Kenya plane crash, Mombasa Air Safari | কেনিয়ায় পর্যটকবাহী বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১১ জন, বিমানে জীবিত নেই কেউ

SHARE:

Kenya plane crash kills 11 including foreign tourists from Hungary and Germany. Mombasa Air Safari aircraft crashes near Kwale, no survivors. Full details here.

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নাইরোবি : কেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১১ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হাঙ্গেরি ও জার্মানির ১০ জন বিদেশি পর্যটক এবং একজন কেনিয়ান (Kenya) পাইলট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কোয়ালে (Kwale) অঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছে কেনিয়া সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (Kenya Civil Aviation Authority)।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ কুড়ি-তম কিস্তি)

বেসরকারি বিমান সংস্থা মোমবাসা এয়ার সাফারি (Mombasa Air Safari) জানায়, তাদের একটি ছোট আকারের যাত্রীবাহী বিমানটি উপকূলীয় শহর দিয়ানি (Diani) থেকে কেনিয়ার বিখ্যাত মাসাই মারা (Maasai Mara) ন্যাশনাল রিজার্ভের কিচওয়া টেম্বো (Kichwa Tembo) উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু উড়ানের কিছুক্ষণ পরেই কোয়ালে জেলার আকাশে হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কয়েক মিনিট পরেই সেটি বিধ্বস্ত হয়।এয়ারলাইনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, বিমানে থাকা কেউই বেঁচে নেই। আমাদের সব যাত্রী ও পাইলটকে হারানোয় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” সংস্থাটি জানায়, বিমানে ছিলেন মোট ১০ জন পর্যটক, এর মধ্যে আটজন হাঙ্গেরির নাগরিক ও দু’জন জার্মান নাগরিক। পাইলট ছিলেন কেনিয়ার স্থানীয় এক অভিজ্ঞ বিমানচালক।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান, বিমানটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কেনিয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (Kenya Broadcasting Corporation) প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ ঘিরে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। সিটিজেন টিভি (Citizen TV) জানিয়েছে, নিহতদের দেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে, শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ উপকূলের আঞ্চলিক পুলিশ কমান্ডার বলেন, “বিমানে থাকা সকলেই বিদেশি পর্যটক ছিলেন। তারা কিচওয়া টেম্বোর পথে যাচ্ছিলেন, যেখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক সাফারির অভিজ্ঞতা নিতে যান। আমরা সমস্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছি এবং পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে।” কেনিয়া সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, টেকনিক্যাল সমস্যা অথবা হঠাৎ খারাপ আবহাওয়া এর জন্য দায়ী হতে পারে। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বিশেষজ্ঞ দল। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিমানের ব্ল্যাক বক্স (Black Box) উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। এটি উদ্ধার করতে পারলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

হাঙ্গেরি ও জার্মানির সরকার কেনিয়ার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছে। নাইরোবিতে (Nairobi) অবস্থিত হাঙ্গেরি দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা কেনিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি যাতে দ্রুত তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায় এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।” অন্যদিকে, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো (William Ruto) সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এই দুর্ঘটনায় আমরা মূল্যবান জীবন হারিয়েছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। কেনিয়া সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”

মাসাই মারার পথে বারবার দুর্ঘটনা

কেনিয়ার পর্যটন শিল্প আফ্রিকার অন্যতম জনপ্রিয় এবং মাসাই মারা ন্যাশনাল রিজার্ভ তার অন্যতম আকর্ষণ। তবে গত কয়েক বছরে ছোট পর্যটকবাহী বিমানের দুর্ঘটনার ঘটনা কয়েকবার ঘটেছে। ২০১৮ সালে একই রুটে একটি হালকা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন মারা গিয়েছিলেন। এ ধরনের দুর্ঘটনা পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী আইজ্যাক মুথাই (Isaac Muthai) বলেন, “মাসাই মারা যাওয়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কড়া নজরদারি দরকার। প্রতি বছর শত শত ছোট বিমান এই রুটে চলে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের মান যথেষ্ট নয়।”

বর্তমানে কেনিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশের সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের নিরাপত্তা মান যাচাই করছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনা দেশটির পর্যটন খাতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।কেনিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের মৃতদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোমবাসা এয়ার সাফারি তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই দুর্ঘটনা কেনিয়ার বিমান চলাচলের ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় যোগ করল। শান্ত সকালে যে আকাশে রওনা হয়েছিল একদল অভিযাত্রী, সেই আকাশেই মুহূর্তের ব্যবধানে নিভে গেল ১১টি প্রাণ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : China ASEAN free trade pact, ACFTA 3.0 | চিন-এসিয়ান এগিয়ে যাচ্ছে: ডিজিটাল ও গ্রীন অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন