Li Bingdi father China, Jilin University food stall | মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে ৯০০ কিমি পথ পেরিয়ে চাকরি ছেড়ে ফুডস্টল খুললেন চিনা বাবা

SHARE:

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন লি বিংদির বাবার ছবিতে ভরে গিয়েছে। তাঁর পরিশ্রমী মুখ, চোখের কোণে মৃদু হাসি, আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ের মুখে তৃপ্তির হাসি, এই এক ফ্রেমেই বন্দী হয়ে গিয়েছে এক জীবনের অর্থ।এই ঘটনার পর চিনে (China) ও বিশ্বের নানা প্রান্তে মানুষ নতুন করে ভাবছেন, “একজন বাবা কতটা ভালবাসতে পারেন তাঁর মেয়েকে।”

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেজিং : চিন (China) এবার সাক্ষী হল এক অনন্য বাবা-মেয়ের গল্পের। যেখানে বাবার ভালবাসা কেবল শব্দে নয়, জীবনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। মেয়ের হস্টেলের খাবার অখাদ্য শুনে কষ্ট পেয়েছিলেন বাবা। সেই কষ্টই তাঁকে এমন এক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করল যা এখন গোটা পৃথিবীর মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। চাকরি ছাড়লেন, ৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাবারের দোকান খুললেন। এই বাবার নাম এখন গোটা চিনে আলোচনার কেন্দ্রে, “লি বিংদির (Li Bingdi) বাবা” নামে তাঁকে চেনে সবাই। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই লি বিংদির মা ব্লাড ক্যানসারে মারা যান। পরিবারের একমাত্র অবলম্বন এখন লি ও তাঁর বাবা। মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন বাবা। লি ভর্তি হন জিলিন নর্মাল ইউনিভার্সিটিতে (Jilin Normal University)। ইউনিভার্সিটিটি চিনের (China) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জিলিন প্রদেশের সিপিং এলাকায় অবস্থিত। অন্যদিকে, বাবা তখন কাজ করতেন তিয়ানজিন (Tianjin) -এর একটি বারবিকিউ রেস্তোরাঁয়।

আরও পড়ুন : China Agro Terrorism | চিনা কৃষি সন্ত্রাসে বিশ্ব আতঙ্ক: ‘করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে’, সতর্ক বার্তা মার্কিন বিশেষজ্ঞদের

প্রথম বছর থেকেই মেয়ের একটাই অভিযোগ ছিল, হস্টেলের খাবার একেবারে অখাদ্য। প্রতিদিনের খাবারে সেই একঘেয়েমি ও নিম্নমানের রান্না লি’র সহ্য হচ্ছিল না। দূরে বসে মেয়ের এই কষ্ট শুনে আর স্থির থাকতে পারেননি বাবা। মেয়ের চোখে হাসি ফিরিয়ে আনতে শেষমেশ তিনি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর শুরু হয় এক অসাধারণ যাত্রা। প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন লি বিংদির বাবা। দক্ষিণ চিনে গিয়ে কয়েক মাস ধরে শেখেন ফ্রায়েড রাইস (Fried Rice), নুডলস (Noodles) ও জনপ্রিয় চিনা স্ট্রিট ফুডের রান্না। উদ্দেশ্য একটাই, মেয়েকে সুস্বাদু খাবার খাওয়ানো, আর তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য পড়ুয়াদের মুখেও হাসি ফোটানো। অবশেষে জিলিন প্রদেশে মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে তিনি একটি ছোট্ট ফুডস্টল খুললেন। শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। প্রথম দিন বিক্রি তেমন ভাল হয়নি। কিন্তু এখানেই গল্পের মোড় ঘুরল। লি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) বাবার ফুডস্টলের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। সঙ্গে লিখেছিলেন, “আমার বাবা আমার জন্য চাকরি ছেড়ে এত দূর এসেছেন, এখন তাঁর দোকানে খাবার না খেলে আপনি অনেক কিছু মিস করছেন।” এই পোস্ট মুহূর্তেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে শুরু করেন গল্পটি। জিলিন নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা লাইন দিতে শুরু করেন ওই স্টলে। অচিরেই ফুডস্টলটি হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। অনেকে এসে শুধু খাবারই খাচ্ছেন না, গল্প করছেন, ছবি তুলছেন, এমনকী বাবাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তাঁর নিঃস্বার্থ ভালবাসার জন্য।

নেটিজেনরা (Netizens) লিখেছেন, “এটাই আসল ভালবাসা, যেখানে স্বার্থের কোনো জায়গা নেই।” কেউ আবার বলেছেন, “একজন বাবা এমনই হন, মেয়ের হাসির জন্য তিনি পুরো জীবনটাই পাল্টে দেন।” লি বিংদি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “আমার বাবা সবসময় বলেছেন, আমার সুখই তাঁর সুখ। মা মারা যাওয়ার পর ভেবেছিলাম, আমরা ভেঙে পড়ব। কিন্তু বাবা যেন নতুন করে বেঁচে উঠলেন, আমার হাসি দেখার আশায়।” ওই ফুডস্টলটির নাম এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়ে উঠেছে “ফাদার’স লাভ ফ্রাইড রাইস” (Father’s Love Fried Rice) নামে। সেখানে প্রতিদিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী খেতে আসছেন। অনেকেই ভিডিও বানিয়ে টিকটকে (TikTok) আপলোড করছেন এই স্টলের গল্প। চিনের সংবাদমাধ্যমগুলিও বিষয়টি নিয়ে লিখছে। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল এক বাবার গল্প নয়, এটি পরিবারের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসার প্রকাশ। এক সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে, “আজকের দুনিয়ায় যেখানে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে, সেখানে এই এক বাবার ভালবাসা মানুষকে আবার বিশ্বাস ফিরিয়ে দিচ্ছে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন লি বিংদির বাবার ছবিতে ভরে গিয়েছে। তাঁর পরিশ্রমী মুখ, চোখের কোণে মৃদু হাসি, আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়ের মুখে তৃপ্তির হাসি, এই এক ফ্রেমেই বন্দী হয়ে গিয়েছে এক জীবনের অর্থ।এই ঘটনার পর চিনে (China) ও বিশ্বের নানা প্রান্তে মানুষ নতুন করে ভাবছেন, “একজন বাবা কতটা ভালোবাসতে পারেন তাঁর মেয়েকে।” লি বিংদির বাবার গল্প এখন কেবল একটি দেশের নয়, মানবিকতার এক বিশ্বজনীন প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Japan train one passenger, Kana Harada story | এক ছাত্রীর জন্য তিন বছর চলল আস্ত ট্রেন! জাপানের ‘মরা’ গ্রামের অবিশ্বাস্য গল্পে মুগ্ধ দুনিয়া

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন