Assam Train Blast | আসামে রেললাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! কোকরাঝাড় ও সালাকাঠির মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ, নাশকতার আশঙ্কায় তৎপর নিরাপত্তা বাহিনী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি, আসাম, ২৩ অক্টোবর: রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (Northeast Frontier Railway)। কোকরাঝাড় (Kokrajhar) ও সালাকাঠি (Salakati) স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় গভীর রাতে ঘটে এই ভয়াবহ আইইডি (IED) বিস্ফোরণ। এতে আপ লাইনের (Up Line) রেলপথের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসন প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত নাশকতা (Sabotage) হিসেবে দেখছে।

রেলওয়ে সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে রেললাইনের পাত পর্যন্ত উঠে গিয়েছে এবং ট্র্যাকের স্লিপারগুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় কোনও ট্রেন তখন ওই সেকশনে না থাকায়  প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে। তবে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় নারজারি (Bijoy Narzari) বলেন, “রাত প্রায় ১টা নাগাদ প্রচণ্ড শব্দ শুনে আমরা সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হয়েছে। পরে জানতে পারি রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছে।” রেলওয়ের এক আধিকারিক দীপঙ্কর বর্মন জানান, “বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, এটি একটি উন্নতমানের আইইডি। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (Bomb Disposal Squad) কাজ করছে।” রেলওয়ের পক্ষ থেকে আপাতত ওই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেনগুলোকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF), সিআরপিএফ (CRPF) ও রাজ্য পুলিশের যৌথ বাহিনী গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এলাকায় বড় নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।

আসাম পুলিশের (Assam Police) এক সিনিয়র আধিকারিক দেবাশিস হাজারিকা বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি সংগঠিত নাশকতা। কোন গোষ্ঠী এর পেছনে আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ফরেনসিক দল (Forensic Team) যোগ দিয়েছে। বিস্ফোরণের জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া লোহার টুকরো, ব্যাটারি ও সার্কিট বোর্ড প্রমাণ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির সক্রিয়তা রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি (Intelligence Agencies) আশঙ্কা করছে, এই বিস্ফোরণ সম্ভবত এমন কোনও গোষ্ঠীর পরিকল্পিত বার্তা হতে পারে। সম্প্রতি এই অঞ্চলে রেললাইন, ব্রীজ ও সরকারি স্থাপনার ওপর হামলার সতর্কবার্তা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ। 

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রঞ্জন বড়ুয়া (Ranjan Barua) বলেন, “এ ধরনের নাশকতা সাধারণত সেনা বা রেল চলাচল ব্যাহত করার জন্যই করা হয়। লক্ষ্য হতে পারে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন ওঠে।” উল্লেখ্য, রেলওয়ে বোর্ডের (Railway Board) মুখপাত্র অরুণ কুমার দাস (Arun Kumar Das) এক বিবৃতিতে বলেন, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মেরামতির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তবে বিস্ফোরণের মাত্রা বিবেচনা করে মনে হচ্ছে পুরো লাইন চালু হতে অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে।” এদিকে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাস ও বিশেষ ট্রেনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। গৌহাটি (Guwahati) থেকে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) পর্যন্ত চলাচলকারী বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের সময়সূচি সম্পর্কে আগাম রেলওয়ে অ্যাপ ও হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে ওই রেল সেকশনে চরম নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। কুকুরদল, মেটাল ডিটেক্টর ও ড্রোনের সাহায্যে এলাকা স্ক্যান করা হচ্ছে। সিআইডি (CID) ও এনআইএ (NIA) -এর কর্মকর্তারাও প্রাথমিক তদন্তে যোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাতের পর থেকে পুলিশি টহল বাড়লেও মানসিক অশান্তি কাটছে না। স্থানীয় যুবক রোহন তামুলি (Rohan Tamuli) বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই রেললাইন দিয়ে চলাচল করি। এখন মনে হচ্ছে জীবনটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ”সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, এই ঘটনায় যেসব দোষীদের হাত রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসন রেলওয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে একটি বিশেষ তদন্ত দল (Special Investigation Team) গঠন করেছে। প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্বের অশান্ত রাজনৈতিক আবহে এই বিস্ফোরণ নিঃসন্দেহে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উৎসবের মরসুমে এমন ঘটনার ফলে গোটা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আসাম ও তার আশপাশের রাজ্যগুলিতে রেল অবকাঠামোর ওপর আরও কঠোর নিরাপত্তা জারি করা প্রয়োজন।

এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে তদন্তকারীরা একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন। বিস্ফোরণের ধরণ দেখে মনে করা হচ্ছে, এটি স্থানীয়ভাবে তৈরি হলেও দক্ষ প্রযুক্তিতে সংযুক্ত একটি বিস্ফোরক ডিভাইস ছিল। রাতভর মেরামতির কাজ চললেও রেলওয়ে জানিয়েছে, পুরো লাইন নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে না।

ছবি : সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ সতেরো-তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন