শিবপ্রসাদ মণ্ডল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোচ্ছিল ইলন মাস্ক (Elon Musk)-এর সংস্থা Starlink। ভারতে সরকারি অনুমোদনের পথ পেরিয়ে যখন বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে সংস্থাটি, তখনই এক ভয়াবহ প্রযুক্তিগত বিভ্রাটে থমকে গেল তাদের কার্যক্রম। এই বিভ্রাট শুধু ভারতের পরিকল্পনাকে নয়, বিশ্বজুড়েই স্টারলিঙ্কের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গত ২৪ জুলাই, হঠাৎ করেই আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার গ্রাহক লক্ষ্য করেন, ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ডাউন ডিটেক্টর-এর (DownDetector) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬১ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারী একযোগে অভিযোগ জানান ইন্টারনেট না চলার বিষয়ে। অনেকে দাবি করেন, পরিষেবা না পাওয়ার কারণে তাদের কাজ থমকে যায়, ব্যবসায় ক্ষতি হয়, এমনকী জরুরি যোগাযোগও ভেঙে পড়ে।
এই ঘটনার পরপরই স্টারলিঙ্ক (Starlink) সংস্থা তাদের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি অফিসিয়াল পোস্ট করে জানায়, ‘আমরা জানি যে কিছু ব্যবহারকারী পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যায় পড়েছেন। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করছে।’ সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকোলাস (Michael Nicolls) নিজেও এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি দিয়ে জানান, ‘এই বিভ্রাটের পিছনে রয়েছে এক জটিল সফটওয়্যার সংক্রান্ত ত্রুটি। আমাদের দল বিষয়টি শনাক্ত করেছে এবং দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিষেবা ফিরতে সময় লেগেছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।’
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, এই ধরনের বিভ্রাট ব্যবহারকারীদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে ও কীভাবে এই ধরনের সমস্যা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা যায়, তা নিয়ে আমরা পূর্ণ তদন্তে নেমেছি।’ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি, এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন স্টারলিঙ্ক ভারতের মতো বড় বাজারে প্রবেশ করতে চলেছে। কিছুদিন আগেই তারা ভারতের টেলিকম বিভাগ (Department of Telecommunications)-এর কাছ থেকে নীতিগত অনুমোদন পেয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই দেশের গ্রামীণ এবং দুর্গম এলাকায় উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পৌঁছে দেবে স্টারলিঙ্ক।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে প্রবেশের আগে এমন বড়সড় বিভ্রাট স্টারলিঙ্কের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক অরিন্দম ঘোষ (Arindam Ghosh) বলেন, ‘ভারতীয় বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে ক্রেতারা পরিষেবা ঘাটতিকে সহজে ক্ষমা করেন না। স্টারলিঙ্ক যদি এই বিভ্রাটের সঠিক কারণ খুঁজে না পায় ও প্রতিকার না করে, তাহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে।’
অন্যদিকে, গ্রাহকরাও এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী এক গ্রাহক জ্যাক হ্যানসন (Jack Hanson) বলেন, ‘আমি স্টারলিঙ্কের উপর নির্ভর করেই আমার অনলাইন ব্যবসা চালাই। আজকের বিভ্রাটে আমি বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছি। এমন হলে কীভাবে ভরসা করব?’ তবে স্টারলিঙ্ক জানিয়েছে, তারা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা গড়ে তুলেছে ও এই ধরনের সমস্যা ভবিষ্যতে যাতে না হয়, তার জন্য বিশেষ দল কাজ করছে। অন্যদিকে, ভারতে ইতিমধ্যেই Jio, Airtel-এর মতো বড় টেলিকম সংস্থা নিজেদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্পে হাত দিয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে স্টারলিঙ্ককে শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, সেবা স্থায়িত্ব ও গ্রাহক বিশ্বাস অর্জনের দিক থেকেও সজাগ থাকতে হবে।যদিও এই প্রযুক্তিগত বিভ্রাট আন্তর্জাতিক স্তরে ঘটেছে, তবে এর রেশ পড়বে ভারতের বাজারেও। এখন দেখার বিষয়, ইলন মাস্কের এই প্রকল্প কীভাবে এই ধাক্কা সামলে আবার দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk Epstein file leak | ‘ট্রাম্পকে বিশ্বাস করবেন কীভাবে?’ এপস্টিন ফাইল নিয়ে তোপ মাস্কের




