FIFA World Cup 2026 Trihonda ball | ট্রাইওন্ডা: প্রকাশ্যে এল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নিউ ইয়র্ক : নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন পার্কে জমকালো আয়োজনে অবশেষে উন্মোচন হল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল। বলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trihonda)। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রতীক্ষিত এই মুহূর্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলাদা আবহ, যেখানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি পাঁচ বিশ্বকাপজয়ী তারকা, জার্মানির য়ুরগেন ক্লিন্সম্যান (Jurgen Klinsmann), ব্রাজিলের কাফু (Cafu), ইতালির দেল পিয়েরো (Del Piero), স্পেনের জ়াভি (Xavi) এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান (Zinedine Zidane)।

Read KL Rahul century, Dhruv Jurel hundred, India vs West Indies Test 2025 | শতরানের উৎসব: মেয়েকে উপহার রাহুলের, সেনাকে উৎসর্গ জুরেলের সেঞ্চুরি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ আবহ তৈরি হয় যখন জিদানের হাতে ধরা ছিল নতুন বল ‘ট্রাইওন্ডা’, আর অন্য চারজন তারকার হাতে ছিল সেই সেই বছরের বল, যে বছর তাঁরা বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। মুহূর্তটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক অন্যরকম আবেগের বার্তা বয়ে আনে। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ বল তৈরির দায়িত্ব এবারও পেয়েছে ক্রীড়াসরঞ্জাম প্রস্তুতকারক জায়ান্ট অ্যাডিডাস (Adidas)। ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বকাপের বল তৈরির দায়িত্ব পালন করছে তারা, আর এবারের বলের মাধ্যমে টানা ১৫ বার এই দায়িত্ব পূর্ণ করল সংস্থাটি।ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো (Gianni Infantino) নতুন বলের উদ্বোধনে বলেন, “২০২৬ সালের বিশ্বকাপের বলের নকশায় প্রতিফলিত হয়েছে আয়োজক তিন দেশ: আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো। এই বল শুধু একটি খেলার সরঞ্জাম নয়, এটি তিন দেশের মিলনের প্রতীক।”

‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে দু’টি শব্দ থেকে। ‘ট্রাই’ মানে তিন এবং ‘ওন্ডা’ মানে ঢেউ। নামের মধ্যেই ধরা আছে আয়োজক তিন দেশের মিলিত স্পিরিট। বলটির রঙতেও ফুটে উঠেছে একই বার্তা, লাল রঙ যুক্তরাষ্ট্রকে (USA), নীল রঙ কানাডাকে (Canada) এবং সবুজ রঙ মেক্সিকোকে (Mexico) চিহ্নিত করছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি দেশের প্রতীকও বলটিতে খোদাই করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তারা, কানাডার ম্যাপল লিফ এবং মেক্সিকোর ঈগল।

এবারের বিশ্বকাপ বলকে আরও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক সেন্সর, যা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে (VAR) নিখুঁত তথ্য সরবরাহ করবে। ফলে অফসাইড, গোললাইন প্রযুক্তি কিংবা হ্যান্ডবলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া আগের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং সহজ হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ম্যাচ পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা আরও বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে বলের বাইরের নকশায় আনা হয়েছে নতুনত্ব। বলের প্যানেলে খোদাই করে বসানো হয়েছে লোগো, যা গোলরক্ষকদের বল ধরার সময় কোনও সমস্যা তৈরি করবে না। বরং নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করবে। অ্যাডিডাসের দাবি, এটাই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম নিখুঁত এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বিশ্বকাপ বল।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে থাকছে আরও অনেক প্রথম। এ বারের আসরে অংশ নেবে রেকর্ড ৪৮টি দেশ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে আগে কখনও ঘটেনি। তাছাড়া প্রথমবার একসঙ্গে তিনটি দেশ, আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করতে চলেছে এই প্রতিযোগিতা। আগামী বছর ১১ জুন শুরু হবে এই ফুটবল উৎসব এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।প্রকাশের পর থেকেই ‘ট্রাইওন্ডা’ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্মের ভক্ত থেকে শুরু করে সাবেক তারকা সবাই বলটির নকশা এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রশংসা করছেন। জিদান (Zinedine Zidane) অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রতিটি বিশ্বকাপ বল একটি যুগের প্রতীক হয়ে ওঠে। আমি নিশ্চিত, ট্রাইওন্ডা সেই প্রতীক হয়ে উঠবে যা আগামী প্রজন্ম মনে রাখবে।”

অন্যদিকে ক্লিন্সম্যান (Jurgen Klinsmann) বলেন, “এই বল কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে মিলিয়ে তৈরি হয়েছে। তিন দেশকে একত্রে মেলানোর শক্তি এর মধ্যেই আছে।” ফুটবল ভক্তদের জন্য এই বল শুধু একটি খেলনা নয়, বরং আবেগ, স্মৃতি আর নতুন ইতিহাস তৈরির সূচনা। এখন অপেক্ষা আসর শুরু হওয়ার, আর দেখা যাক ‘ট্রাইওন্ডা’ কোন কোন মুহূর্তকে অমর করে রাখে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubho Bijoya 2025, Bijoya Dashami 2025 | শুভ বিজয়া দশমী ২০২৫: মিলন, মিষ্টি আর আবেগের উৎসব

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন