Delhi Blast | দিল্লি বিস্ফোরণে নতুন মোড়: শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার ডাক্তার তাজামুল, তদন্তে জঙ্গি মডিউলের জাল ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, ১২ নভেম্বর: লাল কেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যার ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর গোটা দেশ এখনও শিউরে উঠছে, আর তারই মধ্যে তদন্তে উঠে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল টিম শ্রীনগরের এসএমএইচএস হাসপাতালে কর্মরত ডাঃ তাজামুল আহমেদ মালিককে (Dr. Tajamul Ahmed Malik) গ্রেফতার করেছে। কুলগামের বাসিন্দা এই চিকিৎসককে সোমবার রাতে কারান নগর (Karan Nagar) এলাকা থেকে ধরা হয় এবং তাঁকে ইতিমধ্যেই জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার-এ (Joint Interrogation Centre – JIC) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লির ওই বিস্ফোরণে জড়িত একটি “হোয়াইট কলার” টেরর নেটওয়ার্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন এই তাজামুল। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই গ্রেফতার পুরো চিত্রটাই বদলে দিতে পারে। এখন মনে হচ্ছে, দিল্লি বিস্ফোরণের পেছনে শুধু জঙ্গি নয়, উচ্চশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছিল।”

সোমবার সন্ধ্যা ঠিক ৬টা ৫০ মিনিটে, লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর সামনে একটি সাদা হুন্ডাই আই-২০ (Hyundai i20) গাড়িতে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তিনটি গাড়ি, রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রক্ত, ধ্বংসস্তূপ আর আর্তনাদ। এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি ছিল একটি ফিদায়িন (Fidayeen) ধাঁচের আত্মঘাতী হামলা।

তদন্তে উঠে এসেছে এই বিস্ফোরণের মূলচক্রী ছিলেন ডাঃ উমর মোহাম্মদ নবী (Dr. Umar Mohammad Nabi), যিনি পুলওয়ামার বাসিন্দা এবং ফরিদাবাদের আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি (Al-Falah University)-তে অধ্যাপনা করতেন। তিনি গাড়ির ভেতরে লোড করা আরডিএক্স (RDX) বিস্ফোরক ফাটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেন, যার ফলে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। পুলিশের ধারণা, সহকর্মীদের গ্রেফতারের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে উমর হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটান। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও গবেষক। তাঁদের মধ্যে অন্যতম তাজামুল, যিনি শ্রীনগরের গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ (GMC) থেকে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে এসএমএইচএস হাসপাতালে যোগ দেন। তদন্তকারী সংস্থার মতে, তিনি একাধিকবার দিল্লিতে গিয়েছিলেন এবং লাল কেল্লা ও সংলগ্ন এলাকায় “রেকি মিশন” চালিয়েছিলেন। তাঁর মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বেশ কিছু টেলিগ্রাম (Telegram) চ্যাট, ক্রিপ্টো লেনদেন ও সন্দেহজনক ডকুমেন্ট উদ্ধার হয়েছে।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “তাজামুল একটি তথাকথিত মেডিকেল ট্রাস্টের সদস্য ছিলেন, যা আসলে জৈশ-ই-মোহাম্মদ (Jaish-e-Mohammad) ও অন্যান্য সংগঠনের আর্থিক সাহায্য জোগাড় করত।” ওই ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশি অনুদান ও মেডিকেল রিসার্চ ফান্ডকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হত বলেও সন্দেহ। তাজামুলের গ্রেফতারের পর থেকে দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে জোরকদমে চলছে তল্লাশি অভিযান। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল (Special Cell), জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল (Special Operation Cell – SOS) এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) -এর দল যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে।

এনআইএ সূত্রে জানা খবর, শ্রীনগরে এখন তাজামুলের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আরও চার চিকিৎসককে। ডাঃ আদিল আহমেদ রাদার (Dr. Adil Ahmed Rather), ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল (Dr. Muzammil Shakil), ইরফান মৌলভি (Irfan Maulvi) ও আরও দু’জন তরুণ ডাক্তারকে। তাঁরা সবাই উমর নবীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ফরিদাবাদে উমরের ভাড়া বাড়িতে চালানো তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক, ২০টি টাইমার, ২৪টি রিমোট কন্ট্রোল, একটি রাইফেল এবং প্রচুর লাইভ রাউন্ড। তদন্তকারীদের মতে, “এই অস্ত্রভাণ্ডার থেকেই দিল্লি, জম্মু, এমনকি মুম্বাইতেও বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল।”

এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, “এটি ভারতের জন্য এক নতুন ধরনের হুমকি। যখন চিকিৎসক, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়াররাও জঙ্গি নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়ছেন, তখন তা শুধু নিরাপত্তা নয়, সমাজকেও বিপদের মুখে ফেলছে।” উল্লেখ্য, লাল কেল্লার বিস্ফোরণের পর থেকে রাজধানীতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সমস্ত বড় মেট্রো স্টেশন, পর্যটন কেন্দ্র ও সরকারি ভবনে চলছে তল্লাশি। দিল্লি পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, “আমরা কাউকে ছাড়ব না। জঙ্গি নেটওয়ার্কের প্রতিটি স্তর খুঁজে বের করা হবে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশজুড়ে এই ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে যেভাবে উচ্চশিক্ষিত পেশাদাররা জঙ্গি সংগঠনের ছত্রছায়ায় এসে পড়ছেন, তা গোটা প্রশাসনকেই নতুন করে ভাবাচ্ছে। বিস্ফোরণের সেই দগ্ধ গাড়ি, রক্তাক্ত রাস্তা, আতঙ্কিত মুখ—সব মিলিয়ে রাজধানী এখনও সেই বিভীষিকার ছায়ায় আচ্ছন্ন।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Delhi explosion, Amit Shah statement | দিল্লি বিস্ফোরণ ঘটনায় তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্র! অমিত শাহের কড়া নির্দেশ, ‘যে-ই দোষী হোক, খুঁজে বের করুন’

Sasraya News
Author: Sasraya News