সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : পাঞ্জাবের ভয়াবহ বন্যা আজ রাজ্যজুড়ে চরম সংকট তৈরি করেছে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ জলের নিচে, লাখো মানুষ আশ্রয়হীন, আর প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। প্রশাসন ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবকে ‘বিপর্যস্ত রাজ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই কঠিন সময়ে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে সামনে এসেছেন ভারতের প্রাক্তন তারকা স্পিনার ও বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদ হরভজন সিং (Harbhajan Singh)। নিজের পরিচিতি ‘পাঞ্জাব দা পুত্তর’ (Punjab Da Puttar) নামের মর্যাদা যেন আরও দৃঢ় করলেন তিনি।

প্রথম থেকেই বন্যাদুর্গতদের দুরবস্থায় ব্যথিত হরভজন। তিনি কেবল মুখে নয়, কাজে প্রমাণ করেছেন যে মানুষকে বিপদ থেকে বাঁচাতে তিনি পাশে আছেন। সাংসদ তহবিল থেকে হরভজন ৮টি যন্ত্রচালিত নৌকা দান করেছেন। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। নিজের ব্যক্তিগত টাকায় আরও ৩টি নৌকা কিনে দিয়েছেন দুর্গতদের উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করার জন্য। প্রতিটি নৌকার দাম ৪.৫ থেকে ৫.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ প্রায় কোটি টাকার বেশি মূল্যের নৌকা বন্যার্ত মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। কেবল নৌকা নয়, গুরুতর অসুস্থ ও দুর্গতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৩টি অ্যাম্বুল্যান্সও দান করেছেন হরভজন সিং। পাশাপাশি ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন। জানা গেছে, তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু যথাক্রমে ১২ লক্ষ এবং ৬ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। ফলে মোট অনুদানের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে কয়েক কোটি টাকায়।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, হরভজন সিংয়ের এই মানবিক আহ্বানে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট জগতের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু সংস্থা এগিয়ে এসেছে। তাঁরা আর্থিক ও সামগ্রী সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাঁর এই পদক্ষেপ অন্য অনেক ক্রীড়াবিদ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই যে গত ৩৭ বছরে পাঞ্জাব এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩.৫ লক্ষ মানুষ। প্রথমদিকে ১২টি জেলা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জেলায়। অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তা, ফসল, বিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
মানবিক এই উদ্যোগের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন হরভজন সিং। অনেকে লিখেছেন, “তিনি কেবল মাঠে নয়, জীবনের প্রতিটি জায়গায় একজন প্রকৃত নায়ক।” আবার কেউ কেউ বলেছেন, “পাঞ্জাবের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভাজ্জি (Bhajji) প্রমাণ করেছেন তিনি সত্যিই ‘পাঞ্জাব দা পুত্তর’।” হরভজন নিজেও জানিয়েছেন, এই সংকটের সময়ে তিনি পাঞ্জাবের মানুষের কষ্ট দেখে স্থির থাকতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য, “আমি ছোটবেলা থেকে এই মাটির জল-হাওয়ায় বড় হয়েছি। আজ যখন আমার মানুষগুলো এমন বিপর্যয়ের মুখে, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য। আমার সামান্য সাহায্য যদি তাঁদের কাজে লাগে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
বর্তমানে রাজ্য প্রশাসন, সেনা ও এনডিআরএফ একসঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে দুর্গত মানুষের বিপুল সংখ্যার কারণে সাহায্য এখনও যথেষ্ট নয়। ফলে হরভজনের মতো উদ্যোগ আরও বেশি করে প্রয়োজন। সমাজকর্মীদের দাবি, ক্রিকেটার ছাড়াও বলিউড থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্রীড়াবিদদেরও এগিয়ে আসা উচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের এই সঙ্কট কেবল রাজ্যের নয়, গোটা দেশের জন্য দুশ্চিন্তার। কারণ খাদ্যশস্য উৎপাদনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্য যদি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে তার প্রভাব দেশজুড়ে পড়তে বাধ্য। বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে বন্যার কারণে কৃষি ও অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়তে চলেছে। এর মধ্যেই হরভজন সিংয়ের উদ্যোগ একরাশ আশার আলো দেখাচ্ছে। তাঁর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের সাহায্য সাধারণ মানুষকে যেমন সাহস জোগাচ্ছে, তেমনই অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে মানবিক কাজে যুক্ত হতে।
ছবি : সংগৃহীত



