তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : টানা ব্যর্থতার ধাক্কায় কাঁপছে টিম ইন্ডিয়া। ঘরের মাঠে টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার, একের পর এক সিরিজে চুনকাম, আর ৬৬ বছরে প্রথমবার সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে হার। এই পরিসংখ্যান ভারতীয় ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে জাতীয় দলের হেডকোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) -এর ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবে বিসিসিআই সূত্রের খবর বলছে, প্রথম নজরে যা মনে হচ্ছে, বাস্তবটা ঠিক উল্টো। বোর্ড এখনও পর্যন্ত হেডকোচের ওপর আস্থা হারায়নি, বরং তাঁকে আরও সময় ও সমর্থন দেওয়ার পক্ষেই ঝুঁকছে।
ইডেন গার্ডেন্সের টার্নিং উইকেট হোক বা গুয়াহাটির ব্যালান্সড ‘স্পোর্টিং’ পিচ, দুই ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার ছবি বদলায়নি। ব্যাটিং, বোলিং, কৌশল সবই প্রশ্নের মুখে। ভারতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে যখন সমালোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই গুয়াহাটি টেস্টের শেষে মিডিয়ার প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন কোচ গম্ভীর। তিনি নরম নন, স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এটা সম্পূর্ণ বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের ওপর। আমার নয়। আমার কাছে সবার আগে ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতিই গুরুত্বপূর্ণ। আর ভুলে গেলে চলবে না, আমার কোচিংয়ে আমরা ইংল্যান্ডে মাত্র কয়েক মাস আগেই দুর্দান্ত খেলেছি, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এশিয়া কাপ জিতেছি। আমরা এমন দল যেটা প্রতিনিয়ত শিখছে।” অর্থাৎ তিনি ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে রাজি নন। বোর্ড কর্তাদের বক্তব্যও প্রায় একই সুরে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিসিআই খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। তাঁদের দাবি, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। ফলে এখনই তাঁকে সরানোর প্রশ্নই ওঠে না। বরং ভবিষ্যৎ ভেবে দল নতুন করে গঠন করার জন্য তাঁকে পুরো স্বাধীনতা দিতে প্রস্তুত বোর্ড। বোর্ডের এক কর্তার কথায়, “টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ দলকে আগামী দিনের জন্য নতুন করে গড়ে তুলতে চাইছেন। তাঁর পরিকল্পনাকে সম্মান জানিয়ে আমরা সময় দেব। তিনি যে পথে দলকে এগোতে চান, বোর্ড তাঁর পাশে থাকবে।” অর্থাৎ গম্ভীরই এখনও ভারতীয় ক্রিকেটের কণ্ঠস্বর, এমনটাই স্পষ্ট। সব বিতর্ক, ব্যর্থতা, সমালোচনা সত্ত্বেও কর্তারা মনে করছেন, কোচ এখনও বড় টুর্নামেন্টে ভারতের সাফল্যের মূল কারিগর হতে পারেন। তার ওপর গম্ভীরের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কয়েকটি বড় জয়ের রেকর্ডও বোর্ডকে আশ্বস্ত করেছে।
তবে এটাও পরিষ্কার, বোর্ড চুপ করে নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজ শেষ হতেই গম্ভীরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে বিসিসিআই। জানা যাচ্ছে, সেই আলোচনার আসল বিষয় হবে টেস্ট দলের দুর্বলতা, কৌশলগত ব্যর্থতা এবং আগামী দিনের সাজানো টেস্ট কাঠামো। ব্যাটারদের টেকনিক থেকে শুরু করে বোলারদের ব্যবহার, এমনকি বিশ্রাম-পরিকল্পনা পর্যন্ত, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে। গম্ভীরের পরামর্শের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই বৈঠকই হতে পারে গম্ভীরের কোচিং অধ্যায়ের মোড় ঘোরানোর জায়গা। যদি বোর্ড গম্ভীরের রোডম্যাপকে অনুমোদন করে, তবে তিনি আরও দীর্ঘ সময় পাবেন নিজের মতো করে দল তৈরির জন্য। অন্যদিকে, যদি কৌশলের বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়, তবে গম্ভীরের উপর চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মনোভাবও বিভক্ত। একদল মনে করেন, নতুন স্কোয়াড, পরিবর্তিত ফর্ম্যাট এবং তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে সময় লাগাই স্বাভাবিক। অন্যদল মনে করছেন, ভারতের মতো ক্রিকেট পরাশক্তির জন্য এত ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা চাইছেন দ্রুত কৌশলগত পরিবর্তন এবং দায়বদ্ধতা। তবে সব মিলিয়ে বোর্ডের আস্থা এখনও গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) উপর টগবগে। হাল ছাড়ার কোনও ইঙ্গিতই নেই। বরং তাঁকে ঘিরেই তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতের ভারতীয় দলের রূপরেখা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sachin Tendulkar on Dhoni batting order | শচীনের বুদ্ধিতেই বদলেছিল ২০১১-র ফাইনাল, ধোনি-যুবরাজের ব্যাটিং অর্ডার পাল্টানোর নেপথ্য কাহিনি




