Kalna teachers humanitarian work | মানবিকতার দীপ জ্বালালেন শিক্ষিকারা, মহাপঞ্চমীতে হাসি ছড়াল কালনায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা : পূর্ব বর্ধমানের কালনা হিন্দু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষিকাদের উদ্যোগে মহাপঞ্চমীর দিনটি ভিন্নমাত্রা পেল। উৎসবমুখর দুর্গাপুজোর আবহে যখন সর্বত্র সাজসজ্জা ও আনন্দের রেশ, তখনই সমাজের প্রান্তিক মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে নজির গড়লেন শ্রীমতী কৃষ্ণা পাহাড় (Krishna Pahar), শ্রীমতী মমতা রায় চৌধুরী (Mamata Roy Chowdhury) -সহ আরও কয়েকজন শিক্ষিকা। মহাপঞ্চমীর শুভ তিথিতে কালনা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অসহায় ও দুঃস্থ শিশুদের হাতে তাঁরা নতুন বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দিলেন।

ভোগ-বিলাস ও আড়ম্বরের বাইরে গিয়ে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষদের জীবনে সামান্য হলেও আনন্দের ছোঁয়া পৌঁছে দিলেন এই শিক্ষিকারা।প্রাক্তন শিক্ষিকা শ্রীমতী কৃষ্ণা পাহাড় (Krishna Pahar) বললেন, “আমার ইচ্ছে ছিল ছোট ছোট শিশুর মুখে একটু হলেও হাসি ফোটানো। আজ সেই সুযোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখি। সমাজের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রথম দায়িত্ব।”

বর্তমান শিক্ষিকা শ্রীমতী মমতা রায় চৌধুরী (Mamata Roy Chowdhury) আবেগঘন কণ্ঠে জানালেন, “কৃষ্ণা দি আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা। তাঁর দৃঢ় মানসিকতা, নীরবে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা আমাদের সাহস জোগায়। আজ তাঁর পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গাপুজোর সময় এই ধরনের উদ্যোগ মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। দেবী দুর্গা শুধু মৃন্ময়ী নন, তিনি চিন্ময়ীও, যেখানে নারী শক্তি দয়া, মমতা ও মানবিকতার রূপে ধরা দেয়। এই শিক্ষিকাদের কর্মকাণ্ড যেন সেই বার্তাই সমাজে পৌঁছে দিল। এই মানবিক কর্মসূচী সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার ঝড় ওঠে। অনেকে মন্তব্য করেন, এ ধরনের ছোট ছোট প্রচেষ্টা সমাজকে অনেক বড় শিক্ষা দেয়। পুজোর আসল আনন্দ তো ভাগ করে নেওয়াতেই, এই ঘটনাই যেন আবার তা-ই প্রমাণ করে দিল।উল্লেখ্য, কালনা স্টেশনের চারপাশে যাদের জীবন প্রতিদিনের সংগ্রামে আচ্ছন্ন, তাদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোই শিক্ষিকাদের কাছে ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দুর্গাপুজোর ভিড়, কোলাহলের মাঝেও তাঁদের এই স্নিগ্ধ প্রচেষ্টা যেন আলো দেখালো অন্ধকারের মাঝে। কৃষ্ণা পাহাড় (Krishna Pahar) ও মমতা রায় চৌধুরী (Mamata Ray Chowdhury) -এর মতো শিক্ষিকাদের উদ্যোগ কেবল সামাজিক দায়িত্ববোধ নয়, তা আগামীর প্রজন্মকে মানবিকতার পাঠও শেখায়।

সমাজে ইতিবাচকতার আলো ছড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি প্রয়োজন। যেমন দুর্গা মায়ের আরাধনায় আমরা শক্তি ও আশীর্বাদ কামনা করি, তেমনি মর্তের দশভুজা রূপী এই নারীরাও সমাজকে সেবা ও ভালোবাসার বার্তা দিলেন। তাদের হাতে ছোট ছোট উপহার হয়তো সামান্য, কিন্তু তাতে যে অমূল্য আনন্দ সৃষ্টি হয়েছে, সেটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মানুষের জীবনে উৎসবের আনন্দ সবার জন্যই প্রাপ্য। সেই আনন্দে প্রান্তিক মানুষদের অংশীদার করতে গিয়ে যে সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি হল কালনায়, তা সমাজের কাছে নিঃসন্দেহে শিক্ষণীয়। আর এখানেই এই মহৎ কর্মকাণ্ডের বিশেষ তাৎপর্য।

আরও পড়ুন : Debprasad Bag MLA Kalna | ঐতিহাসিক দিনে কালনায় বিদ্যালয়ে টিনের সেড উদ্বোধন, ছাত্রীদের মুখে খুশির ঝলক

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন