কৌশিক রায় ★ ওয়াশিংটন : আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলেছেন টেসলা (Tesla) ও স্পেসএক্স (SpaceX) কর্ণধার ইলন মাস্ক (Elon Musk)। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) ‘যৌন কেলেঙ্কারির’ ফাইলে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নাম থাকার সম্ভাবনা ঘিরে যে বিতর্ক বহু দিন ধরেই চলছে, তা আরও উস্কে দিলেন মাস্ক। সম্প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ (America Party)-র প্রধান অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে অন্যতম হবে এই গোপন ফাইলের নামগুলি প্রকাশ্যে আনা।
গত ৫ জুলাই ‘আমেরিকা পার্টি’র আত্মপ্রকাশ করেছেন ইলন মাস্ক। সেই দলের ঘোষণা করে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিদলীয় শাসনব্যবস্থাকে। মাস্কের দাবি, ‘‘ট্রাম্প যদি এপস্টিন ফাইল প্রকাশ না করেন, তা হলে মানুষ কী ভাবে ওঁর উপর ভরসা রাখবেন? এটা কী ভাবে উনি আশা করেন?’’ এই মন্তব্যে ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
একজন নেটাগরিক মাস্ককে প্রশ্ন করেন, ‘‘এপস্টিন ফাইল ফাঁস করা কি আপনার আমেরিকা পার্টির অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে?’’ উত্তরে মাস্ক ‘১০০ শতাংশ’-এর ইমোজি দিয়ে স্পষ্ট করেন, এই ফাইল প্রকাশই তাঁর দলের এজেন্ডার অন্যতম শীর্ষ বিষয়। আগে একবার এই সংক্রান্ত পোস্ট করেছিলেন মাস্ক। তবে তা দ্রুত মুছে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ সেই সময়ে ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এমনকী মাস্ক ট্রাম্পকে ‘ইমপিচ’ (Impeach) করারও দাবি তুলেছিলেন। এরপর তাঁদের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) বিরুদ্ধে বহু নাবালিকাকে যৌন শোষণের অভিযোগ ছিল। ভার্জিনিয়া জিফ্রে (Virginia Giuffre) নামে এক মহিলা এপস্টিন ও তাঁর নিকট সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে বারবার দাবি ওঠে। তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন (Bill Clinton), বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking), পপস্টার মাইকেল জ্যাকসন (Michael Jackson), এমনকী ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নামও। অভিযোগ, এপস্টিনের বিলাসবহুল প্রাইভেট জেট ‘লোলিটা এক্সপ্রেস’-এ চড়ে একাধিকবার বিদেশ সফর করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ ট্রাম্প বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন। চলতি বছরের শুরুতে এপস্টিন ফাইলের একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু পুরো ফাইল জনসমক্ষে আনার দাবিতে সোচ্চার হন মাস্ক। সেই সময়ে তাঁর দাবি ছিল, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে এই ফাইল গোপন করছে। এখন নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে সেই ফাইল ফাঁসের অঙ্গীকার করে কার্যত ট্রাম্পের বিপক্ষে লড়াই আরও জোরালো করতে চাইছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ট্রাম্প নতুন এই দলকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‘আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় দলের কোনও ভবিষ্যৎ নেই।’’ অন্যদিকে, মাস্কের সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, ‘‘এপস্টিন ফাইল ফাঁস হলে অনেকের মুখোশ খুলে যাবে।’’ মাস্কের সমালোচকরা বলছেন, নতুন দলের প্রচারে জনমোহিনী ইস্যু হিসেবে এই ফাইলকে ব্যবহার করছেন টেসলা প্রধান। মাস্কের এই নতুন দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত বিভক্ত। কেউ মনে করছেন, আমেরিকার দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় মাস্কের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বই তৃতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারেন। আবার কারও মতে, শুধু এপস্টিন ফাইলের মতো ‘চমকপ্রদ’ ইস্যুতে ভর করে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
মাস্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ স্পষ্ট করছে, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব দ্রুত কমার নয়। এপস্টিন ফাইল নিয়ে ট্রাম্পের প্রশাসন এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। কিন্তু মাস্ক যেভাবে বারবার এই ইস্যুতে তোপ দাগছেন, তা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে আমেরিকার রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা চলতে থাকায় তাঁর ভাবমূর্তি নানা প্রশ্নের মুখে।এই পরিস্থিতিতে এপস্টিন ফাইল ফাঁস হলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। অন্যদিকে, মাস্কের নতুন দল আদৌ জনগণের সমর্থন পাবে কিনা, সেটাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk vs Mukesh Ambani | স্টারলিঙ্কের আগেই মাঠে মুকেশ আম্বানি




