সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ৮ অক্টোবর ২০২৫: ২০২৫ সালের হতাশাজনক আইপিএল মরশুমের পর নতুন করে দল গোছাতে চলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders – KKR)। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির চোখ এখন আইপিএল ২০২৬-এর মেগা নিলামে, যেখানে তাদের হাতে থাকবে একটি বড় সুযোগ, নতুন করে ভারসাম্য আনার এবং পুনর্গঠিত স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামার। সূত্রের খবর, বাজেট ও বিদেশি কোটা খালি রাখতে কেকেআর পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে। সম্ভাব্য নামগুলির তালিকায় রয়েছেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার (Venkatesh Iyer), অজিঙ্ক রাহানে (Ajinkya Rahane), কুইন্টন ডি কক (Quinton de Kock), রহমানউল্লাহ গুরবাজ (Rahmanullah Gurbaz) এবং স্পেন্সার জনসন (Spencer Johnson)।
ফ্র্যাঞ্চাইজির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, “গত মরশুমে দল অনেক ক্ষেত্রেই ভারসাম্য হারিয়েছে। টপ অর্ডার ও ফাস্ট বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা না থাকায় ম্যাচে ম্যাচে নতুন কম্বিনেশন ব্যবহার করতে হয়েছে। এবার লক্ষ্য হল, একটি স্থিতিশীল কোর তৈরি করা।”
ভেঙ্কটেশ আইয়ার
২৩.৭৫ কোটি টাকায় ধরে রাখা ভেঙ্কটেশ আইয়ার (Venkatesh Iyer) ২০২৫ সালের আইপিএলে একেবারেই নিজের ছন্দে ছিলেন না। ১১ ম্যাচে মাত্র ১৪২ রান, গড় ২০.২৯- এই পরিসংখ্যান একজন প্রিমিয়াম অলরাউন্ডারের জন্য যথেষ্ট হতাশাজনক। ব্যাটে রান নেই, বলেও তিনি প্রভাব ফেলতে পারেননি।
কেকেআর ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, এই দামে আইয়ারকে ধরে রাখা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নয়। তা তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর কম অর্থের বিনিময়ে পুনরায় দলে ফিরিয়ে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। দলের এক সদস্য বলেন, “আইয়ার আমাদের পরিকল্পনায় ছিল, কিন্তু বর্তমান দামে ও পারফর্মেন্সে তাকে রাখা কঠিন। তিনি রিলিজ হতে পারেন।”
কুইন্টন ডি কক ঝলক ছিল, ধারাবাহিকতা নেই
কুইন্টন ডি কক (Quinton de Kock) ২০২৫ মরশুমে ৮ ইনিংসে ১৫২ রান করলেও ধারাবাহিক ছিলেন না। একমাত্র উজ্জ্বল ইনিংস ছিল অপরাজিত ৯৭ রানের। তার বাইরে ব্যর্থতা ঘিরে ধরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার এই উইকেটকিপার ব্যাটারকে। কেএল রাহুল (KL Rahul) -এর সম্ভাব্য আগমন এবং রহমানউল্লাহ গুরবাজ (Rahmanullah Gurbaz) –এর উপস্থিতিতে উইকেটকিপিং বিকল্প যথেষ্ট। ফলে, ৩.৬ কোটি টাকায় কেনা ডি কককে ছেড়ে দিলে কেকেআরের একটি মূল্যবান বিদেশি স্লট খালি হবে, যা তারা নতুন ফিনিশার বা অলরাউন্ডারে বিনিয়োগ করতে পারবে।
অজিঙ্ক রাহানে : অভিজ্ঞতা আছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
২০২৫ সালে শ্রেয়স আইয়ারের অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন অজিঙ্ক রাহানে (Ajinkya Rahane)। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার মৌসুম শুরু করেছিলেন একটি ৫৬ রানের আশাব্যঞ্জক ইনিংস দিয়ে, কিন্তু পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ছন্দ হারিয়ে ফেলেন। যদি কেকেআর কেএল রাহুলকে (KL Rahul) অধিনায়ক ও টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে যুক্ত করতে সক্ষম হয়, তাহলে রাহানের ১.৫ কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট প্রশ্নের মুখে পড়বে। দলের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেন, “রাহানের নেতৃত্বদানের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে মূল্যবান, কিন্তু আমরা এখন নতুন যুগে প্রবেশ করছি। দলে তরুণদের জায়গা দিতে হবে।”
রহমানউল্লাহ গুরবাজ : প্রতিভা আছে, কিন্তু সংখ্যা বলছে ভিন্ন কথা
২০২৫ মরশুমে রহমানউল্লাহ গুরবাজ (Rahmanullah Gurbaz) -এর ব্যাটে রান আসেনি। পাঁচ ম্যাচে মোটে ৯২ রান, গড় ১৮.৫। স্ট্রাইক রেট যদিও ১৩৯.৬২ ছিল, কিন্তু শুরুটাকে বড় ইনিংসে পরিণত করতে পারেননি কখনও। যদি কেকেআর কেএল রাহুলকে উইকেটকিপার হিসেবে নেয়, তাহলে গুরবাজের জায়গা কার্যত অনিশ্চিত। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিদেশি কোটায় আরও প্রভাবশালী বোলার বা ফিনিশার আনার দিকেই মন দিতে পারে।
স্পেন্সার জনসন : প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার স্পেন্সার জনসন (Spencer Johnson) ২.৮ কোটি টাকায় দলে এলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ইকোনমি রেট বেশি, উইকেট কম, যা ম্যানেজমেন্টকে হতাশ করেছে।
দলের সূত্র অনুযায়ী, “জনসনকে আমরা এক্স-ফ্যাক্টর পেসার হিসেবে এনেছিলাম, কিন্তু ভারতের কন্ডিশনে ওর প্রভাব দেখা যায়নি। এখন আমাদের এমন বোলার দরকার যে মাঝের ওভারেও ব্রেকথ্রু দিতে পারে।”
নজরে কেএল রাহুল! নতুন যুগের সূচনা?
কেকেআরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় নাম এখন কেএল রাহুল (KL Rahul)। যদি এই তারকা ব্যাটার দলে যোগ দেন, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল টপ অর্ডার পাবে। রাহুলের নেতৃত্বে ব্যাটিং অর্ডার গঠিত হলে, কেকেআর আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো ভারসাম্য খুঁজে পেতে পারে। কেকেআর ম্যানেজমেন্ট সূত্রের দাবি, “রাহুল এমন এক ক্রিকেটার যিনি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নতুন দিশা দিতে পারেন। তিনি একজন লিডার, টেকনিক্যাল ব্যাটার এবং কিপার, তিন ভূমিকাতেই মানানসই,”
কেকেআর ম্যানেজমেন্ট এখন একটি বড় প্রশ্নের মুখে, তারা কি অভিজ্ঞদের ধরে রাখবে, নাকি নতুন মুখে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ করবে? ২০২৫ মরশুমের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি সম্ভবত দ্বিতীয় পথেই হাঁটবে।মেগা নিলামের আগে রিলিজ করা এই পাঁচ তারকার মাধ্যমে কেকেআর প্রায় ৩৫ কোটি টাকার তহবিল খালি করতে পারবে, যা নতুন বিদেশি স্ট্রাইক বোলার, পাওয়ার হিটার এবং ফিনিশার আনার সুযোগ করে দেবে। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ মরশুমের জন্য কেকেআর যে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে তা নিঃসন্দেহে সাহসী। ভক্তরা চাইবে, নতুন নেতৃত্বে এই দল আবারও ২০১২ এবং ২০১৪ সালের সেই গৌরবময় দিনগুলো ফিরিয়ে আনুক।
ছবি : সংগৃহীত




