Hyderabad Airport drug seizure | হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে ১২ কেজি গাঁজা-সহ গ্রেফতার দুবাই ফেরত মহিলা যাত্রী

SHARE:

হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে দুবাই ফেরত মহিলা যাত্রীর ব্যাগ থেকে উদ্ধার হল ১২ কেজি গাঁজা। ডিআরআইয়ের হাতে গ্রেফতার যাত্রী, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ১২ কোটির বেশি। এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হায়দরাবাদ : হায়দরাবাদের (Hyderabad) রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Rajiv Gandhi International Airport) থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার রাতে দুবাই (Dubai) থেকে ফিরছিলেন এক ভারতীয় মহিলা যাত্রী। তাঁর লাগেজে প্রায় ১২ কেজি গাঁজা পাওয়া যাওয়ার পর রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদফতরের (Directorate of Revenue Intelligence-DRI) কর্তারা তাঁকে গ্রেফতার করেন। উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ১২ কোটি টাকারও বেশি বলে উল্লেখ।

বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ওই মহিলা যাত্রী চেকআউটের সময় সন্দেহজনক আচরণ করছিলেন। তৎক্ষণাৎ তাঁকে থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন ডিআরআই কর্মকর্তারা। প্রথমে একটি ব্যাগ থেকে ছ’ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়। মাদকগুলি বিশেষভাবে মোড়া ছিল সবুজ রঙের প্যাকেটে, যা সহজে চেনা সম্ভব ছিল না। তবে প্রাথমিক পরীক্ষাতেই নিশ্চিত হয়ে যান কর্তারা যে এগুলি উচ্চমানের গাঁজা। পরে মহিলাকে জেরা করলে তিনি আরেকটি ব্যাগ থাকার কথা স্বীকার করেন। সেই ব্যাগটিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ছ’ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১২ কেজি মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। ডিআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলাকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখানো হয়। এনডিপিএস আইন (NDPS Act, 1985) অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক পাচারের আন্তর্জাতিক রুটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভারত হয়ে অন্যত্র মাদক পাচারের পরিকল্পনা ছিল। একজন ডিআরআই আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “মহিলা যাত্রী প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে ব্যাগের মাদক উদ্ধার হওয়ার পর তিনি ভেঙে পড়েন। আমাদের ধারণা, তিনি বড় কোনও মাদক পাচারচক্রের অংশ। তদন্তে তার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে।”

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা এবং নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে আগত যাত্রীদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন এয়ারপোর্টে মাদক পাচারের ঘটনা বেড়েছে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ এবং তার বাজারমূল্য এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই মাদকের গন্তব্য ছিল ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন রাজ্য। কারণ উৎসবের মরসুমে মাদক চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, “এ ধরনের সময়ে পাচারকারীরা সুযোগ নেয়। তবে এবার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বিশাল একটি চালান ধরা পড়েছে।”

সূত্রের খবর, এদিকে গ্রেফতার হওয়া মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বেরিয়ে আসছে। কার কাছ থেকে তিনি এই মাদক সংগ্রহ করেছিলেন এবং কোথায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। ডিআরআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একাধিক নাম উঠে আসছে, যাদের শনাক্ত করতে আলাদা দল তৈরি করা হয়েছে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত পরিমাণ মাদক রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই মহিলার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এনডিপিএস আইনের অধীনে এই ধরনের অপরাধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে।উল্লেখ্য, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান বরাবরই কঠোর। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও একাধিকবার বলা হয়েছে, মাদক চক্র ভেঙে দেওয়ার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। হায়দরাবাদের এই ঘটনাকে তাই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan National Film Award | শাহরুখ খানের জাতীয় স্বীকৃতি: ‘জওয়ান’ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হলেও নগদ পুরস্কার ভাগাভাগি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন