সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ৪২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিততে একেবারেই নতুন করে পরিকল্পনা নিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies)। দেশের মাটিতে গত কিছু সময় ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় টেস্ট দল, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৯৮৩ সালের পর আবারও ভারতকে হারিয়ে সিরিজ জয় করতে মরিয়া ক্যারিবিয়ানরা। দলের হেড কোচ ড্যারেন স্যামি (Daren Sammy) সম্প্রতি বলেন, তাদের লক্ষ্য পেস আক্রমণের সাহায্যে ম্যাচ নিজেরাই দিকে নেওয়া এবং প্রতিটি টেস্টে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নেওয়া।
ক্যারিবাইয়ান দলে যে পেসারের বৈচিত্র রয়েছে, তা যে কোনও বিচার্য মাঠেই বিপজ্জনক। শামার জোসেফ (Shamar Joseph), আলজারি জোসেফ (Alzarri Joseph) জেইডেন সির্লস এই তিনজনের বলের গতিবেগ, বাউন্স এবং সুইং-কম্বিনেশন মিলে ভারতের মতো ব্যাটিং ল্যান্ডস্কেপেও সমস্যার জন্ম দিতে পারে, বলে মত স্যামির। তিনি উল্লেখ করেছেন, “ভারতে টেস্ট জেতার জন্য যদি ২০ উইকেট না নেওয়া যায়, তাহলে আপনি ম্যাচে পিছিয়ে থাকবেন। আর আমাদের পেস আক্রমণে সেই ২০টি উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য আছে।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দুই টেস্ট সিরিজ শুরু হবে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে। প্রথম টেস্ট হবে আহমেদাবাদে (Ahmedabad) ২ অক্টোবর। দ্বিতীয়টি অনুষ্ঠিত হবে দিল্লিতে (Delhi) ওই মাসেফ ১০ তারিখে। স্যামি ম্যানেজমেন্ট ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট কোর প্ল্যান সাজানো শুরু করেছে, সাবটিমিং, বোলিং রোটেশন, স্পিন-হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ব্যাকআপ প্ল্যানসহ। সভাপতি এবং সিলেকশন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলেও কিছু পরিবর্তন ঘটেছে; ওপেনিং সমস্যার সমাধানে টাগেনারাইন চান্দারপল (Tagenarine Chanderpaul) ও আলিক অ্যাথানাজকে (Alick Athanaze) ডাক দেওয়া হয়েছে। যা দলের ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, স্যামি বলেন যে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছে গত বছর নিউজিল্যান্ড (New Zealand) কিভাবে ভারতে সফরে সফল হয়েছিল, তাদের কৌশল ও ডিজিপ্লিন ওয়েস্ট ইন্ডিজও প্রয়োগ করতে চায়। “নিউ জিল্যান্ড কী করেছে, আমরা সেটা দেখেছি; তাদের পরিকল্পনা ও মানসিকতা আমাদের জন্য এক জীবনধারা হিসেবে কাজে আসতে পারে,” বলেন কোচ। স্যামির এই বার্তা যেন পরিষ্কার করে দেয়, ক্যারিবীয়রা আশা করে, পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস মিললে তারা ক্রিকেট মাঠে ঐতিহ্যবাহী শক্তির প্রতিফলন ঘটাতে পারবে।
উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বহু দশক আগে, ১৯৮৩ সালে ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। এর পর থেকে দেশটির মাটিতে সিরিজ জয়ের কীর্তি আর পুনরাবৃত্ত হয়নি। ৪২ বছরের সেই অপেক্ষা ভাঙার স্বপ্নই এবার দলের সামনে বড় লক্ষ্য। স্যামির দায়িত্বে এসে এই লক্ষ্যকে নতুন উদ্দীপনা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, বিশেষত তখন যখন দলের পেসারদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ধার দেখা যাচ্ছে। সমালোচকদের কথাও আছে; ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকাপের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে এসে জয় ছিনিয়ে নেওয়া সহজ নয়। তবু স্যামি ও তার অনুসারীরা নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে ভারতের সামনে অবশ্য বড় চ্যালেঞ্জ, উইকেটের ধরণ, স্থানীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিকল্পনা মূলতই দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে পেস আক্রমণ দিয়ে সূচনাতেই উইকেট নেওয়া; অন্যদিকে মাঝেমধ্যে স্পিনারদের ভূমিকা মাথায় রেখে কন্ডিশন অনুযায়ী ব্যাকআপ স্পিনার ও ব্যাটসম্যান রেখে দেওয়া। স্যামির কথায়, বিদেশে গত দু’বছরে পাওয়া অনুকূল অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, আর সেই আত্মবিশ্বাসই ভারতের মাটিতে কাজে লাগাতে চাই তারা। কিন্তু, ভারতীয় দিক থেকে প্রতিক্রিয়া কেমন হবেএটাই আগ্রহের বিষয়।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে বিশ্লেষণ শুরু করে দিয়েছেন, ভারত যদি শক্ত ব্যাটিং লাইনআপ মজবুত রেখে টপ অর্ডারকে সোজা রাখে, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ সীমিত হবে; অন্যদিকে যদি উইকেট প্রদান করে, তাহলে ক্যারিবীয় পেসারদের জন্য তা বড় সুযোগ।ব্যাটসম্যানদের সামনে এই সিরিজ প্রমাণের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। তবে হার-জিত সবসময়ই খেলা, কেবল পরিকল্পনাই সিদ্ধান্ত দেয় না। প্রসঙ্গত, অক্টোবরের ওই দুই টেস্ট। কেবল একটি সিরিজ নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এটা ৪২ বছরের প্রতীক্ষার এক বড় সুযোগ; আর ভারতের কাছে এটি নিজেদের প্রতিরক্ষা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরীক্ষা। ড্যারেন স্যামি ও তার পেসারদের আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এই দ্বিপক্ষীয় লড়াইকে তৈরি করবে উত্তেজনাপূর্ণ নাটক, যা ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য দর্শনীয় ও বিশেষ এক মঞ্চ হবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Zaheer Khan LSG, Lucknow Super Giants news | গোয়েঙ্কার সঙ্গে মতের অমিল, লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টরের পদ ছাড়লেন জাহির খান



