Rajasthan newborn rescue | রাজস্থানের জঙ্গলে হৃদয়বিদারক দৃশ্য, মুখে পাথর আর আঠা দিয়ে ঠোঁট বন্ধ করা অবস্থায় জীবন্ত উদ্ধার নবজাতক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ জয়পুর : রাজস্থানের (Rajasthan) ভিলওয়ারা (Bhilwara) জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল। মাত্র ১৫ দিনের এক নবজাতককে ঘন জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। শিশুটির মুখে আঠা দিয়ে ঠোঁট আটকে দেওয়া হয়েছিল, আর মুখের ভেতররে ছোট নুড়িপাথর ভরে রাখা হয়েছিল যাতে কোনও শব্দ বা কান্না বাইরে না যায়। নির্মম এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে শিউরে উঠেছেন আশপাশের গ্রামবাসী। সূত্রের খবর, শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিলওয়ারার মণ্ডলগড় (Mandalgarh) বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিজোলিয়া (Bijolia) থানা এলাকার সীতাকুণ্ড (Sita Kund) মন্দির সংলগ্ন জঙ্গল থেকেই এই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে এক স্থানীয় পশুপালক শিশুটিকে দেখতে পান। তিনি জানিয়েছেন, দূর থেকে কান্নার শব্দ মৃদু হলেও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল না। কাছে গিয়েই দেখা যায় শিশুটির ঠোঁট আঠা দিয়ে আটকে দেওয়া, আর মুখগহ্বরের মধ্যে ছোট ছোট পাথর ঢোকানো রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাসীদের খবর দেন এবং পরে পুলিশে খবর পৌঁছায়। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা যখন শিশুটিকে উদ্ধার করি, তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। মুখে পাথর ভরে রাখা হয়েছিল দেখে শরীর কেঁপে উঠেছিল। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।” উল্লেখ্য, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি জীবিত আছে এবং তার শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও সে প্রচণ্ড মানসিক আঘাতের শিকার। দীর্ঘ সময় মুখ আটকে রাখার কারণে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি ছিল, তবে সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।

বিজোলিয়া থানার পুলিশ আধিকারিক এক বিবৃতিতে জানান, “আমরা তদন্ত শুরু করেছি। শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। নিকটবর্তী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গত কয়েক দিনের প্রসূতি মায়েদের নামের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আশপাশের গ্রামগুলোতেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।” পুলিশের অনুমান, পরিকল্পনা করেই শিশুটিকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ঠোঁট আঠা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া এবং মুখে নুড়িপাথর ভরার ঘটনা থেকে মনে করা হচ্ছে শিশুটিকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা ছিল। তবে ভাগ্যের জোরে বা স্থানীয় পশুপালকের সতর্কতার কারণে তার প্রাণ বেঁচে যায়।

স্থানীয় সমাজকর্মী মধু সিংহ (Madhu Singh) বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি অপরাধ নয়, মানবতার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর কাজ। একটি নবজাতকের মুখ আঠা দিয়ে আটকে দেওয়া মানে তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। অপরাধীদের অবশ্যই আইনের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।” উল্লেখ্য, ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ও প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে এমন নিষ্ঠুরতা সম্ভব। কিছু মানুষের মতে, পরিবার থেকেই শিশুটিকে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এর পেছনে অন্য কোনও অপরাধ বা ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে।

এমন ঘটনায় সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠছে। শিশু অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মী বলেন, “ভারতে আজও কন্যাশিশু জন্মের পর অবহেলার শিকার হয়। এই ঘটনার মধ্যে সেই অমানবিক মানসিকতার ছাপ রয়েছে। সমাজকে বদলাতে হবে, নইলে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এ ধরনের নিষ্ঠুরতার খবর মিলবে।” বর্তমানে পুলিশ শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজে বের করতে মরিয়া। নিকটবর্তী হাসপাতালের নবজাতক তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি, আশপাশের গ্রামে গোপন সূত্র মারফত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অপরাধী ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। মানবিকতার বিরুদ্ধে দাঁড় করানো এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি শুধু রাজস্থান নয়, সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সমাজ ও প্রশাসন উভয়ের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rani Mukherjee National Award | রানি মুখোপাধ্যায়ের জাতীয় পুরস্কার উৎসর্গ, আবেগঘন মুহূর্তে স্মরণ করলেন বাবা-মাকে

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন