Delhi Diwali Pollution | দীপাবলির পর ধোঁয়ায় ঢেকেছে দিল্লি, AQI ছাড়াল ৩৪৫: বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, কার্যকর GRAP-এর দ্বিতীয় ধাপ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দীপাবলির (Diwali) উৎসবের আনন্দ শেষ হতেই ফের ঘন ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে গেল রাজধানী দিল্লি (Delhi)। বুধবার সকালে দিল্লির আকাশে নেমে আসে ঘন কুয়াশা ও দূষণের দমবন্ধ পরিবেশ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (Central Pollution Control Board – CPCB) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের বায়ু মানের সূচক (Air Quality Index – AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪৫, যা ‘খুব খারাপ’ (Very Poor) শ্রেণির মধ্যে পড়ে।

দিল্লির একাধিক অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ভোর ৬টা নাগাদ অশোক বিহার (Ashok Vihar), বাওয়ানা (Bawana) এবং দিলশাদ গার্ডেনে (Dilshad Garden) একিউআই প্রায় ৩৮০ পৌঁছয়। অন্যদিকে, আইজিআই বিমানবন্দর (IGI Airport), ডিটিইউ (DTU) ও লোধি রোডে (Lodhi Road) AQI ছিল ৩০০-র নিচে, যা ‘খারাপ’ (Poor) শ্রেণির মধ্যে ধরা হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারও শহরের চারটি মনিটরিং স্টেশন : দ্বারকা (Dwarka) ৪১৭, উজিরপুর (Ujierpur) ৪২৩, আনন্দ বিহার (Anand Vihar) ৪০৪ এবং অশোক বিহার (Ashok Vihar) ৪০৪ পৌঁছেছিল ‘গুরুতর’ (Severe) দূষণের পর্যায়ে। CPCB-এর SAMEER অ্যাপে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় একিউআই মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ছিল ৩৪৫, যা রবিবারের ৩২৬ থেকে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি প্রশাসন ইতিমধ্যেই কার্যকর করেছে Graded Response Action Plan (GRAP)-এর দ্বিতীয় ধাপ। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department – IMD) এবং ভারতীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া ইনস্টিটিউটের (Indian Institute of Tropical Meteorology – IITM) পূর্বাভাসের ভিত্তিতে।

ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম (Decision Support System – DSS) জানিয়েছে, সোমবার দিল্লির মোট দূষণের ১৫.৬% অবদান এসেছে যানবাহনের ধোঁয়া থেকে, যখন শিল্প ও অন্যান্য উৎসের অবদান ২৩.৩%। অর্থাৎ, যানবাহন, নির্মাণকাজ, শিল্প নিঃসরণ এবং আতশবাজির প্রভাবে রাজধানীর বাতাসে জমছে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কণিকা (PM 2.5 এবং PM 10)। সূত্রের খবর, দিল্লিবাসী ইতিমধ্যেই শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা, ও চোখ জ্বালার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাগর (Sagar) বলেন, “দূষণ কেবল আজ নয়, বছরের পর বছর ধরে বাড়ছে। সবাই রাজনীতিবিদদের দোষ দেয়, কিন্তু মানুষ নিজেরাই দায়ী। আতশবাজি ফাটানো একটি পছন্দ—তারপর সবাই অভিযোগ করে সরকার কিছু করছে না।”

মঙ্গলবার সকালের দৃশ্য আরও ভয়াবহ ছিল। অক্ষরধাম (Akshardham) মন্দিরের উপরে ঘন ধোঁয়া ছেয়ে যায়, দূর থেকে প্রায় দেখা যাচ্ছিল না। শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে যান চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR)-এ শুধুমাত্র “সবুজ বাজি” (Green Crackers) বিক্রি ও ফাটানো যাবে এবং সেটিও সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত, এবং দীপাবলির আগের দিন ও উৎসবের দিন রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কতটা মানা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েকদিনে দিল্লির বায়ুর মান আরও অবনতি হতে পারে, কারণ বাতাসের গতি কম থাকায় দূষণ ছড়িয়ে না গিয়ে আটকে থাকছে নিচু স্তরে। IMD সূত্রে খবর, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ধোঁয়াশা ও ‘ভেরি পুওর’ (Very Poor) স্তরের AQI অব্যাহত থাকবে। সিপিসিবি একিউআইকে ছয়টি শ্রেণিতে ভাগ করেছে : ‘ভালো’ (0-50), ‘সন্তোষজনক’ (51-100), ‘মাঝারি’ (101-200), ‘নিরাপদ’ (201-300), ‘খুব খারাপ’ (301-400) এবং ‘গুরুতর’ (401-500)। বর্তমানে দিল্লি পুরোপুরি ‘খুব খারাপ’ অঞ্চলে অবস্থান করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছেন যতটা সম্ভব ঘরের বাইরে কম বেরোতে, মাস্ক ব্যবহার করতে, এবং সকালের হাঁটা বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে। বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং হাঁপানি বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিপজ্জনক বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (AIIMS) চিকিৎসকরা। দূষণ রোধে প্রশাসন ধুলো নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা, এবং বর্জ্য পোড়ানোয় কড়া নজরদারি শুরু করেছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিল্লির এই চক্রাকার দূষণ থেকে মুক্তি পেতে হলে জনসচেতনতা ও যৌথ নাগরিক উদ্যোগই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ সতেরো-তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন