সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নিজস্ব সংবাদদাতা, কালনা : আজকের দিনটি ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই দিনেই জন্মেছিলেন বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Ishwar Chandra Vidyasagar)। তাঁর রচিত বর্ণমালা শুধু অক্ষরের সমষ্টি নয়, আজও তা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি। ঠিক এই বিশেষ দিনে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সম্পন্ন হল এক মানবিক উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে একটি টিনের সেড নির্মাণ করে উদ্বোধন করলেন কালনার বিধায়ক শ্রী দেবপ্রসাদ বাগ (Debprasad Bag)। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে যাতে পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য এই টিনের সেড তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ (Debprasad Bag) জানান, “আমার কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবসময়ই অগ্রাধিকার পায়। কালনার ছাত্রীরা যাতে আরামে পড়াশোনা করতে পারে, সেটাই আমার প্রথম লক্ষ্য।” তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সুবিধার্থে আরও কিছু বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা তিনি নিজে করবেন। সূত্রের খবর, বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থা করেছেন বলে উল্লেখ।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, ছাত্রীরা ও অভিভাবকরা এই উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, “এতদিন রোদ বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে খুব কষ্ট হতো। এখন অন্তত একটু স্বস্তি পাব।” অন্যদিকে অভিভাবকেরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও প্রয়োজন।

শুধু শিক্ষা ক্ষেত্র নয়, কালনার সামগ্রিক উন্নয়নে বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ (Debprasad Bag) গত কয়েক বছরে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগেই ৫৫ হাজার কালনাবাসীর ঘরে পৌঁছে গিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জল (গঙ্গাজল)। একইসঙ্গে শহরের রাস্তাঘাট সংস্কার, রাস্তা প্রশস্ত করা, আধুনিক লাইটের ব্যবস্থা, জঞ্জাল মুক্ত ও উন্নত নিকাশির ব্যবস্থা, সবকিছুই বাস্তবায়িত হয়েছে তাঁর প্রচেষ্টায়। তাছাড়া কালনা অঘোরনাথ পার্কের সংস্কার, গঙ্গার ঘাটগুলোর পুনর্নির্মাণ, অস্থায়ী কাজের জন্য বিশেষ জায়গার ব্যবস্থা, পরিত্যক্ত জলাশয় পরিষ্কার করে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে রূপান্তর, সবই কালনার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার সাক্ষী। শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য আর্থিক ও নানাভাবে সহায়তা প্রদান, এই সব কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন “কালনার নব রূপকার”।

আজকের অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। ছাত্রীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মমতা রায় চৌধুরী বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের কাছে দ্বিগুণ গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন, অন্যদিকে আমাদের ছাত্রীদের জন্য এই সুন্দর সেডের উদ্বোধন।” তিনি আরও জানান, “এটি আমাদের বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল। অবশেষে আজ সেটি পূরণ হল বিধায়ক মহাশয়ের প্রচেষ্টায়।” কালনাবাসীর আস্থা
কালনার সাধারণ মানুষ মনে করেন, দেবপ্রসাদ বাগ (Debprasad Bag) তাঁদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আজকাল কালনা শহর সত্যিই বদলেছে। জল, রাস্তা, লাইট সব দিকেই উন্নয়ন হয়েছে। আর আজকের বিদ্যালয়ের কাজটা আবার প্রমাণ করে দিল উনি শিক্ষা ক্ষেত্রকেও সমান গুরুত্ব দেন।”

ঐতিহাসিক দিনে বিদ্যাসাগরের জন্মস্মৃতি আর কালনার শিক্ষা উন্নয়নের নতুন অধ্যায় যেন এক সূত্রে গাঁথা হল। বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ (Debprasad Bag) -এর এই উদ্যোগ ছাত্রীদের জীবনে স্বস্তি আনবে, আর ভবিষ্যতে তাঁদের শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে, এমনটাই আশা করছেন কালনাবাসী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News, Sunday’s Literature Special | 21st September 2025, Issue 81| সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল, ৮১




