সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর প্রথম দফার ভোটে ভোটদানের রেকর্ড গড়েছে রাজ্যবাসী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১২১টি আসনে গড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা বিহারের নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই ভোটদানের উচ্ছ্বাসকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দেখছেন নিজের নেতৃত্ব এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) -এর প্রতি জনগণের আস্থার নিদর্শন হিসেবে।
শুক্রবার অওরঙ্গাবাদ (Aurangabad) -এর জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহারের মানুষ জানেন, আমি যা বলি তা করি। ২০১৫ সালে লালকেল্লা থেকে বলেছিলাম ‘এক পদ এক পেনশন’ (One Rank One Pension) কার্যকর করব, আর আজ অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের অ্যাকাউন্টে আমরা ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছি।” তাঁর দাবি, দেশের প্রতিরক্ষা কর্মীদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার যা করেছে, তা অভূতপূর্ব, এবং এই সাফল্য বিহারবাসীর ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে। মোদী এদিন আক্রমণ করেন বিরোধী শিবিরকে, বিশেষত লালু প্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav) ও তেজস্বী যাদবকে (Tejashwi Yadav)। তাঁর মন্তব্য, “আরজেডি (RJD) জমানায় বিহার ছিল ‘জঙ্গলরাজ’-এর প্রতীক। কট্টা রাজ, অপহরণ, দুর্নীতি এই সব থেকে মুক্তি দিয়েছি আমরা। এখন বিহার উন্নয়নের পথে।” তিনি আরও বলেন, “আরজেডি কংগ্রেসকে এমন আসন দিয়েছে যেখানে ৩৫-৪০ বছরে তারা কখনও জেতেনি। এটা বোঝাই যাচ্ছে, এই জোটে কে কাকে টানছে।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, উন্নয়ন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং স্থিতিশীল শাসন। তিনি অযোধ্যায় (Ayodhya) রামমন্দির নির্মাণ, জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল, এবং সীমান্তে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, “দেশ এখন নতুন দিশায় এগোচ্ছে। আমি যা প্রতিশ্রুতি দিই, তা পূরণ করি।” প্রচারের মঞ্চ থেকে মোদী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নীতীশ কুমারের নাম না বললেও, তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, এনডিএ (NDA) জোটের মুখ্য শক্তি হিসেবে নীতীশই মুখ। তিনি বলেন, “বিহারের মানুষ জানেন, নীতীশজির নেতৃত্বে রাজ্য এগোচ্ছে। আরজেডি-র দিনগুলো ফিরে আসতে দেবে না জনগণ।” অন্যদিকে, একই দিনে সীতামঢ়ীর (Sitamarhi) সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) প্রতিশ্রুতি দেন, “যদি এনডিএ ক্ষমতায় ফিরে আসে, জানকী মন্দির (Janki Mandir) -এর পুনর্নির্মাণ করা হবে। এটি হবে আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক।”
প্রচারে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-এর (INDIA bloc) অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকেও কৌশলে সামনে আনেন। তিনি বলেন, “এই জোটে ঐক্যের মুখোশ পরে আছে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে সবাই নিজের হিসাব কষছে। তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বন্দুক ঠেকিয়ে। এভাবে কি নেতৃত্ব তৈরি হয়?” মোদীর দাবি, এই বিপুল ভোটদান প্রমাণ করে বিহারবাসী স্থিতিশীল শাসন, উন্নয়ন, এবং আত্মনির্ভরতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আজকের বিহার বদলে গিয়েছে। এক সময় যেখানে হিংসা, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তা ছিল, সেখানে আজ গড়ে উঠছে নতুন সড়ক, নতুন শিল্প, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। এই আস্থা, এই আশাই আমাদের শক্তি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এনডিএ-র অভ্যন্তরেও কিছু টানাপোড়েন রয়েছে। জেডিইউ (JDU) এবং বিজেপি (BJP)-এর স্থানীয় স্তরের নেতারা এখনও অনেক জায়গায় ‘সমন্বয়হীনতায়’ ভুগছেন। তবু প্রথম দফার রেকর্ড ভোটে এনডিএ শিবিরে ফের আত্মবিশ্বাসের জোয়ার এসেছে। উল্লেখ্য, বিরোধী শিবির এখনোও প্রকাশ্যে মোদীর মন্তব্যের জবাব না দিলেও, আরজেডি শিবিরের এক নেতা জানিয়েছেন, “বিহারের মানুষ উন্নয়ন চায় ঠিকই, কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতির চেয়েও বাস্তব চায়। ভোটে কে কতটা ফলাফল দেয়, তা ৩ দফা শেষে বোঝা যাবে।”
বিহার এখন নজর রাখছে দ্বিতীয় দফার দিকে। তবে শুক্রবার অওরঙ্গাবাদের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিলেন, তাতে স্পষ্ট, এনডিএ আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তাঁর মতে, “বিহারের মানুষ আর পিছনে ফিরে তাকাতে চায় না। জঙ্গলরাজ নয়, তারা এখন উন্নয়নের রাজনীতি চায়।”
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bihar Election 2025, Bihar Voter Turnout | বিহার নির্বাচন ২০২৫: প্রথম দফায় ৬০.১৩ শতাংশ ভোট, তিন কোণের লড়াইয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহ




