মোফাক হোসেন ★ জঙ্গিপুর: মানসিক চাপ ও শাসক দলের চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করে জাতীয় কংগ্রেসে ঐতিহাসিক যোগদান। জঙ্গিপুরে
যে সময়ে এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই শাসক দলের চোখরাঙানি ও চাপকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে জঙ্গিপুরে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা ঘটল। চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা খুবই কঠিন।

মানুষ যে এতটা সাহসিকতার সঙ্গে কংগ্রেসের যোগদান সভায় অংশ নেবেন, তা অনেকের কল্পনারও বাইরেই ছিল। যা কেউ ভাবতে পারেনি, সেটাই করে দেখালেন জঙ্গিপুরের তরুণ তুর্কি তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী ইমরান আলি। তাঁর একক ডাকে সাড়া দিয়ে জঙ্গিপুর বিধানসভা এলাকার পৌরসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা এই যোগদান সভায় উপস্থিত হন। বিষয়টি যে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত, তা স্বীকার করেছেন একাধিক বুদ্ধিজীবী মহলও।
ইমরান আলি-এর নেতৃত্বে আনুমানিক প্রায় ৫ হাজার সমর্থক একযোগে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন। জাতীয় কংগ্রেসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন ইমরান আলি ও তাঁর অনুগামীরা বলে জানা গেছে। এই বিশাল যোগদান সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ওমরপুর গরুর হাট সংলগ্ন মাঠে। আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে। এই জনসমাগম ও রাজনৈতিক বার্তা কার্যত সাক্ষী হয়ে রইল গোটা জঙ্গিপুর শহর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই যোগদান সভা শুধু একটি দলবদলের ঘটনা নয়, শাসক দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির খোঁজেরই প্রতিফলন। জঙ্গিপুরের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই ঘটনা যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
ছবি : সংগৃহীত




