Indian Air Force global ranking | চীনকে পিছনে ফেলে বিশ্বে তৃতীয় শক্তিশালী বিমানবাহিনী ভারত! আন্তর্জাতিক রিপোর্টে গর্বের জায়গায় ভারতীয় এয়ার ফোর্স

SHARE:

বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিশ্বের সামরিক শক্তির মানচিত্রে ভারত আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মূল্যায়ন সংস্থা World Directory of Modern Military Aircraft (WDMMA) -এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনীর তালিকায় ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) আমেরিকা (United States) ও রাশিয়া (Russia)-এর পরেই জায়গা করে নিয়েছে। অর্থাৎ, ভারত এবার চীনকে (China) পিছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এই ফলাফল শুধু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কাছেই নয়, সাধারণ ভারতীয়দের কাছেও এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

এই সংস্থাটি প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা, অস্ত্রের মান, পাইলটদের প্রশিক্ষণ, কৌশলগত প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অভিযানের ক্ষমতা বিচার করে ‘Air Power Index’ প্রকাশ করে। চলতি বছরের তালিকায় ভারতীয় বিমানবাহিনী পেয়েছে ১৩.৪ পয়েন্ট, যেখানে চীনের বিমানবাহিনীর স্কোর ১৩.১। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে সর্বোচ্চ ৮৩.০ এবং রাশিয়া ৭০.০। WDMMA -এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনী বর্তমানে ১,৬০০টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের (France) তৈরি রাফাল (Rafale), রাশিয়ার (Russia) মিগ-২৯ (MiG-29), সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30MKI) ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস (Tejas) যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি, আধুনিক রাডার ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতাও ভারতীয় বিমানবাহিনীকে বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এয়ার মার্শাল অনিল চোপড়া (Air Marshal Anil Chopra) বলেন, “এটি শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গর্বের বিষয়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নিয়মিত আধুনিকীকরণের ফলেই আজ এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “চীনের বিমানবাহিনী সংখ্যায় বড় হতে পারে, কিন্তু গুণগত মানে ভারত এগিয়ে।”

চীনের বিমানবাহিনীর (People’s Liberation Army Air Force) তুলনায় ভারতের একটি বড় সুবিধা হলো প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল রেডিনেস। ভারতের পাইলটরা বিশ্বের অন্যতম দক্ষ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ভারতের বায়ুসেনা প্রতি বছর বহু আন্তর্জাতিক যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়, যেমন ‘গরুডা এক্সারসাইজ (Garuda Exercise)’ ফ্রান্সের সঙ্গে, ‘কোপ্র ইন্ডিয়া (Cope India)’ আমেরিকার সঙ্গে এবং ‘অভিয়াল এক্সারসাইজ (Avial Exercise)’ রাশিয়ার সঙ্গে। এসব মহড়া ভারতের যুদ্ধ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা (Ajai Shukla) বলেন, “ভারতের বিমানবাহিনী বর্তমানে তিনটি ফ্রন্টে প্রস্তুত চীন, পাকিস্তান এবং সমুদ্র সীমা রক্ষা। এর ফলে, ভারতীয় বায়ুসেনার প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত পরিধি অন্য অনেক দেশের তুলনায় বিস্তৃত।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যেই ‘অ্যাটম্যানির্ভর ভারত (Atmanirbhar Bharat)’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয়ভাবে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, মিসাইল ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৭০% প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদন হবে। এ নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু আত্মনির্ভরতা নয়, বরং রপ্তানির মাধ্যমে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’কে (Make in India) বিশ্ব ব্র্যান্ডে পরিণত করা।”

উল্লেখযোগ্য বিষয়, ভারতীয় বিমানবাহিনী বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এয়ারফোর্স। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির বাইরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ পাঠানো, আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, সবক্ষেত্রেই এর ভূমিকা প্রশংসনীয়। ২০২৪ সালের উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) পাহাড় ধস, ২০২৩ সালের সিলিকন ভ্যালি বিমান উদ্ধার এবং বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের ‘অপারেশন কাবেরি (Operation Kaveri)’ -তে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিল বায়ুসেনা। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দিক খুলে দেবে। এটি শুধু আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াবে না, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক শক্তির ক্ষেত্রেও ভারতের অবস্থান দৃঢ় করবে।চীনের সঙ্গে লাদাখ (Ladakh) সীমান্তে টানাপোড়েনের সময়ে ভারতীয় বায়ুসেনা যে প্রস্তুতির উদাহরণ দেখিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচিত। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই দক্ষতা ও আধুনিক কৌশলই চীনকে পিছনে ফেলতে সাহায্য করেছে। বিশ্বের বায়ুসেনাগুলোর মধ্যে ভারতের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, ভারতের প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার দিক থেকেও এটি এক বড় মাইলফলক।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ ষোল-তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন