Canada has more lakes than the rest of the world combined | লেকের দেশ কানাডা : পৃথিবীর জলের আয়নায় প্রতিফলিত নীরব বিস্ময়

SHARE:

কানাডার লেকগুলো শুধু ভূগোলের অংশই নয়, জীবনের ধারাও বটে। এই হ্রদগুলোই দেশটির পানীয়জল, সেচ, জলবিদ্যুৎ এবং কৃষি নির্ভরতার মূল উৎস। উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত গ্রেট লেকস বেসিন (Great Lakes Basin), যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সম্পদ- ধারণ করছে বিশ্বের প্রায় ১৮ শতাংশ মিঠা জলের ভাণ্ডার। লেকের তীরে গড়ে উঠেছে হাজারো শহর, শিল্প, এবং সংস্কৃতির ধারা। কানাডার আদিবাসী (Indigenous) জনগোষ্ঠীর কাছে এই লেকগুলো কেবল জলাশয় নয়, এগুলো তাদের আত্মপরিচয়ের অংশ।

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বিশ্বের মানচিত্রে কানাডা (Canada) এক বিশাল জলরাশি। পৃথিবীর বুকে যত লেক (Lake) আছে, তার অর্ধেকেরও বেশি শুধু এই একটি দেশের বুকেই ছড়িয়ে আছে। এমন এক দেশ, যার আকাশে উড়লে ঘন্টার পর ঘন্টা শুধুই জল আর বনের নীলচে-সবুজ ছায়া চোখে পড়ে। শহর, জনবসতি বা কংক্রিটের দৃশ্য নয়। পৃথিবীর বাকি সব দেশের চেয়ে একমাত্র কানাডাতেই আছে সবচেয়ে বেশি হ্রদ। এমনকী কিছু বিজ্ঞানী বলেন, এই দেশটির লেকের সংখ্যা পৃথিবীর বাকি সব দেশের সম্মিলিত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডায় রয়েছে অন্তত ৫৬৩টি হ্রদ যার আয়তন ১০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি, এবং ছোট-বড় সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটি কয়েক মিলিয়নে পৌঁছেছে। পৃথিবীর মোট লেকের প্রায় ৬০ শতাংশই এই দেশের সীমানার ভেতরে। কানাডার (Canada) ভূপ্রকৃতি মূলত গড়ে উঠেছে প্রাচীন হিমবাহ (Glacier) আর শিলাময় ঢালে। কোটি কোটি বছর আগে যখন মহাদেশজুড়ে বরফের চাদর নেমে এসেছিল, তখন সেই বিশাল বরফমণ্ডলী মাটির গায়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ বাইশ-তম কিস্তি)

বরফ গললে সেই গর্তগুলোতে জমে যায় জল, তৈরি হয় লেকের (Lake) শরীর। এই বরফের যুগের উত্তরাধিকার এখনো বহন করছে কানাডার কানাডিয়ান শিল্ড (Canadian Shield) প্রাচীন ভূভাগ, যা শত শত হ্রদের আশ্রয়স্থল। এখানকার ভূপ্রকৃতি এতটাই জটিল আর বৈচিত্র্যময় যে, ছোট বড় লেকগুলো ছড়িয়ে আছে উত্তর প্রান্তের বরফাচ্ছন্ন সমভূমি থেকে শুরু করে দক্ষিণের বনভূমি পর্যন্ত।কানাডার উত্তরাঞ্চলের কিছু লেক এতই দুর্গম ও বরফে আচ্ছন্ন যে, উপগ্রহ চিত্র আবিষ্কারের আগে পৃথিবী তাদের অস্তিত্বই জানত না। কিছু এলাকায় প্রতি ১০০ কিলোমিটারে গড়ে ৩০টিরও বেশি লেক রয়েছে-এ যেন প্রকৃতির নীলাভ আয়নার শহর।

