সাশ্রয় নিউজ ★ দক্ষিণ দিনাজপুর : দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) বংশীহারী (Bansihari) বুধবার সকালেই উত্তাল হয়ে উঠল ভারত বনধ (Bharat Bandh) ঘিরে। রাস্তা অবরোধ করছিলেন সিপিএম (CPI(M)) নেতা মাজেদার রহমান (Majedar Rahman)। অভিযোগ, সেই সময় বংশীহারী থানার (Bansihari Police Station) আইসি (IC) অসীম গোপ (Asim Gop) তাঁকে প্রথমে হুমকি দেন, তারপর প্রকাশ্য রাস্তায় সপাটে চড় কষান। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছে বাম শিবির। সূত্রের খবর, বুধবার ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকে দেশজুড়ে বনধ পালিত হচ্ছিল। তারই সমর্থনে এদিন সকাল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন প্রান্তে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তায় নামেন। বংশীহারীতেও এদিন বামেদের পিকেটিং দেখা যায়। বংশীহারী থানার সামনে পথ অবরোধে বসেন নেতাকর্মীরা। সেই সময় হাজির হন আইসি অসীম গোপ। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘পিকেটিং করতে পারেন। কিন্তু গাড়ি আটকাবেন না।” কথোপকথন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সিপিএমের বংশীহারী এরিয়া কমিটির সদস্য মাজেদার রহমানকে (Majedar Rahman) লক্ষ্য করে আইসি বলেন, ‘‘অনেকক্ষণ আন্দোলন করছেন। এবার ছাড়ুন।’’ তার উত্তরে মাজেদার বলেন, ‘‘সারাদিন আন্দোলন করব।’’ তখনই অসীম গোপ সপাটে বলেন, ‘‘গরম দেখাচ্ছেন?’’ জবাবে মাজেদার বলেন, ‘‘না গরম দেখাইনি।’’ এরপর আর এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁ হাতে তীব্র চড় মারেন তিনি। চড় মারার পর আইসি-কে বলতে শোনা যায়, ‘‘ফাজলামো হচ্ছে। গরম চলবে না। দাদাগিরি চলবে না।’’
ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। ‘‘পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো, তৃণমূলের ঝান্ডা ধরো’’ এই স্লোগানে তেতে ওঠে বংশীহারী। তাঁদের অভিযোগ, সরকার ও শাসকদলের নির্দেশেই পুলিশ এমন বর্বর আচরণ করছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ চরমে উঠেছে।এ প্রসঙ্গে সিপিএমের বংশীহারী এরিয়া কমিটির সম্পাদক বাবলু চন্দ্র দে (Bablu Chandra Dey) বলেন, ‘‘আমরা সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘটের কারণ ব্যাখ্যা করছিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখলাম আমাদের নেতা মাজেদার রহমানের গালে সপাটে চড় মারলেন আইসি। তাঁকে গ্রেফতারও করা হল। আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারছি উপরতলার নির্দেশে পুলিশ এমন করছে। পুলিশের এই আচরণে স্পষ্ট, এখন ওরা তৃণমূলের (TMC) সবচেয়ে বড় গুন্ডা হয়ে উঠেছে। অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)-এর মতো তৃণমূল নেতা যখন মা-বোন তুলে গালি দেন, তখন পুলিশ চুপ করে থাকে। এবার আমরা এসডিপিও (SDPO) ও পুলিশ সুপারের (Police Superintendent) কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব। তাতেও যদি কিছু না হয়, বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব।’’
এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সূত্রের খবর, থানার মধ্যে গ্রেফতার দেখানোর পর মাজেদার রহমানকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রাজ্যের বাম রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনা বনধকে ঘিরে বামেদের আন্দোলনে নতুন জোয়ার আনবে। মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা সামলাতে পুলিশ প্রশাসনকেই বেগ পেতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Traditional Mutton Recipe| ট্র্যাডিশনাল রেসিপির স্বাদই আলাদা




