সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা: বর্ষার দাপটে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বইছে দুর্যোগের হাওয়া (West Bengal Weather report)। জুনের মাঝামাঝি থেকেই সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে নিম্নচাপ পরিস্থিতির জোড়া প্রভাবে রাজ্যের রাজ্য বৃষ্টিতে জলমগ্ন। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই যে নিম্নচাপ অঞ্চল দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের উপর তৈরি হয়েছিল, সেটি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ঘনীভূত হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। তার সঙ্গে ঘূর্ণাবর্তও তৈরি হয়েছে, ফলে বৃষ্টির দাপট বেড়েছে ক’য়েক গুণ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে যাবে, কিন্তু তার আগে দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলা হতে পারে অতি ভারী বৃষ্টি।আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা ড. সত্যেন্দ্র নাথ রায় (Dr. Satyendra Nath Roy) জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুরুলিয়া (Purulia), বাঁকুড়া (Bankura), পশ্চিম বর্ধমান (West Bardhaman), ঝাড়গ্রাম (Jhargram), পশ্চিম মেদিনীপুর (West Midnapore)-এর মতো জেলাগুলিতে বুধবার থেকেই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এই জেলাগুলিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে, কারণ ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
কলকাতা (Kolkata) সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (North & South 24 Parganas), হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly), পূর্ব মেদিনীপুর (East Midnapore), নদিয়া (Nadia), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad), বীরভূম (Birbhum), ও পূর্ব বর্ধমান (East Bardhaman) জেলাতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। শহরে বুধবার সকাল থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টিতে জল জমেছে একাধিক রাস্তায়, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। স্কুল, কলেজ ও অফিসের সময় মেলেনি স্বস্তি। সমুদ্র উপকূলও রেহাই পাচ্ছে না দুর্যোগ থেকে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওড়িশা (Odisha) ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কোথাও কোথাও এই গতি ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। তাঁদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া দফতর। পূর্ব মেদিনীপুরের (East Midnapore) দিঘা (Digha), মন্দারমণি (Mandarmani), কাঁথি (Contai) এলাকার মৎস্যজীবীরা তাই নৌকা ও মাছ ধরার জাল ঘাটে রেখেই নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন বল্র উল্লেখ।
বীরভূমের (Birbhum) কৃষক স্বপন হাজরা (Swapan Hazra) জানান, “আমরা তো আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু এ যে গঙ্গার ঢেউ এসে মাঠ ভাসিয়ে দেবে, সেটা ভাবিনি! ধানের বীজতলা তো জলে ডুবে গেল। এখন যদি তিন-চার দিন এরকম চলে, বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।” আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ সৌরভ চক্রবর্তী (Sourav Chakraborty) জানিয়েছেন, “নিম্নচাপটি আসলে মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছে। দুই শক্তি মিলে এই সময় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে শুক্রবার থেকে রবিবার পরিস্থিতি খানিকটা উন্নত হতে পারে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির ঘনত্ব কমবে। কিন্তু সোমবার ও মঙ্গলবার ফের দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নদীয়া (Nadia), উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (North & South 24 Parganas), পূর্ব মেদিনীপুর (East Midnapore)-র পাশাপাশি দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) ও কোচবিহার (Cooch Behar)-এও একই ধরনের পূর্বাভাস রয়েছে।”
উল্লেখ্য যে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর যে সাত দিনের বুলেটিন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বুধবার ও বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের (North Bengal) বেশ কিছু জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে দক্ষিণের তুলনায় তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বে। পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) মেদিনীপুর শহরের এক দোকানদার মনোরঞ্জন জানা (Manoranjan Jana) জানান, “প্রায় এক বছর বাদে এমন বৃষ্টি দেখছি। দোকানের সামনে জল জমে গিয়েছে। কিন্তু কী করব, আবহাওয়া তো আমাদের হাতে নেই!” এদিকে হাওড়া কর্পোরেশন, কলকাতা পুরসভা সহ বিভিন্ন পৌরসভাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে অতিবৃষ্টির কারণে নাগরিক দুর্ভোগ এড়ানো যায়। কলকাতা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বলেন, “আমরা আগেভাগেই ড্রেন পরিষ্কার করেছি। তবে অতিবৃষ্টি হলে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
সবমিলিয়ে জুনের বর্ষা রাজ্যে যেমন স্বস্তি এনেছে চাষবাসে, তেমনই উদ্বেগও বাড়িয়েছে শহর ও গ্রামাঞ্চলে। সামনের ক’য়েক দিন পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে নিম্নচাপের অগ্রগতির উপর। আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী আপডেটের দিকে তাই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
আরও পড়ুন : West Bengal Monsoon update | বর্ষার ঢেউয়ের দোরগোড়ায় দক্ষিণবঙ্গ
ছবি : সংগৃহীত




