সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, অ্যাডিলেড : অ্যাডিলেডে ভারতীয় দলের অনুশীলনে হঠাৎই এক ভিন্ন ছবি। সাধারণত সব সময় খোশমেজাজে দেখা যায় রোহিত শর্মাকে (Rohit Sharma)। মজা করেন সতীর্থদের সঙ্গে, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, এমনকী অনুশীলন দেখতে আসা সমর্থকদের দিকেও তাকিয়ে হাত নাড়েন। কিন্তু বুধবার অ্যাডিলেডের ওভালে যখন ভারতীয় দল অনুশীলনে নামে, তখন সেই চেনা রোহিত যেন কোথাও হারিয়ে গেলেন। চুপচাপ, গম্ভীর মুখে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করলেন, কারও সঙ্গে কথাও বললেন না। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যে গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) -এর উপস্থিতি সেই নীরবতার মধ্যে বাড়িয়ে দিল অন্যরকম উত্তেজনা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অ্যাডিলেডে রোহিতের জায়গা অনিশ্চিত?
রোহিত জানেন, এই সিরিজ তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যাটে রান না আসায় সমালোচনার ঝড় বইছে। তাই হয়ত নিজের মনোযোগ ধরে রাখতে সকাল সকালই হাজির হন তিনি অনুশীলনে, দলের বাকিদের আগেই। মাঠে তখন ছিলেন কেবলমাত্র কোচ গৌতম গম্ভীর, সঙ্গে দুই থ্রোডাউন বিশেষজ্ঞ দয়ানন্দ গরানি (Dayanand Garani) ও রাঘবেন্দ্র। রোহিতের প্রাথমিক নেট ছিল স্যাঁতসেতে, বল লেংথে ঠিক পড়ছিল না। গম্ভীর বুঝতে পারেন, এই অবস্থায় অনুশীলন চালালে চোট পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তিনি রোহিতকে পাশের নেটে যেতে বলেন। সেখানে রোহিত আরও মনোযোগী হয়ে অনুশীলন শুরু করেন। গম্ভীরও এক মুহূর্তের জন্য চোখ সরাননি রোহিতের দিক থেকে। এমন সময় অনুশীলন মাঠে হাজির হন নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর, সঙ্গে ছিলেন পূর্বাঞ্চলের নির্বাচক শিবসুন্দর দাস (Shiv Sunder Das)। তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয় গম্ভীরের। এরপরই তাঁরা যশস্বী জয়সওয়ালকে (Yashasvi Jaiswal) ডেকে পাঠান। যশস্বীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলতে দেখা যায় আগরকর ও গম্ভীরকে। এদিকে রোহিতের অনুশীলন শেষ হয়, এবং তাঁকে দেখা যায় ফোনে কথা বলতে বলতে টিম বাসের দিকে হেঁটে যেতে। ‘রেভস্পোর্টজ়’ (RevSportz) জানিয়েছে, রোহিতকে এ দিন অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ ও মনমরা দেখাচ্ছিল। কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলেননি।
এই দৃশ্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ও ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা, তবে কি রোহিত বুঝে গিয়েছেন যে অ্যাডিলেডে প্রথম একাদশে তাঁকে রাখা হচ্ছে না? ভারতের হয়ে ওপেনিংয়ে নামতে পারেন যশস্বী জয়সওয়াল? নাকি রোহিত কেবল মনঃসংযোগ বজায় রাখতে নিজেকে বাকিদের থেকে আলাদা রাখছেন? দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক (Sitanshu Kotak) অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করেননি। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “যশস্বী এখন ১৫ জনের স্কোয়াডে রয়েছে। ও নিয়মিত অনুশীলন করছে এবং নিজেকে প্রস্তুত রাখছে। কিন্তু ১১ জনের বেশি তো মাঠে নামানো যাবে না। তাই ওকে সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে। সুযোগ পেলে সেটা কাজে লাগাতে হবে।” সীতাংশু এও জানিয়েছেন, যশস্বী শুধু ব্যাট নয়, বল হাতেও অনুশীলনে সক্রিয়। “যশস্বী লেগ স্পিন করে। ওকে দেখে মনে হয়, ও-বোলিংও বেশ উপভোগ করে। আগের থেকে এখন ওর বলের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়েছে। দলের জন্য এটা খুবই ইতিবাচক দিক,” বলেন ব্যাটিং কোচ। তাঁর মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, যশস্বীকে ঘিরে দলের কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, দলের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, কোচ গম্ভীর এবং নির্বাচক আগরকর দু’জনেই নতুনদের সুযোগ দিতে আগ্রহী। বিশেষত যশস্বী জয়সওয়ালকে তাঁরা ভবিষ্যতের ওপেনার হিসেবে গড়ে তুলতে চান। রোহিতের বয়স, ফিটনেস এবং সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে দলের ভিতরে আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে এই ম্যাচটি রোহিতের জন্য একটি ‘মেক অর ব্রেক’ মুহূর্ত বলেই ধরা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, রোহিতের অভিজ্ঞতা এখনও অমূল্য, তবে ভারতীয় দল বর্তমানে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। তরুণদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চাইছেন নির্বাচকরা। গম্ভীর নিজেও খেলোয়াড় জীবনে ‘পারফরম্যান্স ইজ অল’ নীতির সমর্থক ছিলেন, সেই মানসিকতা এখন কোচ হিসেবেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
অ্যাডিলেডে আগামী ম্যাচে তাই নজর থাকবে রোহিতের ওপর। তাঁর ব্যাটে যদি রান না আসে, তবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে ভারতীয় ক্রিকেটে, যেখানে ওপেনিংয়ে নামবেন যশস্বী জয়সওয়াল, আর রোহিত শর্মা হয়ত সরে দাঁড়াবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চ থেকে। তবে এখনও সবটাই অনুমান। বৃহস্পতিবারের ম্যাচই জানাবে, এই জল্পনার কতটা বাস্তব।
ছবি : সংগৃহীত



