শুভ্রাংশু চন্দ ✪ সাশ্রয় নিউজ, এজবাস্টন : ভারতের নতুন পেসার আকাশদীপ (Akash Deep) এজবাস্টন টেস্টে নিজের অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের পরও আবেগ সামলাতে পারলেন না। দুই ইনিংসে মোট ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হলেও, মনে প্রাণে তিনি ছিলেন কলকাতায়, ক্যানসারে আক্রান্ত তাঁর বড় দিদির কাছে। ম্যাচের শেষে চেতেশ্বর পুজারা (Cheteshwar Pujara)-র সঙ্গে আলাপে নিজেই জানালেন সেই কথা। রবিবার ম্যাচের পরে পুজারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি স্টাম্প ও বল স্মারক হিসেবে নিয়ে যাচ্ছেন কেন। জবাবে আকাশদীপ বলেন, “একটা কথা কাউকে বলিনি। আমার দিদি দু’মাস ধরে ক্যানসারে ভুগছে। ওর মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। প্রত্যেকটা বলের সময় ওর মুখটাই ভেসে উঠছিল চোখের সামনে। এই জয়টা ওর জন্য।” কথা বলার সময় আকাশদীপের চোখে জল চলে আসে। তবে মুখে ছিল শান্ত এক হাসি, যা জানিয়ে দিচ্ছিল, দিদির কষ্টের মধ্যেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন নিজের প্রেরণা।

এজবাস্টনের পাটা উইকেটে যেখানে স্পিনাররা বিশেষ সুবিধা করতে পারছিলেন না, সেখানে আকাশদীপ গুড ও ফুল লেংথে ধারাবাহিকভাবে বল করে গেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে জো রুট (Joe Root) ও হ্যারি ব্রুক (Harry Brook)-কে ফিরিয়ে দিয়ে ভেঙে দেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। নিজেই জানালেন রুটকে আউট করার পরিকল্পনা, “প্রথমে ওকে ক্রমাগত পায়ে বল করছিলাম যাতে ওভাবে বল ভিতরে ঢুকবে। তারপর এক বল বাইরের দিকে বের করতেই ও কট বিহাইন্ড হল।” ব্রুকের ক্ষেত্রে অফস্টাম্পের বাইরে বল করে এক বল ভিতরের দিকে ঢুকিয়ে বোল্ড করেন। আকাশ বলেন, “আমি জানতাম পিচের ফাটল আমাকে সাহায্য করবে। সেটাই হয়েছে।”

এই ম্যাচে আকাশদীপ সুযোগ পেয়েছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)-র জায়গায়। অভিষেকেই এমন পারফরম্যান্সে ক্রিকেটবিশ্বে নজর কাড়ছেন বাংলার এই পেসার। তৃতীয় টেস্টে লর্ডসে (Lord’s) তাঁকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে আপাতত সেই বিষয়ে ভাবতে নারাজ আকাশ। বলেন, “এখন লর্ডসের কথা ভাবছি না। এই জয়টাই উপভোগ করব। ইংল্যান্ডের মাটিতে জয় সহজে আসে না। আজকের রাতটা যাক, তারপর লর্ডস নিয়ে ভাবব।” অন্যদিকে, আকাশদীপের পারফরম্যান্সে খুশি দলের সিনিয়র বোলার মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)ও। পুজারার সঙ্গে কথোপকথনের সময়ে সিরাজ এসে জানান, কীভাবে তিনি আকাশদীপকে পরামর্শ দিয়েছেন। সিরাজ বলেন, “ওকে বলছিলাম, উইকেট নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো কোরো না। ঠিক জায়গায় বল ফেল। উইকেট এমনিই আসবে। বলেছিলাম ওভারের চারটা বল ঠিক জায়গায় কর, দু’টায় উইকেট নাও। প্রথম ও শেষ বল গুরুত্বপূর্ণ।” সিরাজের কথা শুনে আকাশদীপ মৃদু হেসে বলেন, ‘ভাই, কেন আমার উপর এত চাপ দিচ্ছ!’ এই কথায় দু’জনেই হেসে ওঠেন ও একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। প্রসঙ্গত, এজবাস্টনের মাঠে ভারতের এই জয়ের নায়ক যেমন আকাশদীপ, তেমনি নেপথ্যের নায়িকা তাঁর দিদি। দিদির মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আকাশদীপ যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটাই হয়ে উঠছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। ভারতের ক্রিকেট সমর্থকরাও চাইছেন, আকাশদীপের দিদি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, আর আকাশদীপ যেন ভারতের জার্সি গায়ে এমন অনেক ম্যাচে জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Akash Deep দিদির জন্যই ১০ উইকেট, এজবাস্টনে জয়ের পর আকাশদীপের চোখে জল



