Darjeeling tourism rules | দার্জিলিঙে বাঁদরকে খাওয়ালেই জরিমানা! নতুন নিয়মে পর্যটক ও স্থানীয়দের কড়া বার্তা

SHARE:

পর্যটকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, জরিমানা করা যেমন দরকার, তেমনই পর্যটকদের আগে থেকে সচেতন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নিজস্ব প্রতিনিধি ★ দার্জিলিঙ : দার্জিলিঙে (Darjeeling) পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায়। সঙ্গে থাকে হাসিখুশি ছবি তোলা, স্থানীয় খাবার উপভোগ, আর অজান্তেই অনেক সময় বাঁদরদের (Monkeys) দিকে ছুড়ে দেওয়া হয় কলা কিংবা বিস্কুট। কিন্তু এই ছোট্ট ‘সদিচ্ছা’ এখন বড় বিপদ ডেকে আনছে পাহাড়ি শহরে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে দার্জিলিঙ পুরসভা এবার জারি করল কঠোর নিয়ম, যে কেউ বাঁদরকে খাবার খাওয়াতে ধরা পড়বেন, তাঁকে গুনতে হবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা।শহরের পুরপ্রধান দীপেন ঠাকুরি (Dipen Thakuri) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই নিয়ম শুধুমাত্র পর্যটকদের জন্য নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। ‘‘খাবার না দিলে অনেক সময় বাঁদর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, কামড়েও দেয়। এতে রেবিজ় (Rabies) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে,’’ বলেন তিনি।

বিগত কয়েক বছরে দার্জিলিঙে পর্যটনের ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। পর্যটকদের ভিড় যত বেড়েছে, ততই শহরের রাস্তাঘাট, বিশেষ করে ম্যালে (Mall) বাঁদরের সংখ্যা হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশে বাঁদরেরা সাধারণত জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে ফল, পাতা কিংবা গাছের ছাল খুঁজে খেত। কিন্তু মানুষ নিয়মিত খাবার দিলে তাদের স্বাভাবিক অভ্যাস ভেঙে যায়। তারা সহজ পথে খাবারের লোভে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে শুধু শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাই বিঘ্নিত হচ্ছে না, পর্যটকরাও বারবার সমস্যায় পড়ছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যালে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে বাঁদরের উৎপাত। অনেক পর্যটকের হাত থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া, আবার অনেক সময় মোবাইল বা ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দর্শনার্থীদের মধ্যে। পুরসভার দাবি, এই পরিস্থিতি আটকাতে হলে বাঁদরকে একেবারেই খাবার দেওয়া যাবে না।

পর্যটকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, জরিমানা করা যেমন দরকার, তেমনই পর্যটকদের আগে থেকে সচেতন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি : প্রতীকী

ইতিমধ্যেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পোস্টার, ব্যানার ও হোর্ডিং বসানো শুরু হয়েছে। যাতে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, বাঁদরকে কোনও প্রকার খাবার দিলে সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা করা হবে। এ বিষয়ে নজরদারির জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করেছে পুরসভা। পুরপ্রধান দীপেন ঠাকুরি জানিয়েছেন, ‘‘বিশেষত ম্যালে আমরা নজরদার রাখব। কেউ বাঁদরকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’ বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁদরকে খাবার দেওয়া বন্ধ করলে ধীরে ধীরে তারা আবার জঙ্গলে ফিরে যাবে ও তাদের প্রাকৃতিক অভ্যাসে ফিরে আসবে। এতে যেমন শহরের মানুষ ও পর্যটকেরা নিরাপদ থাকবেন, তেমনই প্রাণীরাও নিজেদের মতো করে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। দার্জিলিঙের মানুষজনও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ গুরুং (Subash Gurung) বলেন, ‘‘প্রতিদিন বাঁদরের ঝামেলা আমাদের সহ্য করতে হয়। দোকানপাট থেকে জিনিস কেড়ে নেয়, বাচ্চাদের ভয় দেখায়। এবার হয়তো এই নিয়মে একটু স্বস্তি পাব।”

কিন্তু, পর্যটকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, জরিমানা করা যেমন দরকার, তেমনই পর্যটকদের আগে থেকে সচেতন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতা থেকে ঘুরতে আসা সায়নী দত্ত (Sayani Dutta) বলেন, ‘‘আমরা অনেকেই জানতাম না যে বাঁদরকে খাবার দেওয়া এমন বড় সমস্যা তৈরি করছে। আগে থেকে প্রচার করলে হয়তো কেউ আর ভুল করত না।’’ শহরে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্যও এই নতুন নিয়ম একপ্রকার সতর্কবার্তা। অনেক সময় বাঁদরের সঙ্গে ছবি তুলতে কিংবা ‘মজার মুহূর্ত’ তৈরি করতে তাঁরা অজান্তেই খাবার দেন। কিন্তু সেই অতি উৎসাহ এখন মারাত্মক হতে পারে। শুধু জরিমানাই নয়, এতে তাঁরা বিপদের মুখেও পড়তে পারেন। দার্জিলিঙ পুরসভার নতুন নিয়ম এখন পাহাড়ি শহরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পর্যটন যেমন এখানকার মূল অর্থনীতি, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাঁদরের প্রাকৃতিক আচরণ ফিরিয়ে আনতে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ কার্যকর হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Darjeeling Landslide : দার্জিলিংয়ে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে ভূমিধসে বিপর্যস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, হলুদ সতর্কতা জারি তিস্তা-জলঢাকায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন