সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দিল্লি : হিমালয়ের কোলে অবস্থিত মুসৌরি (Mussoorie) ভারতের ‘হিল কুইন’, যেখানে একবার গেলে হৃদয়টা পড়ে থাকে পাহাড়ি মেঘের সঙ্গে। কিন্তু পর্যটকদের বাড়তি ভিড়ে এখন ধুঁকছে এই শান্ত শহরের পরিবেশ। সেই কারণে পর্যটন রক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে নতুন একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল উত্তরাখণ্ড সরকার। এবার থেকে মুসৌরি সফরের আগে পর্যটকদের প্রি-রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। হোটেল বুকিংয়ের পাশাপাশি গাড়ির তথ্য, সফরের সময় ও আবাসনের বিবরণ জমা না দিলে প্রবেশ মিলবে না শহরে।

পর্যটনের চাপ দিনদিন বাড়ছে। উত্তরাখণ্ড পর্যটন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বিগত দু’ বছরে মুসৌরিতে (Mussoorie) পর্যটকদের ভিড় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যার ফলে শহরে ভয়াবহ যানজট, আবর্জনার সমস্যা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের উপর চাপ কমাতে ডিজিটাল পর্যটন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম?
মুসৌরির সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউস ও হোমস্টের মালিকদের এবার থেকে পর্যটকের সমস্ত তথ্য ডিজিটাল পর্যটন পোর্টালে আপলোড করতে হবে। চেক-ইন মুহূর্তেই পর্যটকের নাম, পরিচয়, সফরের সময়কাল ও কক্ষের তথ্য জমা দিতে হবে। এতে শহরে কতজন পর্যটক প্রবেশ করছেন, তা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে। এর ফলে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে। উত্তরাখণ্ড পর্যটন বিভাগের ডিরেক্টর হরবংশ সিং (Harbansh Singh) জানিয়েছেন, “মুসৌরির পরিবেশ রক্ষা করতে গেলে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। হোটেল মালিকদের সহযোগিতা ছাড়া পর্যটন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “পর্যটকরা যদি অনলাইনে আগেভাগেই নিজেদের রেজিস্ট্রেশন করেন, তাহলে প্রবেশে কোনও সমস্যা হবে না।”
পর্যটকদের জন্য কী কী নিয়ম মানা জরুরি?
মুসৌরিতে ভ্রমণের আগে পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মে থাকবে নাম, ফোন নম্বর, গাড়ির নম্বর, আবাসনের তথ্য ও সফরের তারিখ।
১. দেশীয় পর্যটকরা তাঁদের মোবাইলে একটি OTP পাবেন, *বিদেশি পর্যটকরা OTP পাবেন ইমেইলের মাধ্যমে। OTP যাচাই হলে একটি QR কোড তৈরি হবে।
২. মুসৌরির প্রধান প্রবেশপথ যেমন কিমাড়ি (Kimari), কেম্পটি ফলস (Kempty Falls) ও কুঠাল গেট (Kuthal Gate)-এ সেই QR কোড স্ক্যান করা হবে।
৩. গাড়ির তথ্য ANPR (Automatic Number Plate Recognition) ক্যামেরার মাধ্যমে যাচাই হবে, যাতে কোনও জালিয়াতি না হয়।
তবে এই নিয়মগুলি সারা বছরের জন্য নয়, শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভিড়ের সময় বা ছুটির মরশুমে কার্যকর থাকবে।

হোটেল মালিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশ
১. নিজেদের সম্পত্তি ও আবাসনের ধরন সরকারি পোর্টালে রেজিস্টার করতে হবে।
২. মালিকের নাম ও যোগাযোগের তথ্য জমা দিতে হবে।
৩. ঘরের সংখ্যা, সর্বাধিক অতিথি ধারণক্ষমতা, সম্পত্তির নাম ইত্যাদিও স্পষ্ট করে জানাতে হবে।
সরকারি এক আধিকারিকের কথায়, “এই নিয়মগুলি চালুর ফলে প্রশাসনের হাতে রিয়েল-টাইম পর্যটক সংখ্যা থাকবে। যা প্রয়োজনে উদ্ধার কাজে অথবা দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর হবে।”

ভবিষ্যতের কথা ভেবে আজই পদক্ষেপ
মুসৌরি যেমন পর্যটকদের জন্য স্বপ্নের ঠিকানা, তেমনই এই শহর স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। যদি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা না করা যায়, তবে একদিন হয়তো মুসৌরি হারিয়ে যাবে তার নিজস্ব সৌন্দর্য। নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই বিপর্যয় এড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ। তাই যাঁরা শিগগির মুসৌরি যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁরা যেন সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেন ও নির্ধারিত নিয়মগুলি মেনে চলেন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Hampi Travelog | মাতাঙ্গ পাহাড়ের চূড়ায় নিঃশব্দ বিস্ময়, সূর্যাস্তের আলোয় হাম্পি




