Onion price Maharashtra | ৭৫০ কেজি পিঁয়াজ বিক্রি করে মাত্র ৬৬৪ টাকা! মহারাষ্ট্রে অন্নদাতার অশ্রু, কৃষিনীতির ব্যর্থতায় উত্তাল পুনে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পুনে: দেশের অর্থনীতির উন্নতির ঢোল বাজছে চারদিকজুড়ে। রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তৃতায় প্রতিনিয়ত শোনা যাচ্ছে “ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি” -এই গর্বের উচ্চারণ। কিন্তু সেই উন্নয়নের আওয়াজ পৌঁছাচ্ছে না দেশের অন্নদাতাদের ঘরে। তাদের মুখে হাসি নয়, তা চোখে জল আর হতাশার রেখা। মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) পুনের (Pune) কৃষক সুদাম ইঙ্গেলের (Sudam Ingle) গল্প যেন আজ গোটা ভারতের কৃষকের কান্নার প্রতিচ্ছবি।

Follow us : https://x.com/sasrayanews?s=09

মাত্র ৬৬৪ টাকায় ৭৫০ কেজি পিঁয়াজ বিক্রির গল্প শুনলে প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হবে, কিন্তু এটাই আজকের বাস্তবতা। দেড় একর জমিতে প্রায় ৬৬ হাজার টাকা খরচ করে চাষ করেছিলেন সুদাম। অতিবৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতি হলেও কোনোভাবে তিনি ৭৫০ কেজি পিঁয়াজ তুলেছিলেন। কিন্তু পুরন্ধর বাজারে ফসল বিক্রি করে হাতে এল মাত্র ৬৬৪ টাকা।সুদামের আক্ষেপ, “ক্ষেত প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ, কীটনাশক, জল, আগাছা পরিষ্কার, প্যাকিং, সব মিলিয়ে খরচ করেছি হাজার হাজার টাকা। অথচ বিক্রিতে পেয়েছি সামান্য কয়েকশো। এভাবে আর ক’দিন বাঁচব বলুন?” তিনি জানালেন, এবার তিনি বাকি ফসল তুলবেন না, নষ্ট হতে দেবেন।

মহারাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। রাজ্যের বহু অঞ্চলে, বিশেষত পুনে ও নাসিক (Nashik) এলাকায়, বৃষ্টির ধাক্কা সামলে এবার দামপতনের ধাক্কায় দিশেহারা কৃষকরা। শুধুমাত্র পিঁয়াজ নয়, টমেটো, আলু, সোয়াবিন এমনকী ফলমূলের দামও মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। দীপাবলির উৎসবের সময়ে এই দুঃখ যেন আরও গভীর হয়ে উঠেছে গ্রামীণ মহারাষ্ট্রে।

এশিয়ার বৃহত্তম পিঁয়াজ বাজার লাসালগাঁও এপিএমসি (Lasalgaon APMC)। সেখানে গত সপ্তাহে পিঁয়াজের দাম ছিল কুইন্টালপ্রতি গড়ে ১০৫০ টাকা (প্রতি কেজি ১০.৫ টাকা)। অথচ সপ্তাহ ঘুরতেই সেই দাম নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। এপিএমসির এক সদস্য বলেন, “এই গ্রীষ্মে (মার্চ-এপ্রিল) আমরা প্রচুর ফলন পেয়েছিলাম। অনেক কৃষক তখন দাম আরও বাড়বে ভেবে বিক্রি করেননি। সংরক্ষণ করে এখন বাজারে আনছেন। কিন্তু নাসিক অঞ্চলে বৃষ্টির জন্য প্রায় ৮০% ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি যেটুকু আছে, সেটাও নিম্নমানের। ফলে এখন বিক্রি হচ্ছে খুব কম দামে।”

কৃষকদের বক্তব্য, সরকারের নীতির জন্যই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে সরকার হঠাৎ পিঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের জায়গা দখল করে নেয় অন্য দেশগুলো। যদিও পরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, কিন্তু তখন পর্যন্ত ভারত তার স্থায়ী ক্রেতাদের হারিয়ে ফেলে। কৃষকদের প্রশ্ন, “যখন দাম বাড়ে, সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। তাহলে যখন দাম পড়ে যায়, তখন কি সরকারের দায়িত্ব নয় কৃষকদের কাছ থেকে ভালো দামে পণ্য কেনা?” সুদাম ইঙ্গেলের (Sudam Ingle) হিসেবে, তিনি ৩৯৩ কেজি পিঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৩ টাকা কেজি দরে, ২০২ কেজি ২ টাকায়, এবং ১৪৬ কেজি ১০ টাকায়। সবমিলিয়ে পেয়েছেন ১,৭২৯ টাকা। কিন্তু পরিবহণ খরচ বাদ দিলে হাতে থাকে মাত্র ৬৬৪ টাকা। তাঁর কথায়, “এই টাকায় আমি কী করব? ঋণ শোধ করব, না সংসার চালাব?” এই হতাশা শুধুমাত্র পুনে নয়, সমগ্র মহারাষ্ট্রের কৃষিজীবনের ছবি। কৃষক সংগঠনগুলির দাবি, সরকার কেবল মুখে কৃষকদের পাশে থাকার কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে ফড়েদের দৌরাত্ম্য, বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন দাম, এবং কোল্ড স্টোরেজের অভাব, সব মিলিয়ে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে। অন্য এক কৃষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকভাবে বলেন, “বাজারে পিঁয়াজের দাম খুচরোতে ৩০ টাকা কেজি। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২-৩ টাকায়। এই ফারাকটা কোথায় যাচ্ছে? মধ্যস্বত্বভোগীরা সব খেয়ে নিচ্ছে, সরকার চুপ।”

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ সতেরো-তম কিস্তি)

অর্থনীতিবিদদের মতে, মহারাষ্ট্রের কৃষি খাত ক্রমশ লোকসানের দিকে যাচ্ছে কারণ সরকারের কৃষিপণ্য মূল্যের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। মূল্যনির্ধারণ, রপ্তানি নীতি ও ফসল সংরক্ষণের পরিকাঠামো, সবেতেই ঘাটতি প্রকট। দীপাবলির উৎসবের সময় যখন শহরে আলো আর আনন্দে ভরপুর, তখন গ্রামের ঘরে ঘরে নেমেছে অন্ধকার। কৃষকদের হাতে নেই টাকা, নেই আশা। সুদামদের এই কান্না যেন আজ এক অদৃশ্য বার্তা, অর্থনীতির উন্নতি তখনই অর্থপূর্ণ, যখন দেশের অন্নদাতার মুখে হাসি ফোটে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Kisan Pension Yojana 2025 | কৃষকের বার্ধক্যে ভরসা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘PM Kisan Pension Yojana 2025’ আনছে বিপ্লব

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন