সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর (Dharmendra) শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সোমবার থেকেই। দুপুরে তাঁর ভেন্টিলেশনে থাকার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তদের মনে আতঙ্ক ছড়ায়। আর মঙ্গলবার সকালেই আচমকা ছড়িয়ে পড়ে আরও এক বিস্ময়কর সংবাদ, ধর্মেন্দ্র আর নেই! মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা ভরে ওঠে তাঁর মৃত্যুর ভুয়ো বার্তায়। কেউ শোকবার্তা জানাচ্ছেন, কেউ বা পুরনো ছবি শেয়ার করছেন চোখ ভেজা মন নিয়ে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উলটে যায়, কারণ অভিনেতা এখনও লড়াই করছেন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে।
অভিনেতার পরিবার দ্রুতই মুখ খোলে এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটায়। স্ত্রী হেমা মালিনী (Hema Malini) নিজের এক্স (X) পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “এভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা অত্যন্ত অসম্মানজনক ও অমানবিক। আমরা নিজেরাই চিকিৎসকদের পরামর্শে রয়েছি। এমন গুজব মানুষকে ভীত করে তোলে।” তাঁর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই অসংখ্য অনুরাগী ও বলিউড তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় হেমার পাশে দাঁড়ান। এষা দেওল (Esha Deol) ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “বাবা (Dharmendra) চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর জন্য প্রার্থনা করুন। দয়া করে ভুয়ো খবর ছড়াবেন না। আপনারা যেভাবে ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ।”
তবে অভিনেতার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা আরও বেড়ে যায় যখন ANI সংবাদ সংস্থা ধর্মেন্দ্রর জুহু (Juhu) বাসভবনের বাইরের একটি ভিডিও শেয়ার করে। সেখানে দেখা যায়, বাড়ির সামনে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হচ্ছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, “এমন নিরাপত্তা সাধারণত দুঃখজনক ঘটনার আগে দেখা যায়।” অন্যদিকে কেউ লিখেছেন, “উনি এখনও বেঁচে আছেন, গুজবে কান দেবেন না।” এই ভিডিওর পরই নেটিজেনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ লিখেছেন, “যে মানুষ গোটা জীবন আমাদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, তাঁর প্রতি অন্তত সম্মান দেখানো উচিত।” অনেকে সংবাদমাধ্যমকেও দায়ী করেছেন এই পরিস্থিতির জন্য, কারণ ভুয়ো বার্তা যাচাই না করেই কিছু পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ছড়িয়ে দিয়েছে মৃত্যুর খবর। ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (IFTDA) এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতিতে বলেছে, “ধর্মেন্দ্র কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি এক আবেগ, এক ইতিহাস। তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো মানে কোটি কোটি ভারতীয়র অনুভূতিতে আঘাত করা।”
আরও পড়ুন : India Art Festival 2025 – A National Celebration of Contemporary Indian Art
এই ভুয়ো বার্তাকে কেন্দ্র করে অনেক তারকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরোধ করেছেন, কোনও খবর শেয়ার করার আগে তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। অভিনেতা অনিল কাপুর (Anil Kapoor) টুইটে লেখেন, “ধর্মেন্দ্রজি (Dharmendra ji) আমাদের শক্তির উৎস। তাঁর মনোবল অসাধারণ। গুজবে কান না দিয়ে তাঁর জন্য প্রার্থনা করুন।”
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনও আইসিইউ-তে (ICU) রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়সজনিত কারণে জটিলতা কিছুটা বাড়লেও তিনি ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছেন। হাসপাতালের এক চিকিৎসক ANI-কে বলেন, “অভিনেতার অবস্থা স্থিতিশীল। আমরা আশাবাদী যে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই উন্নতি হবে।” তবে বাড়ি ও হাসপাতাল চত্বরে যে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা অনুরাগীদের কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে। কেউ কেউ ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছেন সেই দৃশ্য। পুলিশ সূত্রের খবর, অতিরিক্ত নিরাপত্তা রাখা হয়েছে শুধুমাত্র গুজবজনিত ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
অন্যদিকে ধর্মেন্দ্রর দীর্ঘ কেরিয়ার ও জনপ্রিয়তা আবারও উঠে এসেছে আলোচনায়। “শোলে (Sholay)”, “ধর্ম-বীর (Dharam Veer)”, “চুপকে চুপকে (Chupke Chupke)”, “যমলা পাগলা দিওয়ানা (Yamla Pagla Deewana)” প্রতিটি চরিত্রে আজও অমলিন তিনি। এমন একজন কিংবদন্তিকে নিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়ানোকে অনেকে বলেছেন “মানবতার অবমাননা।” উল্লেখ্য যে, শেষ পর্যন্ত ভক্তদের কাছে একটাই আবেদন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা প্রতিটি খবর যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। কারণ এক মুহূর্তের অসতর্কতায় একজন মানুষের পরিবার ও ভক্তদের মনে তৈরি হতে পারে গভীর আতঙ্ক। বর্তমানে ধর্মেন্দ্রর চিকিৎসা মুম্বইয়ের একটি নামী হাসপাতালে চলছে, এবং পরিবারের তরফে অনুরোধ, “সবাই কেবল প্রার্থনা করুন, গুজব নয়।”*
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kiara Advani, Salman Khan, Kiara Advani real name | সলমন -এর এক কথাতেই বদলে গেল আলিয়া আডবাণীর জীবন! জানেন কি, কীভাবে হলেন ‘কিয়ারা’?



