West Bengal weather update, Kolkata heat alert | বৃষ্টি শেষে তাপপ্রবাহ! কলকাতা-সহ ৮ জেলায় গরমের সতর্কতা, পারদ বাড়বে ৬ ডিগ্রি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় (Weather) বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের পর অবশেষে বিদায় নিচ্ছে বর্ষণপর্ব, আর তার জায়গা নিতে চলেছে গরম ও আর্দ্রতার দাপট। আবহবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা এক লাফে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে কলকাতা (Kolkata) সহ একাধিক জেলায় তৈরি হবে ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে আপাতত শুষ্ক পশ্চিমি ও উত্তর-পশ্চিমি বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। এই বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে গিয়ে দ্রুত বাড়বে তাপমাত্রা। ২ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে বলে জানানো হয়েছে। এই সময় দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ‘উষ্ণ ও আর্দ্র’ আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ‘আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে।’ এর সঙ্গে যুক্ত হবে উচ্চ আর্দ্রতা, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অস্বস্তি বাড়াবে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আর্দ্রতার পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, অন্য জেলাগুলিতে তা থাকবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas), হাওড়া (Howrah), পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur), বাঁকুড়া (Bankura), পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) এবং পুরুলিয়া (Purulia)-য় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরপর ৩ ও ৪ এপ্রিল এই তালিকায় যুক্ত হবে কলকাতা (Kolkata) এবং বীরভূম (Birbhum)। অর্থাৎ, প্রায় গোটা দক্ষিণবঙ্গই এই গরম ও আর্দ্রতার চাপে পড়তে চলেছে।

আবহবিদেরা জানিয়েছেন, ‘সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভাল।’ কারণ এই সময় সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে এবং তার সঙ্গে আর্দ্রতা মিলিয়ে শরীরের উপর চাপ বাড়বে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়াও, শরীরকে জলশূন্যতা থেকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তেষ্টা না পেলেও বারবার জল খাওয়া প্রয়োজন।’ কারণ গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর থেকে দ্রুত জল বেরিয়ে যেতে পারে, যা অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিনে ঝড়বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা অনেকটাই নামিয়ে দিয়েছিল। মঙ্গলবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬ ডিগ্রি কম। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৬ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। এই পরিবর্তনের পেছনে ছিল টানা ঝড়বৃষ্টি। বুধবার মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম (Nabagram) -এর কাছেও ঝড়বৃষ্টি দেখা যায়। সেই সময় খারাপ আবহাওয়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর হেলিকপ্টার অবতরণে সমস্যার মুখে পড়ে। পরে তাঁকে সড়কপথে সভাস্থলে পৌঁছতে হয়। এই ঘটনাও প্রমাণ করে যে গত কয়েক দিনে আবহাওয়া কতটা অস্থির ছিল।

কিন্তু, এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে দ্রুত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত বড় কোনও ঝড়বৃষ্টি বা দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েক দিনে ক্রমশ বাড়বে গরমের তীব্রতা। ফলে শহর ও গ্রাম, দুই জায়গাতেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়তে পারে। কলকাতা (Kolkata) সহ দক্ষিণবঙ্গের শহরাঞ্চলে গরমের সঙ্গে আর্দ্রতা যুক্ত হওয়ায় ‘হিট ইনডেক্স’ আরও বেশি অনুভূত হবে। অর্থাৎ, প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম লাগবে। এতে কাজের গতি কমে যাওয়া, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক মহলও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। হালকা পোশাক পরা, রোদ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে দুপুরের সময়টা এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার এই হঠাৎ পরিবর্তন আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, ঋতুর বদলের সময় প্রকৃতি কত দ্রুত রূপ বদলাতে পারে। কয়েক দিন আগেও যেখানে বৃষ্টির কারণে স্বস্তি মিলছিল, সেখানে এখনই শুরু হতে চলেছে গরমের কষ্টকর অধ্যায়।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন