia Meloni) তিনি উপহার দেন করিমনগরের নির্মিত রুপোর একটি ঐতিহ্যবাহী আয়না। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে কেরলের মুন্নারের ক্র্যাফ্টের অনন্য শিল্পকর্ম। মোদীর কথায়, “আমার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের সামনে ভারতীয় শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ পরিচয় তুলে ধরা।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, দেশে উৎসবের ভিড়ে এবার মানুষ যে পরিমাণ স্বদেশী পণ্য কিনেছে তা নিঃসন্দেহে উৎসাহজনক। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ফেস্টিভ সিজনে মানুষ আন্তরিকভাবে ভারতীয় পণ্যের দিকে ঝুঁকেছে। এটা আত্মনির্ভর ভারতের দিশা দেখাচ্ছে। আসন্ন ক্রিসমাসের সময়ও এই চেতনা মনে রাখতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী রবিবারের বক্তব্যে সংবিধান দিবস উপলক্ষ্যে সেন্ট্রাল হলে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের কথাও উল্লেখ করেন। ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি’ উপলক্ষ্যে দেশ জুড়ে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্যাপনকে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক শক্তির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, অযোধ্যার রাম মন্দিরে পতাকা উত্তোলন থেকে শুরু করে কুরুক্ষেত্রে মহাভারত যুদ্ধের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা, সবকিছুই ভারতের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি বলেন, গীতা মহোৎসবে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। এইসব উদ্যোগ ভারতের বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। এছাড়া কাশী তামিল সঙ্গমকে তিনি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর আদর্শের বাস্তব প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের মধ্যে ঐক্য ও বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনই এই উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য।
পর্যটনের প্রসঙ্গে মোদী বলেন, শীতকালীন পর্যটনে ভারতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বহুগুণে। বিশেষত উত্তরাখণ্ডে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তিনি আদি কৈলাসের উদাহরণ টেনে বলেন, দেশের পর্যটন ক্ষেত্র যে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে তা এখন সারা বিশ্ব দেখছে। উল্লেখ্য যে, মোদীর সামগ্রিক বার্তা ছিল ভারতের নিজস্ব পণ্য কেনার অভ্যাসকে আরও শক্তিশালী করা। তাঁর মতে, স্থানীয় ব্যবসায়ী, কারিগর, বয়নশিল্পী, হস্তশিল্পী, সবাইকে সমর্থন করার মধ্য দিয়েই আত্মনির্ভর ভারতকে আরও শক্ত ভিত্তির দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন, উৎসবের মুহূর্তে স্বদেশী পণ্য কেনার ছবি ও বার্তা শেয়ার করে ‘ভোকাল ফর লোকাল’-কে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে। মোদীর বার্তা স্পষ্ট, ভারতের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে হলে দেশবাসীকেই সামনে আসতে হবে। বিশ্বমঞ্চে ভারতকে নতুন উচ্চতায় তুলতে হলে ‘লোকাল’-এর শক্তিকে তিনি জাতীয় শক্তি হিসেবেই দেখছেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mission Sudarshan Chakra | উড়ুপিতে মোদীর কণ্ঠে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ শত্রুর দুঃসাহস দেখালেই ভস্মীভূত করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী



