শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতের কর্মক্ষেত্র কি এখন নতুন প্রেমের ঠিকানা হয়ে উঠছে? সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষার তথ্য তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বহু বছর ধরেই অফিস রোম্যান্স (Office Romance) নিয়ে নানা আলোচনা চলে, কেউ বলে সম্পর্কের স্বাভাবিক বিকাশ, কেউ আবার মনে করেন বিপদে ফেলা সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত। কিন্তু ডেটিং প্ল্যাটফর্ম অ্যাশলে ম্যাডিসন (Ashley Madison) এবং গবেষণা সংস্থা ইউগভ (YouGov) -এর যৌথ সমীক্ষা চমকে দিয়েছে বিশ্বকে। কারণ, কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্ক স্বীকারের ক্ষেত্রে ভারতের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়!
১১টি দেশের প্রায় ১৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে করা হয় এই সমীক্ষা। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, জার্মানি, ভারত, ইতালি, মেক্সিকো, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও যুক্তরাজ্যের (United Kingdom) মানুষদের মতামতের ভিত্তিতে উঠে এসেছে প্রেম, সম্পর্ক, সতর্কতা, এবং কর্মজীবনের সূক্ষ্ম সমীকরণের ছবি- যা কোনওভাবেই সাধারণ নয়।সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্ক স্বীকারে ভারতীয় কর্মীরা অত্যন্ত খোলামেলা। মেক্সিকো যেখানে শীর্ষে, সেখানে প্রায় ৪৩% মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছিলেন বা এখনও করছেন। ভারতের ক্ষেত্রেই এই সংখ্যা ৪০%, যা আমেরিকা (United States), ব্রিটেন (United Kingdom) এবং কানাডার মতো দেশগুলির গড় ৩০% -এর তুলনায় অনেকটাই বেশি।
একজন ভারতীয় অংশগ্রহণকারী সমীক্ষায় মন্তব্য করেছেন, “অফিসে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করতে করতে স্বাভাবিকভাবেই একটি বন্ধন তৈরি হয়। অনেকে তার মধ্যেই খুঁজে পান সঙ্গী।” এই তথ্যই প্রমাণ করে, কর্মক্ষেত্র এখন শুধুমাত্র কাজের জায়গা নয়, বরং সম্পর্ক গড়ে ওঠারও ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। পুরুষ ও মহিলাদের ধারণায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। যেখানে পুরুষদের ৫১% জানিয়েছেন যে তাঁরা সহকর্মীর সঙ্গে ডেট করেছেন বা করতে ইচ্ছুক, সেখানে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩৬%। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের পেশাগত সতর্কতা তাঁদের সিদ্ধান্তকে বেশি প্রভাবিত করে। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২৯% মহিলা মনে করেন, অফিস রোম্যান্স তাঁদের কেরিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, পুরুষদের ৩০% মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা তাঁদেরকে সমস্যায় ফেলতে পারে, যা আবার মহিলা কর্মীদের তুলনায় খানিকটা ভিন্নমনস্কতার ইঙ্গিত দেয়।এই সমীক্ষার আরেকটি উজ্জ্বল দিক হল নতুন প্রজন্মের সতর্কতা।
১৮-২৪ বছর বয়সী তরুণ কর্মীদের প্রায় ৩৪% জানিয়েছেন যে, কর্মক্ষেত্রে প্রেম তাঁদের ভবিষ্যৎ কেরিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে- তাই তাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই ধরনের সম্পর্ক থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চান। অফিস রোম্যান্সের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিশেষজ্ঞদের চোখে সমাজে ‘নন-ট্র্যাডিশনাল রিলেশনশিপ’ (Non-traditional Relationships) যেমন ওপেন ম্যারেজ (Open Marriage) বা বৈচিত্র্যময় সম্পর্কের ধরণের প্রতি উন্মুক্ততার প্রতিচ্ছবি। একজন সামাজিক আচরণ বিশ্লেষক এই সমীক্ষা নিয়ে মন্তব্য করেছেন, “নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং আবেগকে নতুনভাবে দেখছে। তাই কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক তৈরি হওয়া তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক নয়।” তবে, বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে সতর্কও করেছেন। অফিস প্রেম যতই স্বাভাবিক বা সাধারণ হোক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সীমারেখা স্পষ্ট রেখে চলা অত্যন্ত জরুরি। এর ব্যত্যয় ঘটলে শুধু সম্পর্কই নয়, ঝুঁকিতে পড়তে পারে কেরিয়ারও।
আজকের কর্মসংস্কৃতিতে যেখানে একসঙ্গে কাজ করা, প্রোজেক্ট প্রেশার, দীর্ঘ সময় পাশাপাশি থাকা সবটাই একটা সংযোগ তৈরি করে, সেখানে অফিস রোম্যান্স বাড়বেই। কিন্তু তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়, এই প্রেম কর্মজীবনকে সমৃদ্ধ করবে, না কি ঝুঁকির মুখে ফেলবে? সমীক্ষার ফল বলছে, উত্তর নির্ভর করছে ব্যক্তির ওপর, তাঁর সতর্কতা, মূল্যবোধ এবং কাজের পরিবেশের ওপর। তবে এতটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অফিস আর শুধু পেশার ঠিকানা নয়, অনেকের জীবনে এটি প্রেমেরও নতুন গন্তব্য।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : bridal skincare routine | বিয়ের আগে ত্বকে জেল্লা আনার ঘরোয়া উপায় : ব্রাইডাল স্কিন কেয়ার গাইড




