nightfall in women | রাতের স্বপ্নে নীরব আনন্দ: মহিলাদের ঘন ঘন নাইট ফলস কী, কতটা স্বাভাবিক, আর কী ক্ষতি হতে পারে? 

SHARE:

মেধা পাল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : আজও অনেকেই স্বপ্নদোষ (Nightfall, nocturnal emission বা sleep orgasm) বলতে পুরুষদের ক্ষেত্রে ঘটে এমন একটি ঘটনা ভাবেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, মহিলারাও স্বপ্নদোষ বা ‘নাইট ফলস’ অনুভব করতে পারে। যদিও বিষয়টি গবেষণায় কম আলো পায়, তবে যা পাওয়া গেছে সেটি আমাদের বেশ কিছু জবাব দেয়, এবং কিছু প্রশ্নও রেখে যায়। উল্লেখ্য, স্বপ্নদোষ বলতে সাধারণত রাত্রে ঘুমের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন উত্তেজনা বা অর্গাজম হওয়া বোঝায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই নির্গমন (ejaculation) হিসেবে দেখা যায়, তবে মহিলার ক্ষেত্রে এটি অর্গাজম বা যোনি থেকে স্রাব (vaginal lubrication) হিসেবে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই কোনও বাহ্যিক ‘চিহ্ন’ থাকে না, তাই মহিলা নিজেই অনুভব করেন শুধু উত্তেজনা, মোশন, বা ঘুম থেকে জেগে অনুভব করেন যে “কোনও কিছু হয়েছে’, ফলস্বরূপ বিষয়টি প্রমাণ করতে বা পরিমাপ করতে গবেষণায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

১৯৮৬ সালে জার্নাল অব সেক্স রিসার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, মহিলাদের প্রায় ৩৭ শতাংশ ৪৫ বছর হওয়ার আগেই অন্তত একবার স্বপ্নদোষ অনুভব করেছেন। আরও একটি গবেষণা দাবি করে, অনেক নারী ২১ বছর হওয়ার আগেই এক বা একাধিক ‘স্লিপ অর্গাজম’ অনুভব করেন। একটি কলেজ মহিলাদের (female undergraduates) ওপর করা সমীক্ষায় দেখা যায়, স্নাতক পর্যায়ে (senior) মেয়েরা তুলনায় বেশি ঘুমের সময় যৌন উত্তেজনা বা অর্গাজম অনুভব করেছেন, সম্ভাব্যভাবে উদ্বেগ ও মানসিক চাপের কারণে।

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, মেয়েদের মধ্যে ‘নাইট ফলস’ বেশি কোন বয়সে হয়? গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে কৈশোর ও যৌবনাবস্থা (প্রায় ১৫–২৫ বছর বয়স) এই ঘটনা বেশি ঘটতে পারে, কারণ তৎকালীন সময় হরমোনের ওঠাপড়া বেশি। পাশাপাশি মানসিক চাপ, যৌন নিরুদ্দেশাবস্থা (sexual drought), ঘুমের অবস্থা ও স্বপ্নেরগুণও ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু মহিলাদের ঘন ঘন নাইট ফলস বা স্বপ্নদোষ কী ক্ষতিকর হতে পারে? গবেষণাগুলিতে সরাসরি বলা কঠিন। কারণ, স্বপ্নদোষ সাধারণত স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, মানে কোন সমস্যা নয়।

অনেক নারী এজন্য সমস্যায় পড়েন, ‘এটি কি সাধারণ ব্যাপার? আমার শরীরে কি ভুল কিছু হচ্ছে?’ ইত্যাদি ভাবনা। কারণ গবেষণা কম হওয়ায় বিষয়টি অনেক সময়ে ট্যাবু হয়ে যায়। একটি প্রতিবেদন এক নারী (Kate, 28) কে উদ্ধৃত করে বলেছে যে, ‘একটি ঘুম oorgasm অনুভব করা মানে বৈজ্ঞানিকভাবে নারীদের প্রতি বৈষম্য (scientific sexism) দেখানো হচ্ছে, যেন মহিলাদের পুরুষদের মতো স্বপ্নদোষ হতে পারেন না!’ কোনও কোনও ক্ষেত্রে, স্বপ্নদোষ অনুভব করলে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে, হঠাৎ জেগে ওঠা, ঘাম, দ্রুত শ্বাস, শরীর কম্পিত হওয়া ইত্যাদি। এ ধরনের উত্তেজনা ঘুমের গুণকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও সরাসরি গবেষণা সীমিত।

