সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত দর্শনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজ্যের এক বিশেষ রূপবদলের সময় আগামী ‘২৬ যা এক নতুন যুগের সূচনা ঘটতে চলেছে। কে হবে এই রাজ্যের মুখ্য মুখ। জনগণ কি চাইছে সমস্ত কিছু নিয়ে রাজনৈতিক কলমে কলম ধরলেন–
দেবব্রত সরকার
(আজ আষ্টম কিস্তি)

তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক মানসিকতা ও আগামী নেতৃত্বের রূপরেখা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পরিবর্তনের আলোচনায় এবার আমরা পৌঁছে গিয়েছি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে “তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক মানসিকতা ও আগামী নেতৃত্বের রূপরেখা”। কারণ ভবিষ্যতের রাজনীতি কেবল আজকের নেতাদের হাতে নয়, বরং আগামী দিনের তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, চেতনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর নির্ভর করছে। আজকের যুব সমাজ আর রাজনীতিকে দূর থেকে দেখা কোনো “দলীয় খেলা” হিসেবে দেখে না। তারা রাজনীতিকে দেখছে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে আদর্শ, নীতি, এবং নাগরিক দায়িত্ব মিলেমিশে ভবিষ্যতের নকশা তৈরি করছে। এক তরুণ সমাজকর্মী (Social Activist) বলেন, “রাজনীতি মানে এখন আমাদের জীবনের বাস্তবতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নারীর নিরাপত্তা, এই সব কিছুতেই রাজনীতির ভূমিকা আছে। তাই আমরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নয়, বরং তাতে অংশ নিতে চাই।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে, তরুণ সমাজ এখন আর নিছক দর্শক নয়, তারা অংশগ্রহণকারী। তাদের চোখে রাজনীতি হচ্ছে এমন এক বাস্তবতা, যা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা মানেই নিজের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত অন্যের হাতে তুলে দেওয়া।
বাংলার তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনা বৈচিত্র্যময়। কেউ রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দিচ্ছে, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করছে, কেউ নাগরিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন আনছে। এই বহুমুখী অংশগ্রহণই পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল চালিকা শক্তি। রাজনীতির প্রতি এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে অন্যতম কারণ হল, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম তরুণদের সামনে এক নতুন পৃথিবী খুলে দিয়েছে। তারা এখন স্থানীয় সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী পর্যন্ত সবকিছু জানতে পারছে মুহূর্তেই। এই তথ্যপ্রবাহ তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াচ্ছে। একজন তরুণ ছাত্রনেতা (Student Leader) মন্তব্য করেন, “আমরা চাই এমন রাজনীতি যা শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের প্রজন্ম স্বচ্ছতা, কর্মদক্ষতা এবং বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়। রাজনীতি আমাদের কাছে এক ধরণের সামাজিক স্টার্টআপ, যেখানে চিন্তা, উদ্ভাবন এবং নৈতিকতা সবকিছু মিলিয়ে এক নতুন দিগন্ত তৈরি করা যায়।” এই “সামাজিক স্টার্টআপ” শব্দবন্ধটি আজকের প্রজন্মের ভাবনার প্রতীক। তারা রাজনীতিকে শুধুমাত্র নীতি নির্ধারণ নয়, বরং সমস্যা সমাধানের বাস্তব ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু এখানেই চ্যালেঞ্জ রাজনীতির পুরনো সংস্কৃতি, যেখানে দলীয় আনুগত্যই ছিল একমাত্র পরিচয়, সেখানে নতুন প্রজন্ম আনছে যুক্তি, বিশ্লেষণ ও প্রশ্ন করার মানসিকতা। এই পরিবর্তন পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য এক কঠিন পরীক্ষা।
