Gaza ceasefire warning, Donald Trump Hamas warning | ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘শুধরে না গেলে হামাসকে সমূলে নির্মূল করা হবে’ শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

SHARE:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের Peace Board উদ্যোগে সৌদি, কাতার ও ইউএই’র অংশগ্রহণের ইঙ্গিত। গাজার পুনর্নির্মাণ, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকা বিশ্লেষণ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজা অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষবিরতি ভাঙার চেষ্টা করলে সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে (Hamas) “সমূলে নির্মূল” করার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এখনও চুক্তিকে একটি সুযোগ দিচ্ছে, কিন্তু যদি হামাস শান্তি অমান্য করে বা নতুন হামলার ষড়যন্ত্র চালায়, তা হলে প্রতিক্রিয়া দ্রুত ও কঠোর হবে। ট্রাম্প প্রেস কনফারেন্সে আরও বলেন, “আমরা হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি, তাদের সামনে একটি সুযোগ রাখা হয়েছে শুধরে আসার। কিন্তু যদি তারা সেই সুযোগ নষ্ট করে, আমরা এবং আমাদের মিত্ররা প্রয়োজন হলে তাদের নির্মূল করে দেব।” তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থল সেনা মোতায়েনে আগ্রহী নয়, কিন্তু সঙ্গে থাকা মিত্ররাই পদক্ষেপ নিতে পারবে। তিনি যোগ করেন যে, তিনি চাইলে ইজরায়েলকে (Israel) সরাসরি নির্দেশ দিলেই তারা মুহূর্তের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে গাজায় শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ তৎপর; বিশেষ প্রতিনিধি দলের পাঠানো এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতাযুক্ত এক চুক্তি গতকাল উল্লিখিত হয়েছে। কিন্তু রবিবার প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে হামাস নতুন করে হামলার ছক কষছে, এই দাবি পাওয়ার পর ইজরায়েলই পুনরায় গাজায় বিমান হামলা চালায় এবং রাফা এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে রিপোর্ট করা হয়। হামাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও উত্তেজনা তিব্র হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ইজরায়েল-মধ্যস্থতায় বন্ধুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কাজে আমেরিকার পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ও কূটনীতিকদের কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে; প্রেসিডেন্টের ছত্রছায়ায় জার্ড কুশনার (Jared Kushner) মতো সদস্য ও অন্যান্য প্রতিনিধিরাও অঞ্চলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স (J.D. Vance) ইজরায়েলে পৌঁছেছেন, তার কাজ হবে চুক্তি টিকিয়ে রাখা ও তিন পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা সহজ করা। এদিন ট্রাম্পের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সতর্কতা ও শর্তসাপেক্ষ কণ্ঠস্বর। তিনি সরাসরি বললেন, “আমরা তাদের (হামাস) কাছে স্পষ্ট করে বলেছি, শান্তিচুক্তি ভাঙলে ফল অত্যন্ত ভয়ানক হবে।” একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে বেশ কিছু দেশ ইতোমধ্যেই গঠিত চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্প বারবার পুনরাবৃত্তি করেছেন যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থল অভিযান পরিচালনার মনোভাব পোষণ করছে না।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই রূপরেখা কূটনৈতিক চাপ ও মিত্রশক্তির জোরে হামাসকে চুক্তি মেনে চলার জন্য বাধ্য করবে, তবে বাস্তবে মাঠে চুক্তি টেকসই রাখতে গেলে নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গাজায় মানবিক সহায়তা, নিখোঁজ ও নিহতদের হিসাব, এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এসব বিষয়ের সমাধান ছাড়া কেবল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে চুক্তি ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে তর্ক উঠছে।

আরও জটিলতা বাড়ায়—সম্প্রতি কয়েক দফা সহিংসতা সংঘটিত হওয়ার পর অনেকে প্রশ্ন করছেন, যে দলগুলো শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে, তারা কি বাস্তবে নিজেরা শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হবে? মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে যে ‘নতুন হামলার ছক’ নিয়ে কথিত সতর্কতা এসেছে, সেটি যদি সঠিক হয় তবে মাঠের বাস্তবতা অচিরেই শান্তিচুক্তিকে নষ্ট করে দিতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্যে তাই ছিল সতর্কতার সঙ্গে হুমকিও, “শুধরে না গেলে সমূলে বিনাশ”, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়িয়েছে। এই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংস্থাগুলো তৎপর অবস্থায় রয়েছে, শাম এল-শেখ সম্মেলনসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যে রূপরেখা গঠিত হয়েছিল, তা কার্যকর রাখার প্রয়াস চলছে। ট্রাম্প বলছেন যুক্তরাষ্ট্র একটি সুযোগ দেবে; কিন্তু সেই সুযোগ সীমাবদ্ধ, এবং শর্ত ভঙ্গ হলে মিত্রশক্তির সহায়তায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ পরিস্থিতি গাজাবাসী ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষত মানবাধিকারকর্মী এবং হিউম্যানিটেরিয়ান এজেন্সিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পৌঁছাতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, অনেকে মনে করছেন, একদিকে চুক্তি বজায় রাখার দাবি ও অন্যদিকে মাঠে আঞ্চলিক বাস্তবতা, এই দ্বৈত চাপের মধ্যে গাজা অঞ্চলে শান্তি এবং পুনর্গঠন কাজ খুবই কঠিন হবে। ট্রাম্পের কড়া ভাষা কোনো অংশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, কিন্তু তা কি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় পরিণত হবে, তাও সময়ই বলে দেবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump China Tariff, Trump 155 Percent Tariff | চুক্তি না-হলে ১৫৫ শতাংশ শুল্ক! চিনকে কড়া বার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, ভাল সম্পর্ক রেখেও চাপ বাড়ালেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন