সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : কেরলের প্রমাদমে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যা অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াতে পারত। বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) সবরীমালা মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় প্রমাদমে হেলিকপ্টার অবতরণের পরই ধসে পড়ল নতুন তৈরি হেলিপ্যাড। সামান্য কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই রক্ষা পান রাষ্ট্রপতি। হেলিকপ্টারটি নামার সঙ্গে সঙ্গেই হেলিপ্যাডের সিমেন্টের অংশ ভেঙে যায় এবং টারম্যাকে ফাটল দেখা দেয়। পরে দমকল ও এয়ারফোর্সের কর্মীরা চেষ্টার মাধ্যমে কপ্টারটিকে ঠেলে সোজা করেন। এই ঘটনায় কেরল প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা গিয়েছে, হেলিকপ্টারটি মাটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিচের দিক থেকে ধুলো উড়ে যায় এবং টারম্যাকের পৃষ্ঠতলে ফাটল দেখা দেয়। পাইলট দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে গাড়িতে তুলে পাম্বা (Pamba) অভিমুখে পাঠিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি তখনও বুঝতে পারেননি, কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানেই তিনি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার মুখ থেকে ফিরে এসেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, “নতুন তৈরি হেলিপ্যাডে যথাযথ কংক্রিটের স্তর জমার সময় দেওয়া হয়নি। হেলিকপ্টারের ওজনের চাপ সহ্য করতে পারেনি সেটি। ফলে টারম্যাক ধসে গিয়েছে।” তিনি আরও জানান, “মঙ্গলবার রাতেই শেষ মুহূর্তে অবতরণের জায়গা বদল করা হয়। মূলত নিলাকল এলাকায় অবতরণের কথা থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সেটি পরিবর্তন করে প্রমাদমে আনা হয়।” উল্লেখ্য, এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পুরো ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) এবং কেরল রাজ্য প্রশাসন যৌথভাবে রিপোর্ট তৈরি করছে।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “ঈশ্বরের কৃপায় কেরল সফরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুজি আজ বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পেরেছেন। তাঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করি।” রাজনৈতিক মহলেও স্বস্তির নিশ্বাস পড়েছে, কারণ রাষ্ট্রপতির কোনও শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মঙ্গলবার বিকেলে তিরুবনন্তপুরমে (Thiruvananthapuram) পৌঁছেছিলেন চারদিনের কেরল সফরে। এই সফরসূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে তিনি সবরীমালার (Sabarimala) আয়াপ্পা মন্দিরে পূজা দেন। ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি যিনি সবরীমালা মন্দিরে পূজা দিলেন। এর আগে ১৯৭০-এর দশকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি (V. V. Giri) এই মন্দিরে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি মন্দিরে পূজা দিতে যান।রাষ্ট্রপতির এই সফরের উদ্দেশ্য মূলত কেরলের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া। বৃহস্পতিবার তিনি তিরুবনন্তপুরম রাজভবনে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কেআর নারায়ণন (K. R. Narayanan)-এর মূর্তি উন্মোচন করবেন। এরপর তিনি ভারকালার (Varkala) শিবগিরি মঠে যাবেন। সেন্ট থমাস কলেজের (St. Thomas College) প্ল্যাটিনাম জুবিলি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আগামী ২৪ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি যাবেন এরনাকুলামের (Ernakulam) সেন্ট টেরেসা কলেজে (St. Teresa’s College) একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে। এই ঘটনায় কেরল প্রশাসনের ওপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য তৈরি করা হেলিপ্যাড যদি এমন দুর্বল হয়, তবে তা বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতির সফরসূচিতে আপাতত কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না, তবে নিরাপত্তা পর্যালোচনা আরও কড়া করা হবে। কেরল সরকারও জানিয়েছে, “এই ঘটনায় কারও গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক বলেন, “হেলিপ্যাড তৈরির দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাড়াহুড়ো করে তৈরি হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “রাষ্ট্রপতির মতো একজন ব্যক্তিত্বের সফরে এমন প্রস্তুতি সত্যিই অস্বাভাবিক। ভাগ্যক্রমে কেউ আহত হননি।” তাঁদের দাবি, শেষ মুহূর্তে হেলিপ্যাড তৈরির কাজ শেষ করতে গিয়ে সঠিকভাবে মান বজায় রাখা হয়নি। রাষ্ট্রপতি মুর্মু নিজে এখনও এই ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, তবে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়েছে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং পরবর্তী সফরসূচি অনুসারে সব অনুষ্ঠানেই যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে এখন আলোচনায় এই ‘অল্পের জন্য রক্ষা’-র ঘটনা। একদিকে রাষ্ট্রপতির জীবন হুমকির মুখে পড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে ঈশ্বরের কৃপায় একটি বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ সতেরো-তম কিস্তি)



