সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : ভারতীয় ক্রিকেটে ফের অর্থের ঝড়। মাঠের বাইরেও বাড়ছে বিসিসিআইয়ের (BCCI) আয়ের গ্রাফ। নতুন স্পনসরশিপের খবরে এবার আরও একধাপ সমৃদ্ধ হতে চলেছে ক্রিকেট বোর্ডের কোষাগার। প্রায় ৪৫ কোটি টাকার নতুন চুক্তিতে এবার বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দেশের শীর্ষ রং প্রস্তুতকারক সংস্থা, এশিয়ান পেইন্টস (Asian Paints)। ‘অফিশিয়াল কালার পার্টনার’ হিসেবে এই বিশাল কর্পোরেট সংস্থার প্রবেশ নিঃসন্দেহে বিসিসিআইয়ের ব্যবসায়িক শক্তিকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে।
সূত্রের খবর, আগামী তিন বছর মেয়াদে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এশিয়ান পেইন্টস। এই সময় ভারতের মাটিতে পুরুষ দল, মহিলা দল এবং ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মিলিয়ে প্রায় ১১০টি ম্যাচে এই চুক্তি কার্যকর হবে। বিসিসিআইয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ভারতীয় ক্রিকেট আজ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্র্যান্ড। ফলে শীর্ষ সংস্থাগুলোর আগ্রহ বাড়ছে, এবং এশিয়ান পেইন্টসের যোগদান সেই বিশ্বাসকেই আরও দৃঢ় করছে।”
এটি এমন এক সময়, যখন বোর্ড জার্সি স্পনসর ছাড়াও অন্যান্য স্পনসরশিপ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি আয় করছে। রঙের ব্র্যান্ডটির নতুন চুক্তি যুক্ত হওয়ায় ক্রিকেট বোর্ডের মোট আয় দাঁড়াল ১৮০ কোটির কাছাকাছি। বর্তমানে ভারতীয় দলের জার্সির প্রধান স্পনসর অ্যাপোলো টায়ার্স (Apollo Tyres)। অনলাইন গেমিং সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ায় অ্যাপোলো এগিয়ে আসে এবং বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বহু-বছরের দীর্ঘমেয়াদের চুক্তি করে। এই সংস্থা বিসিসিআইকে ম্যাচ-পিছু ৪.৫ কোটি টাকা দিচ্ছে, যা আগের স্পনসর ড্রিম ১১ (Dream11) -এর ম্যাচ-পিছু ৪ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। এই নতুন চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং এ সময়কালে মোট ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কথা ভারতীয় দলের।
অনলাইন গেমিং মার্কেটের নিয়মনীতি বদলে যাওয়ার পরই স্পনসরশিপ কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। ‘দ্য প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল’ পাশ হওয়ার পর ড্রিম ১১ (Dream11) ও মাই ১১ সার্কেল (My11Circle) -এর মতো সংস্থাগুলির স্পনসরশিপ চুক্তি আইনি জটিলতায় পড়ে যায়। ড্রিম ১১-এর সঙ্গে বিসিসিআইয়ের আগের চুক্তি ছিল তিন বছরে ৩৫৮ কোটি টাকার, এবং মাই ১১ সার্কেল ছিল পাঁচ বছরের জন্য অ্যাসোসিয়েট স্পনসর। কিন্তু নতুন আইনের ফলে তাদের বৈধতা শেষ হয়ে যাওয়ায় বোর্ডকে নতুন ব্র্যান্ড খুঁজতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাপোলো টায়ার্স, ক্যাম্পা (Campa), এসবিআই লাইফ (SBI Life) এবং অ্যাটমবার্গ (Atomberg) -এর মতো বড় সংস্থাগুলি এগিয়ে আসে। এই কোম্পানিগুলি বিসিসিআইকে যথাক্রমে ৪৮ কোটি, ৪৭ কোটি এবং ৪১ কোটি টাকা দিচ্ছে। এবার এশিয়ান পেইন্টসের ৪৫ কোটি যোগ হওয়ায় বোর্ডের ‘নন-জার্সি স্পনসরশিপ’ বিভাগ ক্রমেই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের বিশ্বজনীন জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে বিরাট কোহলি (Virat Kohli), রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), শুভমন গিল (Shubman Gill) -এর মতো তারকা ক্রিকেটারদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বিসিসিআইকে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত করেছে। ফলে বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলি ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী, কারণ ক্রিকেট ভারতবর্ষে শুধু খেলা নয়- এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ, যার সামনে বিজ্ঞাপনী বাজারও মাথা নত করে। এশিয়ান পেইন্টসের এই চুক্তি দেখিয়ে দিল, ভারতের ক্রিকেট এখন শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সাফল্যের প্রতীক নয়, বরং কর্পোরেট দুনিয়ার কাছে একটি ‘সোনার খনি’। ভবিষ্যতেও বিসিসিআইয়ের স্পনসর তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma ICC ranking, Rohit Sharma No.1 ODI batsman | ৩৮ বছর বয়সেও বিশ্ব এক নম্বর! শুভমনকে পিছনে ফেলে নতুন নজির গড়লেন রোহিত শর্মা




