Rohit Sharma, Virat Kohli, India vs Australia, Sydney ODI | ভারতের ভরসা সেই দুই, রোহিত-কোহলি, ভারতের কটাক্ষ ধুয়ে সম্মান বাঁচালেন ওল্ডম্যান! 

SHARE:

রোহিতের সঙ্গে জুটিতে কীভাবে এই সাফল্য আসে, তার ব্যাখ্যায় কোহলির সোজা জবাব, “আমরা দু’জনেই ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। সেটাই আমাদের শক্তি। হয়ত আজও বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে অভিজ্ঞ জুটি আমরা। শুরু থেকেই জানতাম, যদি দু’জনে উইকেটে থাকি, তাহলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারব।”

সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সিডনি : সিডনির মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ের শেষ ম্যাচে অবশেষে মুখরক্ষা করল ভারত। প্রথম দুই ম্যাচে হারলেও শেষ ম্যাচে জয়ের সুবাদে সিরিজ়ে সান্ত্বনা পেল টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলির (Virat Kohli)। রোহিত করলেন ঝলমলে শতরান, আর কোহলি খেললেন ধীরস্থির অর্ধশতরান। দু’জনের সেই জুটির ব্যাটের ঝললে ফের দলের সম্মান বাঁচাল। তবে সবচেয়ে চর্চিত বিষয় ছিল, দু’বছর পর হতে যাওয়া বিশ্বকাপ (World Cup) নিয়ে তাঁদের নীরবতা।

ম্যাচের শেষে প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (Adam Gilchrist) ও রবি শাস্ত্রী (Ravi Shastri) -এর সঙ্গে কথোপকথনে রোহিত-কোহলির ঠোঁটবন্ধ অবস্থা নজর কাড়ল। গিলক্রিস্টের প্রশ্ন ছিল সোজা, “দু’জনকেই কি আমরা আগামী বিশ্বকাপে দেখতে পাব?” কিন্তু রোহিতের উত্তর ছিল ঘুরিয়ে, “অস্ট্রেলিয়ায় খেলা সবসময়ই দারুণ অভিজ্ঞতা। এখানে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছ থেকে যে ভালবাসা পাই, তা অবিস্মরণীয়।” কোহলিও হাসিমুখে শুধু বললেন, “ধন্যবাদ।” গিলক্রিস্ট যখন আবার পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে একই প্রশ্ন তুললেন, রোহিত তখনও এড়িয়ে গেলেন। কিন্তু তাঁদের কথাবার্তা ও চোখের ভাষায় বোঝা গেল-এটাই হয়ত তাঁদের শেষ অস্ট্রেলিয়া সফর।

কোহলির (Virat Kohli) কণ্ঠে nostalgia, “এই দেশটায় খেলতে সবসময়ই ভাল লাগে। এখানে অনেক স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছি। সমর্থকেরা অসাধারণ। তাঁদের ভালবাসা ক্রিকেটকে আরও জীবন্ত করে তোলে।” পাশে থাকা রোহিত বললেন, “সিডনিতে নামলে ২০০৮ সালের প্রথম সফরের কথা মনে পড়ে। তখন তরুণ ছিলাম, অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন মনে হয়, সে সময়গুলো আর ফিরবে না। তবুও অস্ট্রেলিয়ায় খেলার আলাদা আনন্দ আছে। গত ১৫ বছর অনেক কিছু শিখেছি, অনেক ম্যাচ জিতেছি, হেরেছি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাঠের আবেগ কখনও কমে না।” তাঁর এই বক্তব্যে পাশে দাঁড়ানো কোহলি সম্মতির মাথা নাড়লেন। দুই ম্যাচে পরপর শূন্য রানে আউট হওয়ার পর কোহলি যেন নিজের মধ্যেই লড়াই করেছেন। কিন্তু সিডনির শেষ ম্যাচে তিনি ফিরে এলেন নিজের ছন্দে, ধৈর্য, কৌশল, এবং দায়িত্ববোধে ভর করে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ক্রিকেট এমনই একটা খেলা, যেখানে তুমি যত বছরই খেলো না কেন, প্রতিটি ম্যাচ কিছু না কিছু শেখায়। হয়ত আমি ৩৭-এর কাছাকাছি, তবুও এখনও নতুন কিছু শেখার জায়গা আছে।” উল্লেখ্য যে, রান তাড়া করে জেতার পরিসংখ্যানে কোহলি বরাবরই এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি নিজেই বলেন, “রান তাড়া করতে নামলে মনে হয়, আমি আমার সেরা জায়গায় আছি। রোহিতের সঙ্গে ব্যাট করা মানেই একরাশ আত্মবিশ্বাস। আমরা একে অপরকে বুঝে খেলি। তাই এত বছরেও আমাদের জুটি কার্যকর।”