অনেক সময় সামাজিক এবং ধর্মীয় বিশ্বাস, গূঢ় নানা কথাবার্তা, গোপন কারণ ভুল তথ্যের দিক নির্দেশ করে। কেউ ভাবেন এটি ‘অশুদ্ধ’ বা ‘শরীরের ক্ষতি’ হবে। যা মানসিক ও আত্মবিশ্বাসিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বাস্থ্যের দিক থেকে ঘন ঘন ‘নাইট ফলস’ (স্বপ্নদোষ) -এর কোনও দৃঢ় প্রমাণিত শারীরিক ক্ষতি নেই। যদি কেউ এই বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, মানসিক চাপ অনুভব করেন, অথবা স্বপ্নদোষ ঘন ঘন হয় তবে স্বাভাবিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়। তবে বিশেষজ্ঞ, যৌন স্বাস্থ্য চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিৎ।

মস্তিষ্ক ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলি কার্যকর হয় REM (Rapid Eye Movement) ঘুমের পর্যায়ে। এই পর্যায়ে শিরাপর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্তসঞ্চালন ঘটে, ফলে যোনিসহ লিঙ্গে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, এটি যৌন উত্তেজনাকে উৎসাহ দিতে পারে। কিছু সময়ে খাট বা চাদর স্পর্শ, শরীরের অবস্থা, ঘুমের আসন, শ্লীলতা ইত্যাদিও উত্তেজনায় অবদান রাখতে পারে। শোআন গোনের একটি ধরণ হল, Nocturnal Clitoral Tumescence (NCT) বা ঘুমের সময় ক্লিটোরাস উত্তেজনায় বৃদ্ধি, যা প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ স্বপ্নদোষ-এর ঘটনা ঘটতে পারে বলে গবেষকরা দেখেছেন। একই সঙ্গে একটি সাম্প্রতিক গবেষণা ‘Exercise-Induced Orgasm (EIO)’ ও ‘sleep orgasms’ -এর মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছে। তারা দেখেছে, যারা কখনও ব্যায়ামের সময় অর্গাজম অনুভব করেছেন, তাদের মধ্যে ঘুমের অর্গাজম অনুভব করার সম্ভাব্যতা একটু বেশি ছিল।

তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, এই স্বপ্নদোষ আমাদের যৌন স্বাস্থ্যে কী বার্তা দেয়? যদি কোনও নারী এই ঘটনা অনুভব করেন, তাহলে প্রথম কথা, এটা অপরাধ বা ‘অশুদ্ধ’ নয়। এটা একটি শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। যদি ইচ্ছা হয়, বিষয়টি diary রাখা যেতে পারে: কখন, কত ঘন, কখন বেশি হয়, স্বপ্নের ধরণ ইত্যাদি। এ ধরনের নথিবদ্ধতা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শে সহায়ক হবে।

কিছু পরামর্শ 

>মানসিক চাপ কমানোর অনুশীলন, ধ্যান, হালকা ব্যায়াম, শিথিল অবস্থা তৈরি করা।

>ঘুম নির্দিষ্ট ভাল পরিবেশ তৈরি, আনন্দদায়ক এবং স্বাধীন ঘুমের পরিবেশ।

>খুব ঘন ঘন হলে এবং বিরক্তিকর হলে, একজন গাইনোকলজিস্ট (gynecologist) বা যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে জানানো।

>সঠিক যৌন শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার সূচনা, সামাজিকভাবে ট্যাবু ভাঙা।

মহিলাদের ঘন ঘন নাইট ফলস স্বপ্নদোষ সাধারণত  সাধারণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে যদি তা কোনও মানসিক অথবা দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাহলে উপযুক্ত চিকিৎসা বা পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Smriti Mandhana 5000 runs record, Women’s ODI World Record | স্মৃতি মান্ধানার ব্যাটে বিশ্বকাঁপানো রেকর্ড, কোহলি-ধোনিদের ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন