পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন পালক যুক্ত হলো। শরফুদ্দৌলা সৈকত-এর পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে নজির গড়লেন সাথিরা জ়াকির (Sathira Jakir)। তিনি হতে চলেছেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আম্পায়ার, তিনি এক দিনের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। ভারতের মাটিতে আয়োজিত মহিলাদের বিশ্বকাপেই দেখা যাবে তাঁকে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে মহিলাদের ভূমিকা আলোচনায় থাকলেও এবার সত্যিকারের ইতিহাস তৈরি হল মাঠের ভেতরে। সাথিরা জ়াকিরের এই সুযোগ নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ২০২৩ সালে শরফুদ্দৌলা সৈকত ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত পুরুষদের এক দিনের বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সেই পথেই এবার হাঁটলেন সাথিরা। তবে তাঁর কৃতিত্ব আরও বিশেষ, কারণ মহিলা ক্রিকেটার থেকে আন্তর্জাতিক মানের আম্পায়ার হয়ে ওঠা একেবারেই সহজ ছিল না। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশ ভারত হলেও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। এই টুর্নামেন্টেই সাথিরাকে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে।
এর আগে বেশ কিছু বড় টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নজর কাড়েন সাথিরা। এমনকী গত বছর অনুষ্ঠিত মহিলাদের এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচও তিনি পরিচালনা করেছিলেন। পাশাপাশি ভারতে অনুষ্ঠিত লেজেন্ডস লিগ ক্রিকেটেও দায়িত্ব সামলেছেন। নিজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা দিয়েই তিনি অর্জন করেছেন এই মহার্ঘ সম্মান।
‘টি স্পোর্টস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সাথিরা বলেন,
“অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেলাম। ভেবেছিলাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ পাব। তখন পাইনি। কারণ, উপরওয়ালা নিশ্চয়ই আমার জন্য আরও বড় কিছু ভেবে রেখেছিলেন। তাই এক দিনের বিশ্বকাপে সুযোগ পেলাম।” তিনি আরও যোগ করেন,
“আমি ভাবিনি এক দিনের বিশ্বকাপে সুযোগ পাব। গত কয়েকটা সিরিজ়ে ভাল আম্পায়ারিং করেছি। সেই কারণেই হয়তো এই সুযোগটা পেয়েছি।” তাঁর এই উচ্ছ্বাস শুধু ব্যক্তিগত নয়, গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয়।
অনেকেই হয়ত জানেন না, আম্পায়ার হওয়ার আগে সাথিরা বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে দু’টি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। যদিও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, তবে ঘরোয়া লিস্ট এ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলেছেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি মন দেন আম্পায়ারিংয়ে। ২০২২ সাল থেকে নিয়মিত আম্পায়ারিং শুরু করেন সাথিরা। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা আম্পায়ার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিলেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৪ বছর। বাংলাদেশ দলের এক দিনের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে ২ অক্টোবর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কলম্বোয়। সেই ম্যাচের পর বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ভারতের বিভিন্ন মাঠে। এর মধ্যে ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ভারত। এই প্রতিযোগিতায় সাথিরার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা যোগ করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত। অনেকেই মনে করছেন, সাথিরা জ়াকিরের এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শুধুমাত্র ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, মাঠের অন্য ভূমিকাতেও মহিলারা সমান সফল হতে পারেন, সাথিরা তার উজ্জ্বল উদাহরণ। সামনের দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আরও অনেক নারী যাতে এগিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশাই করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Cheteshwar Pujara | শুভমন গিলের ‘হুমকিতে’ ফিফা টিমে ঢুকেছিলেন বুমরাহ! খোলসা করলেন পুজারা




