মেধা পাল ★সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আবারও তুলে ধরলেন তাঁর গভীর ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। প্রতিবছরের মতো এই বছরও মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো। ৪৮ বছর পূর্ণ করল এই পারিবারিক পুজো, যা এখন রাজ্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে ভক্তি, সহমর্মিতা এবং মানবতার বার্তায়।
দীপাবলিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠনা ফুটে মন”। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, “এই বছর আমার বাড়ির কালীপুজো ৪৮তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আমার জীবনের আনন্দ-বেদনায়, সুদিনে-দুর্দিনে আমি বিশ্বাস ও ভক্তির সাথে ধৈর্যের আশ্রয় নিয়েছি মা কালীর রাতুল চরণে।”

রাজ্য রাজনীতির ঝঞ্ঝাট, প্রশাসনিক ব্যস্ততা, সবকিছু ছাপিয়ে এই একদিনে মুখ্যমন্ত্রী যেন হয়ে ওঠেন এক সাধারণ ভক্ত, যিনি মা ভবতারিণীর (Bhabatarini) চরণে নতজানু। তিনি লিখেছেন, “বিগত বছরগুলির মতো এই বছরও, আমি উপবাসে থেকে মা ভবতারিণীর জন্য ভোগ প্রস্তুত করেছি। আমি ভক্তি-সহযোগে অন্তর থেকে সেই মা দিগম্বরীকে আহ্বান জানিয়েছি, যিনি আমাদের সবার বল ও শক্তি প্রদান করেন।” উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির এই কালীপুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, এক সামাজিক উৎসব। প্রতিবছরই দেখা যায়, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই এসে মিলিত হন কালীঘাটের এই ঐতিহ্যবাহী আরাধনায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পুজোর প্রতিটি পর্বে অংশ নেন, ভোগ প্রস্তুত থেকে প্রণাম, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন থেকে প্রসাদ বিতরণ, সবেতেই তাঁর ব্যক্তিগত স্পর্শ থাকে।

এই বছরেও তিনি লিখেছেন, “শুভ দীপাবলির এই পুণ্যলগ্নে বাংলার আপামর জনতার উপর বর্ষিত হোক মায়ের অপার স্নেহ, মায়ের কাছে এই প্রার্থনা আমার। তিনি যেন সবার জীবনে সুখ, স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ করেন। মা কালীর করুণাধারায় মুছে যাক সব অন্ধকার, সব হিংসা-বিদ্বেষ।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তায় স্পষ্ট, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ধর্ম শুধুমাত্র আচার নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক ঐক্যের শক্তি। তিনি লিখেছেন, “দীপের আলোয় আলোকিত হোক বঙ্গবাসীর জীবন, প্রদীপ-শিখার পরশে জেগে উঠুক ভালোবাসা ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন।”
প্রতি বছর মুখ্যমন্ত্রীর এই বাড়ির কালীপুজোকে ঘিরে রাজ্যবাসীর মধ্যে থাকে প্রবল আগ্রহ। প্রশাসনিক দিক থেকেও নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভক্তদের দীর্ঘ সারি, পুজোর আলোকসজ্জা, মায়ের অলঙ্করণ সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমোর কালীঘাটের এই বাড়ির পুজোর সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মা, প্রয়াত প্রমিলারানি বন্দ্যোপাধ্যায় (Promilarani Banerjee)। সেই ঐতিহ্য এখনও বজায় রেখে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। পারিবারিক আবেগে জড়ানো এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত মুখ্যমন্ত্রীর অসংখ্য স্মৃতি। এমনকি প্রশাসনিক দায়িত্বে যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, এই একদিন তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন গৃহিণী ও ভক্তের রূপে। পুজোর আগের দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নিজ হাতে পুজোর প্রস্তুতি নেন। মায়ের সামনে প্রদীপ জ্বালানো, পুষ্পার্চনা, ভোগ নিবেদন, সবকিছুই করেন ভক্তি সহকারে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই দিনটিতে তিনি কারও সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করেন না, বরং দিনভর কাটান পুজো ও প্রার্থনায়।

এই বছরের পুজোয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় এক গভীর মানবিক আবেদন। “সব হিংসা-বিদ্বেষ মুছে যাক”, এই কথাটিই যেন বর্তমান সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের একতার কথা বলেছেন।
যাঁরা আজ কালীঘাটের তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “যাঁরা আজ কালীঘাটের আমার বাড়িতে, মায়ের আরাধনায় মিলিত হয়েছেন সেই সকল বন্ধু, সহকর্মী ও নানা শুভানুধ্যায়ী যাঁরা আমার পরিবারের মতো, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। সবাইকে কালীপুজো ও শুভ দীপাবলির শুভনন্দন!” উল্লেখ্য যে, দীপাবলির আলোয় ভাসছে সমগ্র রাজ্য, আর সেই আলোয় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা যেন আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে ভক্তি ও মানবতার মেলবন্ধনকে। কালীঘাটের এই পুজো শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত বিশ্বাসই নয়, তা বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে ৪৮তম কালীপুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন ভক্তি ও মানবতার বার্তা, “আমার মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠনা ফুটে মন।”
West Bengal CM Mamata Banerjee celebrates the 48th year of her Kalighat house Kali Puja. Her heartfelt message “Amar mayer payer jaba hoye uthona phute mon” reflects faith, unity, and humanity.