রাজনীতির এই নতুন যুগে নেতৃত্বের ধরনও বদলাতে বাধ্য। এখন নেতৃত্ব মানে কেবল বক্তৃতা নয়, নেতৃত্ব মানে দক্ষ প্রশাসন, তথ্যভিত্তিক নীতি এবং নৈতিক স্বচ্ছতা। এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক (Political Analyst) বলেন, “আগামী দিনের সফল নেতা সেই, যিনি মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন ডিজিটাল মাধ্যমে যেমন, বাস্তব জীবনে তেমনি।” এই কথার গভীর তাৎপর্য আছে। কারণ, এখন মানুষ নেতাকে চেনে শুধু পোস্টার বা প্রচার থেকে নয়, বরং তাঁর আচরণ, বক্তব্য এবং অনলাইন উপস্থিতি থেকেও। এই নতুন দায়িত্ববোধই ভবিষ্যতের রাজনীতিকে নতুন পথে চালিত করবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক সময় যে প্রজন্মবাদী ফাঁক (Generational Gap) ছিল, তা এখন ধীরে ধীরে কমছে। রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের জন্য বিশেষ ফোরাম তৈরি করছে, তরুণ প্রার্থীদের সুযোগ দিচ্ছে, এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া রাজনীতিকে আরও গণমুখী করছে। তবে, এই পরিবর্তনের সাফল্য নির্ভর করবে তরুণদের রাজনৈতিক নৈতিকতার উপর। তারা যদি একই পুরনো ছাঁচে ঢুকে পড়ে, তবে পরিবর্তনের এই সম্ভাবনা হারিয়ে যাবে। কিন্তু যদি তারা সততা, স্বচ্ছতা ও সমাজসেবার পথে অটল থাকে, তবে আগামী দশকে রাজনীতি সম্পূর্ণ নতুন রূপ নেবে। রাজনীতি আর শুধু ভোটবাক্সের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি হবে এক মানবিক প্রকল্প, যেখানে মানুষের জীবনের মানোন্নয়নই হবে লক্ষ্য। একজন প্রবীণ শিক্ষাবিদ (Educationist) বলেন, “তরুণ প্রজন্ম যদি নিজেদের মধ্যে মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখে, তাহলে রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে আলোকিত হবে। কারণ ভবিষ্যতের নেতা কেবল জনপ্রিয় মুখ নয়, তিনি হবেন সমাজের নৈতিক দিশারি।” এই কথাই এই অধ্যায়ের সারকথা ভবিষ্যতের রাজনীতি গড়বে সেই তরুণরাই, যারা ভাবতে জানে, প্রশ্ন করতে জানে এবং কাজ করতে চায়।
ভোটের মুখে সক্রিয়, নির্বাচনের পর নীরব কেন কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তি পশ্চিমবঙ্গে ধস পড়ছে
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় প্রতিনিয়ত উন্মোচিত হচ্ছে। ভোটের সময় ইডি (Enforcement Directorate), সিবিআই (Central Bureau of Investigation) রেডার সক্রিয় হয়ে ওঠে, নির্বাচন শেষে অনেকগুলি মামলা আদালতে “ঝুলে” পড়ে যায় এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছে: “মোটেই কি নৈতিক ও কার্যকর বিরোধিতা নেই?” এই প্রশ্ন এখন শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নয় এটি জনমত ও সামাজিক আলোচনার মধ্যেই ঘুরছে।

এই প্রতিবেদনটি পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতা, আদালতের নির্দেশ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংবাদমাধ্যম বিশ্লেষণ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে, যাতে এক নতুন দৃষ্টিকোণ পাওয়া যায় কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতা ও তার রাজনৈতিক পরিণতির দিকে।
৭০ ঘর থেকে সামসেরগঞ্জে ‘অত্যাচার’ কেউ বলছে ‘রূপক’, কেউ বলছে ‘ধাঁধা’

মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ (Samserganj) এলাকা কতটা ঝড়ের মুখে তা রাজনীতির অঙ্গনে আলোচ্য বিষয়। বলা হয়, ওই এলাকায় ৭০ ঘর মানুষের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, কিছু টাকা-সম্পত্তি ধ্বংস বা খারাপ অবস্থায় ফেলা হয়েছে। অনেকে মালদায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় কোনও সংস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কেন্দ্রের তদারকি সংস্থা এই ঘটনার বাস্তব বিবরণ বা তদন্ত ফলপ্রসূভাবে সামনে আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে: “রাজ্য সরকারের দোষ আছে কি-না, নেই; কিন্তু কেন্দ্র কেন নির্বিকার?”
কেসগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা, আদালতের স্থগিতাদেশ ও ন্যায্য বিচারহীনতা
কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি-ইডি ও সিবিআই-যে মামলাগুলি হাতে নিয়েছে, অনেকটাই আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে “ঝুলে” রয়েছে। মামলাগুলিতে চার্জশিট দাখিল না হওয়া, সাক্ষী-প্রশ্নবিচার স্থগিত হওয়া বা নির্দেশের অভাবে বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়া এসব প্রবণতা পুরাতন হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
এখানে কয়েকটি উদাহরণ:
- সুপ্রীম কোর্ট সিবিআইকে হুঁশিয়ারি: ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, সিবিআইয়ের একটি দাবি “পশ্চিমবঙ্গের সব জেলার আদালতে একটি ‘শত্রুভাব’ (hostile environment)” বিরাজ করছে এ বিষয়ে সুপ্রীম কোর্ট সিবিআইকে কড়া সমালোচনা করে। আদালত বলেছিল, “আপনি সব আদালতকে ‘শত্রুভবাপন্ন’ বলছেন এটি একটি অপমানজনক দাবি।”
- পশ্চিমবঙ্গ বনাম সেন্টার: রাজ্য সরকারের চ্যালেঞ্জ: রাজ্য সরকার ২০২১ -তেই সাধারণ সম্মতি (General Consent) প্রত্যাহার করেছিল যাতে সিবিআই রাজ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (without state’s consent) তদন্ত করতে না পারে। তবুও সিবিআই ১২টি মামলা শুরু করে দিয়েছিল যার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। বিচারিক শুনানিতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের দাবি গ্রহণ করে, কেন্দ্রের আপত্তিগুলো খারিজ করে মামলাটি “triable” (বিচারযোগ্য) ঘোষণা করে।
- প্রজেকশন: conviction rate ও ফলাফল: পশ্চিমবঙ্গ সরকার উচ্চ আদালতে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় বিভাগের মামলা গুলোর দোষসিদ্ধি (conviction) হার (rate) অত্যন্ত কম, অর্থাৎ তদন্ত হয়, মামলা হয়, কিন্তু দোষী পক্ষে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।
- RG Kar হত্যা-ধর্ষণ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তের বিতর্ক: কলকাতার আর জি কার (RG Kar) হাসপাতালের বিখ্যাত কেসে, তৃণমূল সরকার সিবিআইকে ‘নীরবতা’ ও ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে। রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রত্য বসু ও শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা এক প্রেস কনফারেন্সে অভিযোগ করেন যে, “সিবিআই ২৩ দিনেও একটি কাউকে গ্রেপ্তার করল না, কারণ তদন্ত প্রক্রিয়া নীরব”।
- সিবিআইর ‘অমীমাংসিত’ কেসসমূহ: তৃণমূলনেতা যারা সিবিআই তদন্তের শিকার হয়েছে শীর্ষ রাজনীতিক থেকে ছোট নেতা অনেকেরই মামলা দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারবিচ্ছিন্নভাবে “ঝুলে” রয়েছে। বিশেষ করে RG Kar মামলায়, সিবিআই প্রমাণ দিতে ব্যর্থ বলে আদালত নির্দেশ দেয় যে চার্জশিট দাখিল করা হোক।
এসব উদাহরণ সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মানচিত্রে একটি ধানের শীষের মতো ছাপ ফেলেছে “বিচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দ্রুত ও ন্যায্য বিচার নেই” এবং এরাই অনেকেই বলেন, “মামলা দায়ের করা হয়, না হয় দোষসিদ্ধি হয়নি কিন্তু মঞ্চে নাটক হয়, ভোটে প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।”
সেবা-অবহেলা ও রাজনৈতিক সংকেত: কাজ কি শুধু দোষারোপ?
