সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেজিং : চিনের (China) ইউহান প্রদেশে (Yunnan Province) ঘটে গেল মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যস্ত রেলকর্মীদের ওপর দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসে একটি ট্রেন। মুহূর্তের মধ্যে পিষ্ট হন একাধিক কর্মী। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জন রেলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুইজন। গুরুতর জখম ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা আপাতত চিকিৎসাধীন।চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কুনমিং (Kunming) -এর লুওয়াং টাউন স্টেশন এলাকায় রেললাইনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছিল। ভূমিকম্পের তীব্রতা পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপিত সিসমিক যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছিলেন রেল প্রযুক্তিবিদরা। ঠিক সেই সময় ট্রেনটি স্টেশনের দিকে এগিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রেনের গতি তখন কম থাকলেও অকস্মাৎ লাইনে থাকা কর্মীদের সামনে একদম কাছাকাছি পৌঁছে যায় ইঞ্জিনটি। সরে দাঁড়ানোর আগেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীরা চাপা পড়ে প্রাণ হারান।
এই ঘটনা সম্পর্কে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সকালটা খুব শান্ত ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে দেখি রেললাইনে বিশৃঙ্খলা, মানুষ ছুটছে, চিৎকার চলছে। পরে জানতে পারি কয়েকজন কর্মীকে ট্রেন পিষে দিয়েছে।” ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে রেল আধিকারিকরা। চিন সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ঠিক কী কারণে ট্রেনটি কর্মীদের উপস্থিতি সত্ত্বেও লাইনে ঢুকে পড়ল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রাথমিকভাবে অনুমান, চালকের কাছে হয়তো সিগন্যাল সঠিকভাবে পৌঁছয়নি। আবার অনেকেই মনে করছেন, কাজ চলাকালীন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে রেল দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনও চাপে পড়েছে। একজন রেল আধিকারিক বলেন, “স্টেশনে প্রবেশের আগে ট্রেনের গতি কম ছিল। তবে এত বড় দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ক’য়েক ঘণ্টা রেল পরিষেবা ব্যাহত হলেও পরে লাইনে স্বাভাবিক চলাচল ফিরে আসে।
দুর্ঘটনা-পরবর্তী মুহূর্তে রেল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে বিশাল বেষ্টনী তৈরি করে। তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেছে এবং চালকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে। যে সিসমিক যন্ত্রের পরীক্ষা চলছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সিগনালিং সিস্টেমের সমস্যাই কি এই দুর্ঘটনার মূল কারণ? নাকি মানবিক ভুল? ঘিরে রয়েছে বহু প্রশ্ন।একজন চীনা পরিবহন বিশ্লেষক জানান, “রেললাইনে কোনও পরীক্ষা চললে সেই অঞ্চলকে সাধারণত লাল সংকেত দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হয়। কিন্তু যদি চালক সেই সংকেত দেখতে না পান বা প্রযুক্তিগত সমস্যা ঘটে থাকে, তবে এমন দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। যদিও ১১ জন কর্মীর মৃত্যু অত্যন্ত ভয়াবহ, এটা বড় ধরনের সুরক্ষা ব্যর্থতা।”
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় কীভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। চীনের রেলপথ বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পরিবহন ব্যবস্থা। এই দুর্ঘটনা সেই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ফলে তদন্তের ফল কী আসে, তা এখন সবার নজরেই। অনেকেই বলছেন, এই ঘটনা রেল সুরক্ষা প্রটোকলকে নতুনভাবে সাজানোর পথে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, মৃত কর্মীদের পরিবারে শোক নেমে এসেছে। যাঁরা প্রতিদিন সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করেন, সেই কর্মীরাই আজ বিপদের মুখে।
এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষক মনে করছেন, যেহেতু রেললাইনে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের পরীক্ষা চলছিল, তাই নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল।চিনের রেল দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। কিন্তু আপাতত যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, এই দুর্ঘটনার আসল কারণ আসলে কী?
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Li Bingdi father China, Jilin University food stall | মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে ৯০০ কিমি পথ পেরিয়ে চাকরি ছেড়ে ফুডস্টল খুললেন চিনা বাবা


