Birbhum temple marriage, Sainthia viral news | স্ত্রীকে বন্ধুর হাতে তুলে দিলেন স্বামী! বীরভূমে মন্দিরে অনন্য বিয়ে, যুবক বললেন, ‘আজ থেকে আমি মুক্ত’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সাঁইথিয়া : বীরভূমের (Birbhum) সাঁইথিয়া (Sainthia) শহরে ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা শুনে অনেকে হতবাক। নয় বছরের দাম্পত্য ভেঙে এক যুবক নিজের স্ত্রীর সঙ্গে নিজের বন্ধুর বিয়ে দিলেন মন্দিরে। উপস্থিত মানুষের সামনে তিনি নিজেই বললেন, “আজ থেকে আমি মুক্ত। আমার স্ত্রী এখন আমার বন্ধুর স্ত্রী। ওর দায়িত্ব এখন ওর।” এই অদ্ভুত কিন্তু বাস্তব ঘটনা গত সোমবার নন্দিকেশরী সতীপীঠ মন্দির প্রাঙ্গণে ঘটেছে। উল্লেখ্য, সাঁইথিয়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাপি মণ্ডল (Bapi Mondal) এবং তারাপীঠের (Tarapith) পঞ্চমী মণ্ডল (Panchami Mondal) -এর বিয়ে হয়েছিল নয় বছর আগে। তাদের সাত বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। কিন্তু বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। অভিযোগ, সংসারে অশান্তি শুরু হয় নানা কারণে। এক সময় পঞ্চমী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেন। সেই মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত, এবং পঞ্চমী চলে যান বাপের বাড়ি। সাত বছরের সন্তান থাকে বাপির কাছেই। এর মধ্যেই নতুন মোড় নেয় গল্প। বাপির বন্ধু জিৎকুমার মির্ধা (Jeetkumar Mirdha) -এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে পঞ্চমীর। জিতের বাড়ি সাঁইথিয়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে তাদের সম্পর্ক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দুই পরিবারেই শুরু হয় অশান্তি। কিন্তু গত সোমবার সকালেই সব কিছুর সমাধান যেন এক অদ্ভুত পথে করে ফেলেন বাপি।

সেই সকালে বাপি নিজেই স্ত্রী পঞ্চমী এবং বন্ধু জিৎকে নিয়ে হাজির হন সাঁইথিয়ার নন্দিকেশরী সতীপীঠে। মন্দিরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয় বিয়ের। বাপি নিজের হাতেই সম্পন্ন করেন বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে। পঞ্চমী ও জিৎ মালাবদল ও সিঁদুরদান করেন সকলের সামনে। উপস্থিত মানুষ অবাক হয়ে দেখেন এক স্বামীর হাতে নিজের স্ত্রীর হাত তুলে দেওয়া, তাও বন্ধুর হাতে।বিয়ের পর বর জিৎ জানান, “বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল প্রায় আট-নয় মাস ধরে। জানাজানি হওয়ার পর অনেক সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু আজ ওর স্বামী নিজেই আমাদের বিয়ে দিলেন। এখন সব কিছু খোলামেলা। আমরা এখন স্বামী-স্ত্রী।” কনে পঞ্চমীর মুখেও ফুটে উঠল শান্তির ছাপ। তিনি বলেন, “আমি ওকে (জিৎ) ভালবাসি। ওর সঙ্গেই সংসার করতে চাই। আমার আগের স্বামী নিজে আমাদের বিয়ে দিয়েছে। এখন আমি মুক্ত। আমার জীবন নতুন করে শুরু হচ্ছে।”

আরও পড়ুন : extramarital love story | শ্যালিকাকে নিয়ে পালালেন জামাইবাবু, জামাইবাবুর বোনকে নিয়ে চম্পট শ্যালক

অন্যদিকে, বাপি মণ্ডল শান্ত গলায় বলেন, “আমার নামে ও (পঞ্চমী) যে মামলা করেছিল, সেটা ও তুলে নেবে বলে কথা দিয়েছে। ও আমার সঙ্গে থাকলে আত্মহত্যার হুমকি দিত। তাই আমি আর ঝামেলায় যেতে চাইনি। আমি এখন শুধু চাই ওরা ভাল থাকুক। আমার ছেলে আমার কাছেই থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “আমার বন্ধু আমার স্ত্রীকে ভালবাসে, আমার স্ত্রীও ওকে ভালবাসে। আমি বাধা দিয়ে কী করব? জীবনে শান্তি চাই। আমি আজ থেকে মুক্ত।”

আরও পড়ুন : Gold Extraction from Seawater | সাগরের নোনা জলে লুকিয়ে কোটি কোটি টন সোনা, বাস্তবে মিলবে তো?

এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। কেউ কেউ বাপির সাহসিকতার প্রশংসা করছেন, নিজের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির পথ নিজেই বেছে নিয়েছেন বলে। আবার অনেকেই বলছেন, “এটা সমাজের এক নতুন বাস্তবতার ছবি।” স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এমন ঘটনা কোনও দিন শুনিনি। এক স্বামী নিজের স্ত্রীকে বন্ধুর হাতে তুলে দিচ্ছেন, এটা অসম্ভব! কিন্তু যেভাবে তিনি শান্তভাবে বিষয়টা মেনে নিয়েছেন, তাতে মনে হয় তিনি অনেক কষ্টের মধ্যেও মানবিকতার পথ বেছে নিয়েছেন।”

এই ঘটনাকে ঘিরে সাঁইথিয়া ও আশপাশের এলাকায় এখন চর্চা তুঙ্গে। কেউ বলছেন ‘দুর্ভাগ্যজনক’, কেউ বলছেন ‘আধুনিক সমাজের প্রতিফলন’। তবে বাপি মণ্ডলের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একজন মনোবিদের মতে, “এটা সামাজিক চাপ ও ব্যক্তিগত মানসিক ভারসাম্যের এক ধরনের প্রতিক্রিয়া। যখন সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা হারিয়ে যায়, তখন কিছু মানুষ এইরকম মুক্তির পথ খোঁজেন।”

যাই হোক, বাপি, পঞ্চমী ও জিতের এই ত্রিকোণ গল্পে সমাপ্তি ঘটেছে এক মন্দিরের বিয়েতে। তবে সমাজের চোখে এর মূল্যায়ন এখনই করা সম্ভব নয়। বাপি বলছেন, “আমি শুধু শান্তি চাই। ওরা যেমন থাকতে চায়, থাকুক। আমি আমার সন্তানের দায়িত্ব নেব।” এ যেন আধুনিক বীরভূমের এক বাস্তব কাহিনি, যেখানে প্রেম, সম্পর্ক, বিশ্বাস ও মুক্তি একসঙ্গে মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অদ্ভুত জীবনের ছবি।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Kerala High Court, Muslim Marriage Law | স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে নথিভুক্ত নয়! মুসলিম বিবাহে ঐতিহাসিক রায় কেরল হাই কোর্টের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন