সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) কাকদ্বীপ (Kakdwip) বিধানসভার সূর্যনগর গ্রামপঞ্চায়েতের নস্করপাড়ায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ভোরবেলায় গ্রামবাসীরা দেখতে পান, বহু বছরের ভক্তিভরে পূজিত মা কালী’র (Maa Kali) প্রতিমা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকা জুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ মন্দিরে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, এ শুধু ধর্মীয় অবমাননাই নয়, গ্রামের মানুষের আস্থার ওপর আঘাত। গ্রামবাসীরা বলেন, “আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মন্দিরে পূজা দিই। এই মন্দির আমাদের আশ্রয়, আমাদের মা। সেই মায়ের প্রতিমা ভাঙা মানে আমাদের হৃদয়ে আঘাত।” ঘটনাস্থলে ভাঙা প্রতিমার টুকরো, ছড়িয়ে থাকা ফুল ও ভস্মের চিত্র ছিল হৃদয়বিদারক।
কিন্তু আরও ক্ষোভ উস্কে দেয় প্রশাসনের ভূমিকা। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমেই মন্দিরটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধী ধরার বদলে যেন ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। প্রতিবাদের মুখে অবশেষে মন্দির খুলে দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত একটিও গ্রেপ্তার হয়নি। এই প্রশাসনিক নীরবতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে মা কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর তৃণমূল রাজ্যের প্রশাসনিক উদাসীনতার নগ্ন চিত্র! সরকার চুপ করে আছে, কারণ এই নীরবতা তাঁদের নীতিরই প্রতিফলন।” তিনি আরও যোগ করেন, “হিন্দু মন্দিরে বারবার আঘাত হচ্ছে, প্রতিমা ভাঙা হচ্ছে, অথচ প্রশাসন নির্লজ্জভাবে নীরব। এ রাজ্যে কি হিন্দুদের অনুভূতির কোনও মূল্য নেই? এই ঘটনায় আমরা শুধু দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি না, প্রশাসনিক গাফিলতিরও তদন্ত চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এলাকায় রাতের বেলায় কিছু অচেনা মানুষকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। তাদের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। তবুও পুলিশ কেন এতটা নীরব, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি দাবি করছে, রাজ্যে হিন্দু মন্দিরগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ। অন্যদিকে, তৃণমূল (TMC) শিবির বলছে, “সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে, প্রশাসন তদন্ত করছে।” কিন্তু বাস্তবে, তদন্তের গতি নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
একজন স্থানীয় যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মা কালী আমাদের রক্ষাকর্ত্রী। তাঁর প্রতিমা যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমরা কাদের ভরসা করব? এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হবে।” উল্লেখ্য, গ্রামে এখন অস্থিরতা ও আতঙ্কের আবহ। অনেকেই রাতের অন্ধকারে মন্দির পাহারায় থাকছেন, যাতে আবার কেউ অপবিত্রতা ছড়াতে না পারে। স্থানীয় পুরোহিতের (Priest) কথায়, “এই মন্দিরে গ্রামের মানুষ শুধু পূজা নয়, মনের শান্তিও খুঁজে পান। আজ সেই পবিত্র স্থান লাঞ্ছিত হয়েছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সংগঠনগুলির পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাটি শুধু একটি প্রতিমা ভাঙচুর নয়, এটি রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত। একদিকে যখন সরকার শান্তি ও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্যর কথায়, “তৃণমূল সরকার যতই ঢেকে রাখতে চাক, বাস্তব হল, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই রাজ্যে হিন্দুরা নিরাপদ নয়, কারণ সরকার চোখ বুজে আছে।” অন্যদিকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এবিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। বর্তমানে এলাকা পুলিশ পাহারায় থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। গ্রামের প্রবীণরা বলছেন, “দোষীরা ধরা না পড়া পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।”এই ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ। যতদিন না দোষীরা শাস্তি পাচ্ছে, ততদিন এই ক্ষোভ থামবে না, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
ছবি: সংগৃহীত



