সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, ২৩ অক্টোবর: রাজধানী দিল্লির (Delhi) রোহিনী এলাকায় গভীর রাতে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক পুলিশি এনকাউন্টার। তীব্র গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে বিহারের (Bihar) চারজন কুখ্যাত অপরাধী, যাদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহতরা বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা করছিল। রোহিনীতে রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিট নাগাদ এই এনকাউন্টার শুরু হয়। দিল্লি পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং বিহার পুলিশের যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্পেশাল সেল অফিসার বিকাশ যাদব (Vikas Yadav)। জানা গিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্যতম রঞ্জন পাঠক (Ranjan Pathak) বিহারের সীতামড়ি (Sitamarhi) জেলার কুখ্যাত গ্যাংস্টার এবং “সিগমা অ্যান্ড কোম্পানি” নামের এক ভয়ঙ্কর অপরাধচক্রের নেতা।
দিল্লি পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, রঞ্জন ও তার সহযোগীরা নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় সক্রিয় ছিল। তারা সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক হত্যা, এই তিন দিকেই জড়িত ছিল। এনকাউন্টারের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ বাহিনী। প্রায় ২৫ মিনিটের গুলিযুদ্ধে চারজন দুষ্কৃতী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বিহার পুলিশের ডিজিপি (DGP) আনন্দ কুমার (Anand Kumar) জানিয়েছেন, “আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে রঞ্জন পাঠকের গ্যাং নির্বাচনের আগে বিহারে অস্থিরতা ছড়ানোর ছক কষছিল। আমাদের হাতে থাকা অডিও কল এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বুঝতে পেরেছিলাম, তারা একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।”
সূত্রের খবর, বিগত এক মাসে রঞ্জন পাঠকের গ্যাং অন্তত পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ঘটনা ছিল ব্রাহ্মর্ষি সমাজের জেলা সভাপতি গণেশ শর্মা (Ganesh Sharma)-এর খুন। সেই ঘটনার পর থেকেই গ্যাংটির ওপর নজরদারি জোরদার করে বিহার পুলিশ। একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, “রঞ্জন ও তার গ্যাং প্রায় ছয় বছর ধরে সক্রিয়। তাদের অপরাধের ধরন অত্যন্ত পেশাদারি এবং নির্মম। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্য।” জানা যায়, তারা নির্বাচনের সময় ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করে বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য অর্থের বিনিময়ে কাজ করত। উল্লেখ্য, রোহিনী এনকাউন্টারের পর এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশের বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড গোটা জায়গাটি ঘিরে রেখে অনুসন্ধান চালাচ্ছে, যাতে কোনও বিস্ফোরক বা অস্ত্র থেকে না যায়। পুলিশের হাতে এসেছে রঞ্জনের মোবাইল, যেখানে বেশ কিছু এনক্রিপটেড বার্তা পাওয়া গেছে বলে সূত্রের দাবি।
দিল্লি পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “এই অভিযানের মাধ্যমে আমরা শুধু চারজন দুষ্কৃতীকে নিকেশ করিনি, বরং বিহার ও উত্তর ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতার বড় একটি পরিকল্পনাও নস্যাৎ করতে পেরেছি।” উল্লেখ্য, ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি (BJP President) সঞ্জয় ঝা (Sanjay Jha) বলেন, “এনকাউন্টার প্রমাণ করেছে যে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা চলছিল। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত।” এদিকে, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালের (Sanjay Gandhi Hospital) মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিহার পুলিশের একটি বিশেষ দল আজই দিল্লিতে পৌঁছে তদন্তে যোগ দেবে। দুই রাজ্যের প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ রেখে যৌথ তদন্ত চলবে বলে জানা গিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এনকাউন্টার শুধু একটি অপরাধী চক্রের অবসান নয়, বরং নির্বাচনী নিরাপত্তা রক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ। বিহারের মতো রাজ্যে যেখানে অপরাধ ও রাজনীতি বহু সময় জটিলভাবে মিশে যায়, সেখানে এই ধরনের পদক্ষেপ জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ছবি : প্রতীকী