আরও পড়ুন : Shubman Gill Captaincy, India Australia 1st ODI | প্রথম ম্যাচেই চাপে শুভমন, টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিকে আঙুল! রোহিত-কোহলি কি অধিনায়কের নিশানায়?

রোহিতের সঙ্গে জুটিতে কীভাবে এই সাফল্য আসে, তার ব্যাখ্যায় কোহলির সোজা জবাব, “আমরা দু’জনেই ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। সেটাই আমাদের শক্তি। হয়ত আজও বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে অভিজ্ঞ জুটি আমরা। শুরু থেকেই জানতাম, যদি দু’জনে উইকেটে থাকি, তাহলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ থেকেই আমাদের জুটির গল্প শুরু। সেই বিশ্বাসটা এখনও অটুট।”

অন্যদিকে রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) স্বীকার করেছেন, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন সবসময় কঠিন। “এখানে ক্রিকেট সহজ নয়। আবহাওয়া, পিচ, বাউন্স, সবকিছুই আলাদা। কিন্তু আমরা সবসময় চ্যালেঞ্জ উপভোগ করি। যদিও সিরিজ় জিততে পারিনি, তবুও অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছি।” অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার নিয়ে এখন তিনি তরুণদের পাশে থাকতে চান। রোহিত বলেন, “এই সিরিজ়ে অনেক তরুণ খেলোয়াড় দলে এসেছে। আমি যখন প্রথমবার বিদেশ সফরে এসেছিলাম, তখন সিনিয়ররা খুব সাহায্য করেছিল। এখন আমরাও চাই সেই দায়িত্ব নিতে। তরুণদের বলব, বিদেশে খেলার জন্য শুধু প্রতিভা নয়, পরিকল্পনাও জরুরি। ছোট ছোট বিষয়ই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।” প্রসঙ্গত, রোহিত-কোহলি জুটির ব্যাটিং দেখলে বোঝা যায়, অভিজ্ঞতা বয়সের ভারই নয়, অনুপ্রেরণা। তাঁরা যেমন ব্যাটে দলকে ভরসা দেন, তেমনই মাঠের বাইরে দলকে তৈরি করেন আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য।অস্ট্রেলিয়ার দর্শকেরা যেভাবে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁদের বিদায় জানালেন, তাতে বোঝা গেল, দু’জনই কেবল ভারতীয় ক্রিকেট নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও আইকন। তাঁদের ব্যাটের ছন্দে আবারও ফুটে উঠল সেই পুরনো জৌলুস, যা একসময় কোটি সমর্থকের হৃদয় জয় করেছিল।সিরিজের শেষ ম্যাচের জয় শুধু সিরিজ়ের মুখরক্ষা নয়, এক অর্থে রোহিত-কোহলির ছোঁয়ায় গড়া নতুন প্রজন্মই এগিয়ে নিয়ে যাবে ভারতের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের ধারা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana marriage | বিশ্বকাপের মাঝেই জীবনের ইনিংস শুরু! বিয়ের ঘোষণা করলেন স্মৃতি মন্ধানা, হবু স্বামী পলাশের মুখে মিষ্টি হাসি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন