সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলে তাঁরা শুধু সতীর্থই নন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সম্পর্কের গভীরতা আরও একবার স্পষ্ট হল টিম ইন্ডিয়ার দুই তারকা স্মৃতি মন্ধানা ও জেমিমা রডরিগেজের আচরণে। বিয়ের আগের রাতে যে অবিশ্বাস্য ধাক্কায় মনের ঘর ভেঙে গেল স্মৃতির, তাতেই মানসিকভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়েছেন ভারতীয় ওপেনার। আর সেই ধস নামা মানসিক অবস্থায় বন্ধুকে একা ফেলে না রেখে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ থেকে ছুটি নিয়ে দেশে রয়ে গেলেন জেমিমা। ক্রিকেট বিশ্বে ইতিমধ্যেই প্রশংসার জোয়ার, বন্ধুত্বের এমন উদাহরণ সত্যিই বিরল।

গত রবিবারই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল স্মৃতি মন্ধানার (Smriti Mandhana)। বিয়ের সাজঘর প্রস্তুত, সাজসজ্জা শেষ, পরিবার-পরিজনের আনন্দে সোশাল মিডিয়াও সরগরম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল মুহূর্তে। আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হন স্মৃতির বাবা শ্রীনিবাস মন্ধানা (Srinivas Mandhana)। অ্যাম্বুল্যান্সে সাংলির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। এর মধ্যে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন পাত্র পলাশ। তাঁর শরীর খারাপও বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার অন্যতম সরকারি কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে গল্পটা যেন আরও জটিল। হঠাৎ করেই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করে পলাশ ও অপর এক মহিলার মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ চ্যাট। তাঁদের কথোপকথনের ভাষা ও ভঙ্গিতে অনেকে আন্দাজ করছেন, কোনও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতিই কি বিয়ে থমকে যাওয়ার প্রকৃত কারণ? সমালোচনার ঝড়ের মাঝে স্মৃতির ফোন বন্ধ, সোশাল মিডিয়ার সব পোস্টও মুছে ফেলেছেন তিনি। পরিবারও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পরিস্থিতি যে তাঁকে গভীর আঘাত করেছে, তা পরিষ্কার তাঁর নীরবতায়।
ঠিক এই কঠিন সময়েই সামনে এলেন জেমিমা রডরিগেজ (Jemimah Rodrigues)। তিনি তখন অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগে তাঁর দল হোবার্ট হ্যারিকেনস (Hobart Hurricanes) -এর হয়ে খেলছেন। কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে স্মৃতির বিয়েতে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু বান্ধবীর বিধ্বস্ত মানসিক অবস্থা দেখে তাঁকে একা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না। হোবার্টকে জানিয়ে দিলেন, তিনি আর ফিরছেন না। পুরো বিগ ব্যাশের বাকি অংশেই খেলবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্ত দলও সম্মান করেছে এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ছুটি দিয়েছে। যদিও এতে আর্থিক ক্ষতি হবে জেমিমার, তবু বন্ধুর পাশে থাকার সিদ্ধান্তেই অটল ক্রিকেটার। জেমিমার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, “স্মৃতি এখন খুব ভেঙে পড়েছে। এই মুহূর্তে তাঁর একা থাকা উচিত নয়। জেমি তাই নিজের সব কাজ বাদ দিয়ে বন্ধুর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” বন্ধুত্বের এমন নিঃস্বার্থ রূপ ক্রিকেটমহলকেও আপ্লুত করেছে।
এদিকে কিছুটা স্বস্তির খবর, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন স্মৃতির বাবা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদযন্ত্র বিপন্মুক্ত এবং কোনও ব্লকেজ পাওয়া যায়নি। পলাশও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবুও মন্ধানা পরিবারের মানসিক অস্থিরতা কাটেনি। বিয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এখনো কেউ কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করছে না।ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, স্মৃতি যে শুধু বাবার অসুস্থতায় নয়, প্রেমিকের আচরণে মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন, এমন ইঙ্গিতও স্পষ্ট। পলাশের ভাইরাল চ্যাটই এখন জনমনে প্রশ্ন তুলছে—এই সম্পর্ক কি আর আগের মতো থাকবে? বিয়ে আদৌ হবে কি? সোশাল মিডিয়া, ফ্যান ক্লাব, ক্রিকেটপাড়া, সব জায়গাতেই আলোচনার কেন্দ্র এখন স্মৃতি-জেমিমার বন্ধুত্ব। ব্যক্তিগত জীবনে এমন ভেঙে পড়া অবস্থায় জেমিমার পাশে থাকা নিঃসন্দেহে মানুষ হিসেবে তাঁর উচ্চতাকেই প্রমাণ করে। ক্রিকেট মাঠে তাঁরা ভরসার সঙ্গী, আর জীবনের এই কঠিন মুহূর্তেও সেই সম্পর্ক যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন: SRK, Shah Rukh Khan | হোটেল রুমে সন্তানদের জড়িয়ে কাঁদতেন শাহরুখ, আইপিএল ২০১৪ -এর অন্ধকার দিনগুলোর স্মৃতি উজাড় করলেন বলিউড বাদশাহ




