11th Starship test flight, পৃথিবী অর্ধ পরিক্রমায় সফল স্টারশিপের ১১তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ টেক্সাস : টেক্সাসের দক্ষিণ সীমানা থেকে সন্ধ্যার আকাশে শোনা গেল গর্জন স্পেসএক্স (SpaceX) আজ তার বিশালতম ও সর্বশক্তিশালী রকেট স্টারশিপ (Starship) -এর ১১তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চালু করেছে। এই মিশনের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অর্ধেক প্রদক্ষিণ করা অর্থাৎ, মহাকাশে পৌঁছে পৃথিবীর অর্ধেক ঘুরে নেমে আসা। কার্যত, এটি একটি বৈপ্লবিক বিমানচলাচলের চিহ্ন হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

রাত ৬:২৩ p.m. CDT সময় (টেক্সাস) স্টারশিপের উড়ান শুরু হয় স্পেসএক্সের স্টারবেস (Starbase) থেকে। প্রথম ধাপে রকেটের সুপার হেভি (Super Heavy) বুস্টার আলাদা হয়ে গালফ অব মেক্সিকোতে– মূল স্টারশিপ অংশটি ভারত মহাসাগরের দিকে যাত্রা করে এবং এক পর্যায়ে সেটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। শেষ অবধি কোনও অংশই পুনরুদ্ধার করা যায়নি। মিশনের পরিকল্পনায় ছিল, নকল স্টারলিংক উপগ্রহ (mock Starlink satellites) আটটি উৎক্ষেপণ করা ও মহাকাশে ইঞ্জিন পুনরায় সক্রিয় করার পরীক্ষা নেওয়া। নতুন উত্তাপ প্রতিরোধী প্যানে কিছু অংশই intentionally সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল যাতে দৃঢ়তা ও পুনর্ব্যবহারে ব্যবহৃত প্রযুক্তির মান যাচাই করা যায়। এইবারের বুস্টারটিতে ২৪টি ফ্লাইট-প্রমাণিত র‍্যাপ্টর (Raptor) ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। 

এই উড়ান ছিল Block 2 ধরণের স্টারশিপ-এর শেষ পরীক্ষা পরবর্তী ধাপ হবে Block 3 সংস্করণে যাত্রা।  নাসাও এ মিশনকে মোন্দল করে দেখে, বিশেষ করে Artemis চন্দ্র অভিযান এবং ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানের জন্য এই রকেটকে অত্যাবশ্যক বলে অভিষিক্ত করেছে। স্পেসএক্স প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েল (Gwynne Shotwell) ইঙ্গিত দিয়েছেন, উন্নত মডেলের স্টারশিপ সন্নাগত সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে হয়ত ২০২৫ বা ২০২৬ সালের মধ্যে। NASA-র দৃষ্টিকোণ থেকে, ১২৩ মিটার (৪০৩ ফুট) উচ্চতার এই স্টারশিপ ছাড়া যুগের শেষ নাগাদ চাঁদে মানুষ পাঠানো সম্ভব হবে না। 

উড়ানের সময়, ইলন মাস্ক(Elon Musk) স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাধারণভাবে কন্ট্রোল রুমে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন। আজ প্রথমবার তিনি সরাসরি লাইভ দেখলেন রকেট ওঠা এবং তার গর্জন।  Musk বলেন, “Normally I’m in mission control and stuff … It’s really going to be much more visceral.” এই সফল উড়ান এসেছিল আগস্টে সফল দশম পরীক্ষামূলক মিশনের পরে যাতে স্টারলিংক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, পুনরায় ইঞ্জিন সক্রিয়করণ এবং বুস্টার ল্যান্ডিং যাচাই করা হয়েছিল। আজকের মিশনে সেই সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরও কিছু উন্নয়নমূলক পরীক্ষা করা হয়েছে। যদিও যেকোনও অংশই উদ্ধার করা যায়নি, তথাপি পুরো মিশন প্রায় ৬৬ মিনিট সময় ধরে সফলভাবে গিয়েছে প্রেরিত পথ, উৎক্ষেপণ, প্রত্যাবর্তন সব দিকেই সাফল্য টানা হয়েছে। 

বিশ্বের এই নতুন দ্রুততম যান পৃথিবীর ইতিহাস তৈরি করল। মানব জীবনের এক অমূল্য পরিবর্তন এই স্পেস যান. ইলন মাস্ক পৃথিবীর মানবজাতিকে আরও একধাপ এগিয়ে দিলেন।

ছবি : প্রতীকী 

আরও পড়ুন : SpaceX Dragon, Bone Cell Study | মহাকাশে হাড়ের কোষ গবেষণায় নতুন দিগন্ত, ড্রাগনের কক্ষপথ সমন্বয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন