তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : গ্ল্যামার, সাহস আর স্বাধীনতা, এই তিন শব্দেই যেন মিলে যায় অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের (Sushmita Sen) ব্যক্তিত্ব। ভারতের প্রথম মিস ইউনিভার্স (Miss Universe) হিসেবে ইতিহাস গড়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। কিন্তু এই উজ্জ্বল আলোর পেছনে লুকিয়ে আছে তাঁর জীবনের নরম, সংবেদনশীল অধ্যায়, তাঁর প্রথম প্রেমের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অতীতের দরজা খুললেন সুস্মিতা, জানালেন এমন এক ব্যক্তির কথা যিনি তাঁর স্বপ্নপূরণের জন্য নিজের চাকরি ছেড়ে দিতে পর্যন্ত দ্বিধা করেননি।সেই প্রেমিকের নাম রজত তারা (Rajat Tara)। খুব বেশি মানুষ জানেন না, সুস্মিতার জীবনের একেবারে শুরুর দিনগুলিতে রজত ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। তখনও তিনি মিস ইউনিভার্স হননি, কেবল স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করছেন এক তরুণী। দিল্লির সাধারণ এক মেয়ে সুস্মিতা, যিনি মুম্বইয়ের (Mumbai) মতো শহরে নিজের জায়গা তৈরি করতে চাইছিলেন। তখনই পাশে ছিলেন রজত, প্রেমিক হিসেবে নয়, এক দৃঢ় সহায়ক হিসেবে।

সুস্মিতা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “রজত তারার সঙ্গেই আমার প্রথম প্রেমের সম্পর্ক। দারুণ সাপোর্টিভ ছিল ও। আমার পাশে থাকত সবসময়। এমনকী আমার স্বপ্নপূরণের জন্য নিজের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিল।” তাঁর গলায় কৃতজ্ঞতার সুর মিশে ছিল। তখন মিস ইউনিভার্সের প্রশিক্ষণের জন্য দিল্লি থেকে মুম্বইয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। নতুন শহর, নতুন লড়াই, একা একা সব সামলানো সহজ ছিল না। সুস্মিতা বলেন, “আমি কখনও একা থাকিনি তার আগে। রজত তখন আমার সঙ্গেই ছিল। পাশে থেকেছে প্রতিটা সময়। আমি যতটা ভয় পেয়েছিলাম, ও ততটাই সাহস জুগিয়েছিল।”
রজত তখন কাজ করতেন একটি জামাকাপড় তৈরির সংস্থায়। কাজের চাপে ছুটি নেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। কিন্তু প্রেমিকাকে সাহায্য করার জন্য তিনি চেষ্টা করেছিলেন। সুস্মিতা জানালেন, “রজত এক মাসের ছুটি চেয়েছিল কোম্পানির কাছে, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তাই ও চাকরি ছেড়ে দিল। আমার কেরিয়ারের জন্য নিজের জীবনের স্থিরতা ছেড়ে দেওয়া, এটা সত্যিই বিরল।”

এখান থেকেই বোঝা যায়, রজত শুধুই এক প্রেমিক ছিলেন না, ছিলেন এক নায়ক, যিনি নিজের সুখের বিনিময়ে ভালবাসার মানুষটির স্বপ্নকে ডানা দিয়েছিলেন। তবে সব প্রেমের গল্পের মতোই এই সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। সুস্মিতা বলেন, “একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য সম্পর্কটা ভেঙে যায়। কিন্তু আমি আজও ওর সেই ভালবাসা, সেই সমর্থনের কথা ভুলিনি।” রজতের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সুস্মিতার জীবন গিয়েছে অন্য পথে। খ্যাতি, সাফল্য, এবং একাধিক সম্পর্কের গল্প নিয়ে। কখনও অভিনেতা রণদীপ হুডা (Randeep Hooda)-এর সঙ্গে, কখনও শিল্পপতি ললিত মোদির (Lalit Modi) সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে সবকিছুর মধ্যেও সুস্মিতা থেকেছেন নিজের মতো, দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীন।
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যখন সুস্মিতা নিজের জীবনের কথা বলেন, তখন বোঝা যায়, তাঁর সাফল্যের ভিত গড়ে উঠেছিল ত্যাগ ও ভালবাসার মিশেলে। রজতের মতো একজন মানুষ হয়ত এখন আলোচনার বাইরে, কিন্তু তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। সেই সময়ে, এক তরুণীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল, সে ভালবাসা আজও অনন্য। সুস্মিতা আজও আগের মতোই খোলামেলা, নিজের জীবনের কথা বলতে দ্বিধা করেন না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি কখনও কাউকে দোষ দিইনি। প্রত্যেকটা সম্পর্ক আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। রজতের কাছ থেকে আমি শিখেছি, ভালবাসা মানে শুধু পাওয়া নয়, কখনও কখনও ছেড়ে দেওয়াও।”
এই খোলামেলা মনোভাবই সুস্মিতাকে আলাদা করে তুলেছে বলিউডের অন্য নায়িকাদের থেকে। আজ তিনি একজন সফল অভিনেত্রী, দুই কন্যার মা, এবং এক দৃঢ় নারী, যিনি জীবনের প্রতিটি অধ্যায়কেই গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। তাঁর গল্পে যেমন আছে ভালোবাসার উষ্ণতা, তেমনই আছে আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরতার বার্তা। রজতের কথা মনে করে তিনি হাসেন, “আমি জানি না ও এখন কোথায় আছে। কিন্তু আমি জানি, আমি ওর কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কারণ ও ছিল আমার জীবনের প্রথম সমর্থন।” উল্লেখ্য, একসময় ভালবাসার মানুষটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি রজত রেখেছিলেন নিজের ভবিষ্যৎ উৎসর্গ করে। সেই ভালবাসার গল্প আজও মানুষকে শেখায়, কখনও কখনও সত্যিকারের সম্পর্ক মানে, একে অপরকে উড়তে দেওয়া, নিজের ডানা কেটে হলেও।
ছবি : সংগৃহীত




