স্নিগ্ধা বসু ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) যাঁকে কোটি মানুষ শক্তি, সাফল্য, আত্মবিশ্বাসের প্রতীক মনে করেন, তিনিও জীবনের এক কঠিন সময়ে ভেঙে পড়েছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে রাত কেটেছে তাঁর। আর সেই সব রাতের সাক্ষী ছিল তাঁর দুই সন্তান। সেই হতাশা, সেই একাকিত্ব, সেই হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে এবার আবারও বললেন তিনি। প্রসঙ্গ, ২০১৪ সালের আইপিএল। আবু ধাবিতে ম্যাচ পরাজয়ের পরাজয়, এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ‘কেকেআর’ -এর মালিক শাহরুখ। শাহরুখ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আইপিএল ২০১৪ -তে আবু ধাবিতে যখন প্রথম কয়েকটি ম্যাচে পরপর পরাজয় হচ্ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders / KKR), তখন তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, “২০১৪ সালে আবু ধাবিতে পরপর সব কয়টা ম্যাচেই হেরে যাচ্ছিলাম আমরা। আমার মনে আছে, সন্তানদের সঙ্গে গিয়ে বসে থাকতাম। আর তারপর হোটেল রুমে একা একা ওদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতাম। আবার হেরে গেলাম… কী যে দুঃখ হতো।”
বলিউডে কোটি মানুষের আদর্শ এই মানুষের জীবনে এমন মুহূর্তও এসেছিল যখন ‘কিছুই ঠিক হচ্ছে না’ এমন অনুভূতি তাঁকে ভিতর থেকে তছনছ করে দিচ্ছিল। কিন্তু জীবন যেমন সুখ-দুঃখের দোলাচল, তেমনই সেই সিজনে পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে হঠাৎই। টুর্নামেন্ট ভারতে ফেরার পর একাধিক ম্যাচে দুর্দান্ত কামব্যাক করে কেকেআর। আর শেষ পর্যন্ত সেই বছর আইপিএলের শিরোপাও জেতে দলটি। শাহরুখের কথায়, “সবাই হঠাৎ করেই ভাল খেলতে শুরু করে। জীবন আসলে এমনটাই। আমি তো আমার কেকেআরের ম্যাচগুলো থেকেই শিক্ষা নিই।” তবে জয়ের আনন্দ থাকলেও হারের ব্যথা আজও তাঁকে নাড়িয়ে দেয়। কিং খানের অকপট স্বীকারোক্তি, “যাই বলি না কেন, টিম হারলে খুব খারাপ লাগে। যতই জ্ঞান দিই যে খেলায় জিত-হার থাকবে, তবুও যখন হেরে যাই, খুবই কষ্ট হয়।”
শুধু ক্রিকেট নয়- কাজের ক্ষেত্রেও সেই সময়টা খুব একটা ভাল যাচ্ছিল না শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) -এর। ২০১৮ সালে তাঁর ছবি ‘জিরো’ (Zero) মুখ থুবড়ে পড়ার পর শাহরুখ প্রায় ভেঙে পড়েছিলেন। ছবিতে ক্যাটরিনা কাইফ (Katrina Kaif) ও অনুষ্কা শর্মা (Anushka Sharma) -এর মতো বড় তারকা থাকা সত্ত্বেও ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতা এতটাই আঘাত করেছিল যে শাহরুখ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনি আর সিনেমা করবেন না, রেস্তোরাঁর ব্যবসায় মন দেবেন।
দর্শক-সমালোচকের কঠোর সমালোচনা যেন একসময় তাঁকে বিশ্বাস করিয়ে দিচ্ছিল, তাঁর যুগ শেষ। চারদিকে প্রশ্ন, ‘শাহরুখ কি আর ফিরতে পারবেন?’
কিন্তু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, শাহরুখ মানে না, ফেরা। হাল না ছাড়া। এক সময়ের দিল্লির সাধারণ ছেলে, যিনি নিজের কাঁধে ভর করে গোটা দুনিয়া জয় করেছেন, তিনি থেমে থাকার মানুষ নন।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে ‘পাঠান’ (Pathaan) দিয়ে কিং খানের মন-বলের প্রত্যাবর্তন ঘটল ঝড়ের গতিতে। সিনেমাটি রেকর্ড ভেঙে দিয়ে প্রমাণ করে দেয় শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) -এর স্টারডম, তাঁর উপস্থিতি, তাঁর দক্ষতা, এগুলো সময়ের সঙ্গে আরও উজ্জ্বল হয়, মুছে যায় না। এরপর আরও একাধিক হিট ছবি উপহার দেন তিনি, এবং বর্তমানে ব্যস্ত তাঁর আগামী প্রোজেক্ট ‘কিং’ (King) -এর কাজে। উল্লেখ্য যে, অবসাদ, ব্যর্থতা, একাকিত্ব সব কিছুই জীবনের অংশ। আর শাহরুখের কথায়, “জীবন কখনও একই গতিতে চলে না।” একসময়ের হারের কান্না আজ সাফল্যের মশাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর এসব অভিজ্ঞতা যেন বলে, যে মানুষের চোখে জল আছে, তার হাতেই সবচেয়ে বড় জয় লেখা থাকে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan viral interview, Bollywood inspirational story | আচমকা শাহরুখের গালে চড়! কোন ভুলে প্রকাশ্যে অপমানিত হতে হয়েছিল কিং খানকে?