নির্বাচন-সম্ভাব্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে ‘সক্রিয়’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু প্রায় সব দৃষ্টিতে, এটি একধরনের সঙ্কেত রাজনৈতিক চাপ যা ভোটে ‘প্রত্যাহারযোগ্য’ প্রতিশ্রুতির মতো কাজ করে। এই চিত্রকে আরও জটিল করে তোলে যে রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ নেতা-মন্ত্রী থেকে কর্মচারী-নেতা- নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রমাণ অনেকেই হাতে রয়েছে, তবে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের চিহ্ন তেমন স্পষ্ট নয়।
প্রদত্ত অভিযোগগুলো সাধারণভাবে এমন:
- বালি চুরি ও অবৈধ খনন
- কয়লা পাচার
- গরুপাচার
- সরকারি তহবিল টাকায় অনিয়ম
- চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি
- চাকরি চুরি (যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়োগ)
মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া যায় “যেমনই ভোট নিকটে আসে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নজর দেয়, তারপর শিথিল হয়ে যায়”, এই বিশ্বাস অনেক কণ্ঠে উচ্চারিত। প্রতিবাদ বা চাপে কেন্দ্র নীরব থাকতে পারে নানা কারণে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বায়ত্তশাসন রক্ষা, বিচারিক বাধ্যবাধকতা, রাজ্য-সংঘাত হ্রাসের মনোভাব, বা রাজনৈতিক সমঝোতা। কিন্তু এসব নীরবতা সাধারণ মানুষের মানসপটে আস্থা শূন্যতার হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক ভাষা ও জনমত: ‘একই জাতি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে’

শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও বিজেপি নেতারা প্রায়শ হিন্দু-অহিন্দু ইস্যুতে সক্রিয় থাকেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের জনবহুল, বহুসামাজিক সমাজে শুধু ধর্মীয় সুরে রাজনীতি যথেষ্ট নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুযোগ-সম্ভাবনা, সামাজিক সুরক্ষা এমন কোনও ইস্যু নয় যা অনুকূলভাবে না তুলে ধরা।মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), তৃণমূল যুব সভাপতি সবাই মাঝে মাঝে কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় কথা বলেন। তারা বলছেন, “কেন্দ্র আমাদের বঞ্চনা করছে।” সাধারণ মানুষের ঘরোয়া কথোপকথনে অনেকেই বলছেন “কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে আছে; সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে।” এই ধরণের রাজনৈতিক ‘রহস্যবাদ’ জনমতকে উদ্বিগ্ন করে তোলে “তারা (কেন্দ্র ও রাজ্য) এক মঞ্চে সমন্বয় করে চলেছে?”
রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া, এখনই সুযোগ
যদিও রাজনৈতিক উত্তেজনা অনেক, কিন্তু মানুষের উত্তেজনাও বাড়ছে। রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে-নতুন প্রার্থী, নতুন দল, নতুন ভাবনা নিয়েই। কেন্দ্র যদি সত্যিই নামমাত্রই নয়, কার্যকরীভাবে ইচ্ছা দেখায়, শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা, তবে মানুষের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি হতে পারে। রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান, গ্রাম্য মঞ্চ, সামাজিক যোগাযোগ, প্রতি স্তরে “মুখ খুলে” কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে, “বদলানোর সময় এসেছে।” রূপান্তর সেই সময়েই শুরু হবে যখন কেন্দ্র শুধু বিষয়টি না দেখিয়ে, কর্মপ্রমাণ দেয়; এবং নেতা নির্বাচন হবে জনমতের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক শক্তি নয় বরং দক্ষতার আলোকে। এখানে আর দেরি করা যায় না, বাস্তব দিনগুলিতে ঘুরপাক খাওয়া রাজনীতিতে জনমত হারিয়ে যাবে, ও কেন্দ্রের ভাবমূর্তি জায়গা দেবে কার্যকারিত্ব ও বিশ্বাসের অভাবকে।
(চলবে)
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত




