শুভ্রাংশু রায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : এশিয়া কাপকে সামনে রেখে ভারতীয় দলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। শুভমান গিলের (Shubman Gill) সহ-অধিনায়ক হওয়া একদিকে যেমন তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য দারুণ স্বীকৃতি, অন্যদিকে তেমনই সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিচের দিকে নামতে থাকায় এই টুর্নামেন্টকেই তাঁর কাছে ‘শেষ সুযোগ’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর (Wasim Jaffer) খোলাখুলি বলেছেন, “সূর্যের পরিসংখ্যান ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। শেষ ক’য়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ওর ব্যাট থেকে রান বেরোয়নি। শট বাছার ক্ষেত্রেও ও অনেক ভুল করছে। যদিও আইপিএলে ভাল খেলেছে, বোঝাই যাচ্ছে নিজের খেলায় অনেক কাজ করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে যদি সেই ধারাবাহিকতা না আসে, তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।” জাফরের মতে, সূর্যকুমার যাদব নিজের মতো শট খেলতে পারলেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। তিনি যোগ করেন, “ও যখন ফ্লোতে থাকে, তখন কোনও বোলারেরই কিছু করার থাকে না। আশা করছি, এশিয়া কাপে আইপিএলের সেই ছন্দটাই ফিরিয়ে আনবে।”

তবে সমস্যা অন্য জায়গায়ও রয়েছে। ভারতের প্রতিটি সিরিজে সহ-অধিনায়ক নির্ধারণের বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জাফর বলেছেন, “প্রত্যেক সফরেই একজন সহ-অধিনায়ক লাগে। এর মানে এই নয় যে অধিনায়কের জায়গা নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তা আছে। নির্বাচকরা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বুমরাহ (Jasprit Bumrah) সব ম্যাচ খেলতে পারবে না। হার্দিক পান্ডিয়াকে (Hardik Pandya) নিয়ে এখন তাঁরা ভাবছেন না। ফলে বাকি রইল শুভমান গিল কিংবা শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)। যদি শ্রেয়স ফিটনেস ফিরে পায়, সেও বিকল্প হতে পারে।”
পরিসংখ্যানই বলছে, অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই সূর্যর ফর্ম অনেকটা নেমে গেছে। এখন পর্যন্ত ৮৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর রান ২৫৯৮। এর মধ্যে ব্যাটার হিসেবে করেছেন ২০৪০ রান, গড় ৪৩.৪০। কিন্তু নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৫৫৮ রান, গড় নেমে এসেছে ২৯.২৬-এ। যদিও এর মধ্যে একটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফসেঞ্চুরি আছে। তবু শেষ ৯ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৫৩ রান। ইংল্যান্ড সিরিজে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ ছিলেন। এই অবস্থায় এশিয়া কাপ সূর্যকুমার যাদবের জন্য শুধু টুর্নামেন্ট নয়, ক্যারিয়ারের বড় পরীক্ষা। কারণ ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপে প্রতিযোগিতা ভয়ঙ্কর। শুভমান গিল ইতিমধ্যেই ধারাবাহিক রান পাচ্ছেন। শ্রেয়স আইয়ার ফিট হলে সেও দলে ফিরতে পারে। এছাড়া তরুণ তুর্কি তিলক ভার্মা (Tilak Varma) কিংবা ঋতুরাজ গায়কোয়াড় (Ruturaj Gaikwad)-এর মতো ক্রিকেটাররাও সুযোগের অপেক্ষায়।

ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছেন, সূর্যকুমার যদি এই এশিয়া কাপে নিজেকে প্রমাণ করতে না পারেন, তবে হয়ত তাঁকে ছিটকে যেতে হবে প্রথম একাদশ থেকে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে নির্বাচকরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইবে না। অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ধারাবাহিক রান করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এখনও ভরসার জায়গা আছে। আইপিএলে যেভাবে তিনি ফর্মে ফিরেছিলেন, সেটি যদি আন্তর্জাতিক স্তরে রূপান্তর করতে পারেন, তবে ভারতীয় দলের জন্য তিনি এখনও অন্যতম শক্তি। বিশেষ করে তাঁর শট খেলার স্বাধীনতা প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য আতঙ্ক। ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশা, এশিয়া কাপে আবারও দেখা যাবে পুরনো সেই ভয়ঙ্কর সূর্যকুমার যাদবকে। কারণ তাঁর ব্যাট হাসলে ভারতীয় দল অনেকটাই নির্ভার হয়ে যায়। এখন দেখার বিষয়, গিলের সহ-অধিনায়ক হওয়ার পর অতিরিক্ত চাপ সামলে সূর্য নিজের ফর্মে ফিরতে পারেন কি না।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Asia Cup 2025, Gautam Gambhir | ‘সুযোগ কাজে লাগাও…’, এশিয়া কাপের আগে টিম ইন্ডিয়াকে অনুপ্রেরণা দিলেন গৌতম গম্ভীর



