পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ধীরে ধীরে জাতীয় দলের ফরম্যাট থেকে একে একে সরে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এই দুই ক্রিকেটার তাঁদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে ইতি টানেন। এরপর রোহিত টেস্ট ক্রিকেট থেকেও অবসর নেন ইংল্যান্ড সফরের আগে। অবশেষে, বিরাট কোহলিও তাঁর দীর্ঘ টেস্ট কেরিয়ার থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এই ঘটনার পর থেকেই ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে চর্চা, এই অবসরগুলো কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর মধ্যে কোনও বার্তা লুকিয়ে আছে? বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে বিদায়, নাকি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে দল থেকে সরে আসা? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

২০২৫ সালের আইপিএলের মাঝপথে আচমকা রোহিতের টেস্ট অবসর ঘোষণার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এক ধরনের ধাক্কা লাগে। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই রোহিত ও বিরাটের পারফরম্যান্স বা ফর্ম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ ছিল বোর্ডের অন্দরে। যদিও দু’জনেই ফিরে এসে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেন। এমনকী, ইংল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি হিসেবেও তাঁরা ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেন। এসব দেখেই বোঝা গিয়েছিল যে, তাঁরা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ সূচিতে ফিরতে প্রস্তুত ছিলেন।তবুও, হঠাৎ করে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ব্যাখ্যাতীত ঠেকে অনেকের কাছেই। এমন সময়েই প্রশ্ন উঠছে, এই দু’জন ক্রিকেটারকে ভারতীয় ক্রিকেট থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় জানানো হচ্ছে কি?
ইংল্যান্ড সফরের আগে নানা বিষয়ে চর্চা ছিল। কে হবেন নতুন অধিনায়ক, রোহিতের জায়গায় কে ওপেন করবেন, এবং চিরকালীন সমস্যার জায়গা—চার নম্বরে কে হবেন? শুভমন গিল (Shubman Gill) অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজে নজরকাড়া কিছু না করলেও, তাঁর ব্যাটিং পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে সকলের। তিনি সিরিজে করেছেন ৭৫০-এর বেশি রান, যা ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা।অন্যদিকে ওপেনিংয়ে লোকেশ রাহুল (KL Rahul) ও যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal) নিজেদের যথেষ্টভাবে প্রমাণ করেছেন। চার নম্বরে গিলের পারফরম্যান্স বহু পুরনো সমস্যা অনেকটাই ঢেকে দিয়েছে। ফলে দলের রূপরেখায় রোহিত বা বিরাটের জায়গা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে।
২০২৭ সালের পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই দল সাজানো শুরু হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বয়স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নিরিখে রোহিত ও বিরাটকে দলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তারা যদি বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ না হন, তাহলে কেনই বা তরুণদের সুযোগ আটকে রেখে তাঁদের খেলিয়ে যাওয়া হবে? এই যুক্তির পেছনে একটাই বাস্তবতা, ইংল্যান্ড সফরে দলের ব্যাটিং ইউনিট অসাধারণ পারফর্ম করেছে। যদি ব্যাটিং ব্যর্থ হতো, তাহলে হয়তো রোহিত ও বিরাটের জন্য আরেকবার জায়গা খুঁজে পাওয়া যেত। কিন্তু গিল, রাহুল, যশস্বীর মতো তরুণদের ধারাবাহিকতা দলের ভবিষ্যৎকে অনেকটা নির্ভরযোগ্য করে তুলছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি, তবে ক্রিকেট মহলে এই আলোচনা এখন প্রধান ২০২৭ বিশ্বকাপ লক্ষ্য করলে, এটাই হয়ত রোহিত ও বিরাটের শেষ আন্তর্জাতিক চ্যাপ্টার। এমনটাই ইঙ্গিত করছেন বিশ্লেষকরা।একজন প্রাক্তন নির্বাচক জানিয়েছেন, “ভারতীয় দল এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ভাবছে। দলে প্রতিভার অভাব নেই। তরুণরাই ভবিষ্যতের মেরুদণ্ড।” আরেক প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেন, “বিরাট আর রোহিতের মতো ক্রিকেটারদের বিদায়টা সম্মানের হওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবতা হল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসবেই।” রবীন্দ্র জাডেজা (Ravindra Jadeja) ইতিমধ্যে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতোই বিরাট-রোহিতের অবসরও হয়তো এক প্রাকৃতিক পরিণতি। যদিও ভারতীয় ক্রিকেটে ‘কমব্যাক’ শব্দটা প্রায় সবসময়ই প্রাসঙ্গিক, তবুও এবার হয়তো সত্যিই এক যুগের অবসান ঘটছে।ফলত, প্রশ্নটা আজ আর কেবল ফর্ম বা বয়স নয়, প্রশ্নটা হচ্ছে পরিকল্পনার, ভবিষ্যতের, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gautam Gambhir Coaching Controversy | রোহিত ও কোহলিকে ফেরানোর কৌশল, ইংল্যান্ড টেস্টে ব্যর্থতার জন্য দায়ী গম্ভীর? প্রশ্ন চিহ্নের সামনে বিসিসিআই কর্তারা!