কানাডার লেকগুলো শুধু ভূগোলের অংশই নয়, জীবনের ধারাও বটে। এই হ্রদগুলোই দেশটির পানীয়জল, সেচ, জলবিদ্যুৎ এবং কৃষি নির্ভরতার মূল উৎস। উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত গ্রেট লেকস বেসিন (Great Lakes Basin), যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সম্পদ- ধারণ করছে বিশ্বের প্রায় ১৮ শতাংশ মিঠা জলের ভাণ্ডার। লেকের তীরে গড়ে উঠেছে হাজারো শহর, শিল্প, এবং সংস্কৃতির ধারা। কানাডার আদিবাসী (Indigenous) জনগোষ্ঠীর কাছে এই লেকগুলো কেবল জলাশয় নয়, এগুলো তাদের আত্মপরিচয়ের অংশ।
ছবি : সংগৃহীত

কানাডার লেকগুলো শুধু ভূগোলের অংশই নয়, জীবনের ধারাও বটে। এই হ্রদগুলোই দেশটির পানীয়জল, সেচ, জলবিদ্যুৎ এবং কৃষি নির্ভরতার মূল উৎস। উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত গ্রেট লেকস বেসিন (Great Lakes Basin), যা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সম্পদ- ধারণ করছে বিশ্বের প্রায় ১৮ শতাংশ মিঠা জলের ভাণ্ডার। লেকের তীরে গড়ে উঠেছে হাজারো শহর, শিল্প, এবং সংস্কৃতির ধারা। কানাডার আদিবাসী (Indigenous) জনগোষ্ঠীর কাছে এই লেকগুলো কেবল জলাশয় নয়, এগুলো তাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। হ্রদের জল মানে জীবনের সঙ্গে এক আধ্যাত্মিক সংযোগ, যা তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রক্ষা করেছে। একজন কানাডিয়ান পরিবেশ গবেষক, ড. অ্যান্ড্রু মিচেল (Dr. Andrew Mitchell) বলেন, “Canada’s lakes are not just water bodies—they are living stories. Each one tells a tale of ice, time, and resilience.” তাঁর মতে, কানাডার লেক মানে শুধু প্রকৃতি নয়, এটি এক জাতির চেতনার প্রতিচ্ছবি।

তবে এই হ্রদরাজ্যও আজ হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলছে দ্রুত, ফলে জলের স্তর অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। শিল্পবর্জ্য, খনিজ আহরণ, আর নগরায়ণের প্রভাবে লেকের জল অনেক স্থানে দূষিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণতা বাড়লে হ্রদের পরিবেশও বদলে যাচ্ছে, মাছের প্রজাতি কমছে, জলজ জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। কানাডার পরিবেশমন্ত্রী স্টিভেন গুইলবোল্ট (Steven Guilbeault) তাঁর একটি বক্তব্যে বলেন, “We have inherited the world’s largest freshwater system- it’s our duty to protect it for generations to come.”

কানাডার প্রতিটি লেক যেন একটি আয়না, যেখানে প্রতিফলিত হয় আকাশ, ঋতু আর মানুষের নিঃশব্দ জীবন। বরফে মোড়া গ্রেট বেয়ার লেক (Great Bear Lake) -এর নীরবতা যেমন প্রকৃতির ধ্যান, তেমনি গ্রীষ্মে লেক লুইস (Lake Louise) -এর ঝলমলে জলে দেখা যায় রঙিন স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।কানাডা শুধু পাহাড়, বন আর তুষারের দেশ নয়।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Japan Visit | মোদীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

এটা সেই দেশ, যেখানে প্রতিটি লেক এক একটি কবিতা, এক একটি নিঃশব্দ গল্প। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনও অনেক নতুন লেক সৃষ্টি হচ্ছে বরফ গলে গলে। যেন প্রকৃতি এখনো তার ক্যানভাসে নতুন জলছবি আঁকছে- চিরন্তন, অনন্ত। এ কারণেই কানাডা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর থেকে আলাদা। যখন অন্য দেশগুলো তাদের ইতিহাসকে স্মৃতিস্তম্ভে বাঁধে, কানাডা বাঁধে জলে, প্রতিটি লেকেই সে রাখে নিজের প্রতিফলন, নিজের আত্মা।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Narendra Modi G20 Johannesburg Visit |  জোহানেসবার্গে পা রাখতেই বিশ্বজনীন বার্তা, প্রধানমন্ত্রী মোদী বললেন, ‘মানবতার ভবিষ্যৎ রক্ষাই G20 -এর মূল লক্ষ্য’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন